আপডেট : ৪ আগস্ট, ২০২০ ২০:৫১

ময়মনসিংহে অরক্ষিত বিআরটিসির প্রায় অর্ধশত বাস, চুরি হচ্ছে যন্ত্রাংশ

অনলাইন ডেস্ক
ময়মনসিংহে অরক্ষিত বিআরটিসির প্রায় অর্ধশত বাস, চুরি হচ্ছে যন্ত্রাংশ

ময়মনসিংহে মহাসড়কের পাশে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে বিআরটিসির প্রায় অর্ধশত বাস।  বিভিন্ন ক্ষতির পাশাপাশি চুরি হয়ে যাচ্ছে এসব বাসের যন্ত্রাংশ।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গণ পরিবহন বন্ধ ঘোষণার পর থেকেই অযত্ন অবহেলায় মহাসড়কের পাশে বিআরটিসির যাত্রীবাহী বাসগুলোকে পরে থাকতে দেখা যাচ্ছে।

বিআরটিসির বাস রাখার কোন ডিপো না থাকায় মহাসড়কের পাশে রাখতে হয়েছে বলে জানালেন বিআরটিসির ময়মনসিংহের ম্যানেজার (অপারেশন) মো.কামরুজ্জামান।  যন্ত্রাংশ চুরিসহ রোদে বৃষ্টিতে বাসগুলোর ক্ষতির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাসকান্দায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দু'পাশে রাখা হয়েছে বিআরটিসির বাসগুলো।  সেখান থেকে কিছু যন্ত্রাংশও চুরি হয়েছে।  চাকা চুরির সময় তারা দুই চোরকে ধরে পুলিশে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

২০১৯ সালের ২৫ মার্চ যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি করতে ময়মনসিংহ থেকে মুক্তাগাছা রুটে  ১৬টি বাস চালুর মধ্য দিয়ে এ জেলায় বিআরটিসি বাস সেবা চালু হয়।  পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রুটে চালু করা হয় বিআরটিসির মোট ৪৭টি বাস।  অন্যান্য সময় বাসগুলো জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চলাচল করলেও করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে যাত্রী সেবা।

স্থানীয় মশিউর রহমান ও হযরত আলী জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ এই বাসগুলো রাস্তার পাশে পড়ে আছে।  এগুলোর কেউ খোঁজ রাখে বলে মনে হয়না।  বাসের অনেক যন্ত্রাংশ চুরি হচ্ছে।  তারা অনুরোধ জানান সরকারের এই সম্পত্তিগুলো যেন এভাবে নষ্ট না হয়।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাহিত্য পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ সুমি সরকার বলেন, করোনার কারণে মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় শহরে চুরি ছিনতাই বেড়েছে।  তাই এসব বাস রক্ষায় কর্তৃপক্ষের নজরদারির পাশাপাশি চুরি ছিনতাই রোধে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোর দাবি করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিসি বাসের দুইজন চালক জানালেন, কয়েকদিন আগে চাকা চুরি করার সময় দুই চোরকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের কাছে সোর্পদ করা হয়েছে।  গত কয়েক মাসে ১৪টি বাস থেকে ২৬টি চাকা ও ২৪টি ব্যাটারি ছাড়াও চুরি হয়েছে অনেক মূল্যবান যন্ত্রাংশ।

বিআরটিসি বাসের ইঞ্জিনিয়ার শরিফুল ইসলাম দাবি করেন, বাসগুলো সচল রাখতে ২-৩ দিন পরপর কিছুক্ষণের জন্য ইঞ্জিন চালু রাখা হয়।  যাতে ব্যাটারির কোন ক্ষতি না হয়।  নগরীর শম্ভুগঞ্জে ডিপো তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথ কার্যালয়ের তথ্য মতে, বিআরটিসির ৪৭টি বাস রক্ষণাবেক্ষনের জন্য স্টাফ রয়েছে শতাধিক।  তাদের পেছনে সরকারের মাসিক ব্যয় ১৩ লাখ টাকা। সূত্র : রাইজিংবিডি

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে