আপডেট : ৯ মে, ২০২০ ১৮:১৯

পাশের বাড়িতে করোনা রোগী, বাঁচতে হলে যা করবেন

অনলাইন ডেস্ক
পাশের বাড়িতে করোনা রোগী, বাঁচতে হলে যা করবেন

যদি ঘুম থেকে উঠেই শোনেন আপনার পাশের ফ্ল্যাটে একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। খবরটা শুনে অনেকের চোখ কপালে উঠবে, অনেকে অনেক বড় দীর্ঘশ্বাস ফেলবে। এটাই স্বাভাবিক।

তবে কার্যত যা করতে হবে আপনাকে। এ নিয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন সিটি হাসপাতাল লিমিটেডের ডায়াবেটিস কেয়ারের প্রধান ডা. এজাজ বারী চৌধুরী।

* পাশের ফ্ল্যাটে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে শুনে অন্য কোথাও যাওয়ার চিন্তা করবেন না। কারণ, যিনি আক্রান্ত হয়েছেন, তার শরীরে জীবাণু ঢুকেছে ৫-৭ দিন আগে। তখন থেকেই তার মাধ্যমে অন্যদের শরীরেও জীবাণু ঢুকতে পারে। সুতরাং, যার শরীরে ইতোমধ্যে জীবাণু ঢুকে গেছে তিনি অন্য কোথাও যাওয়া মানে, সেই জীবাণু অন্যখানে বহন করে নিয়ে যাওয়া।

* আপনি যদি গত ৫-৭ দিনের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে থাকেন, যেমন: একসঙ্গে লিফটে ওঠা-নামা, দোকানে যাওয়া, নিজেদের মধ্যে টাকা লেনদেন করা, একসঙ্গে সিঁড়ির কোণায় বা বেজমেন্টে দাঁড়িয়ে আড্ডা দেওয়া, ধূমপান করা, ইফতার বা অন্য খাবার আদান-প্রদান করা ইত্যাদি, তাহলে আপনাকেও পরিবারসহ ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। সুতরাং শুনেই পালানোর চেষ্টা করবেন না। তাহলে অবশ্যই এটি হিতে বিপরীত হবে। বিষয়টি বিল্ডিংয়ের অন্যদের সুস্থতা এবং রোগ না ছড়ানোর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

* আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি সবাই সাহায্য, সহযোগিতা এবং সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। আপনার সুস্থতার জন্যই এটি জরুরি। লক্ষ্য রাখতে হবে, যেন ওই পরিবার সঠিকভাবে আইসোলেশনে থাকতে পারে এবং শক্ত মনোবল নিয়ে করোনা মোকাবিলা করতে পারে।

* আক্রান্ত পরিবারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস, খাবার এবং ওষুধ তাদের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে। তবে হাতে হাতে নয়। এসব কেনাকাটার বিল যা হবে, সেই টাকা আপাতত বিল্ডিংয়ের অন্যরা পরিশোধ করবেন। অথবা বিকাশে লেনদেন করবেন। কেননা, আক্রান্ত পরিবারের হাতের সংস্পর্শে থাকা টাকার মাধ্যমে ভাইরাস অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

* আক্রান্ত পরিবার ময়লা বড় পলিথিনে মুখ ভালোভাবে বন্ধ করে দরজার বাইরে রাখবেন। যিনি ময়লা ফেলার দায়িত্বে আছেন, তিনি প্রথমে সেই ময়লার ব্যাগে জীবাণুনাশক স্প্রে করবেন। তারপর আরেকটি বড় পলিথিনে ওই ব্যাগটি ঢুকিয়ে, মুখ আটকে নিয়ে যাবেন।

* আক্রান্ত পরিবারের ফ্ল্যাটের মেইন দরজার নব, কলিংবেল সুইচ, দুই ফ্ল্যাটের মধ্যকার লবি এবং কমন স্পেস প্রতিদিন কয়েকবার জীবাণুনাশক দিয়ে মুছতে হবে। এটা বাধ্যতামূলক।

* বিড়ালের করোনাভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থাৎ শুধু মানুষ না, আক্রান্ত বিড়ালের মাধ্যমেও করোনা ছড়ায়। সুতরাং বিল্ডিংয়ে বিড়াল থাকলে সেগুলোর অবাধ বিচরণ বন্ধ করতে হবে।

* একইরকম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং সহযোগিতা কোয়ারেন্টাইনে থাকা পরিবারগুলোর জন্যও নিশ্চিত করতে হবে। যারা গত এক সপ্তাহের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছেন তাদের অবশ্যই কোয়ারেন্টাইনে থাকা নৈতিক দায়িত্ব।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে