আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০৬:৩৫

নামাজ না পড়লে বেতন কাটার সেই নোটিশ আর নেই

অনলাইন ডেস্ক
নামাজ না পড়লে বেতন কাটার সেই নোটিশ আর নেই

কাজ করার ফাঁকে তিন ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে। জোহর, আসর ও মাগরিব এই তিন ওয়াক্ত নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় পাঞ্চ মেশিনে ফিঙ্গার পাঞ্চ করতে হবে। যদি কোনও স্টাফ মাসে সাত ওয়াক্ত পাঞ্চ করেননি বলে ধরা পড়ে, তাহলে তার একদিনের বেতন কাটা হবে। এই নোটিশ জারির পর সমালোচনার শিকার হয় গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর (কোনাবাড়ি) এলাকায় অবস্থিত মাল্টিফ্যাবস কারখানা। অবশেষে নোটিশ জারির আট দিন পর আজ সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ওই নির্দেশ সংশোধন করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি জারি করা নোটিশে কারখানার ব্যবস্থাপকীয় (ম্যানেজমেন্ট) কর্মকর্তাদের জন্য মসজিদে গিয়ে তিন ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের প্রতি বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়। নিজেদের ডেস্কে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজের অভ্যাস পরিবর্তনের কথা বলা হয় ওই নোটিশে। মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) অ্যাডভোকেট আবু শিহাব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অফিস নির্দেশনাটি জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, জোহর, আসর ও মাগরিবের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় পাঞ্চ মেশিনে ফিঙ্গার পাঞ্চ করতে হবে। যদি কোনও স্টাফ মাসে সাত ওয়াক্ত পাঞ্চ করে নামাজ না পড়েন তবে সেক্ষেত্রে তার বেতন থেকে একদিনের সমপরিমাণ হাজিরা কাটা হবে।

তবে ১৭ ফেব্রুয়ারি সংশোধিত নোটিশে বলা হয়, ‘নামাজের জন্য মুসলমান কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য যে নোটিশটি দেওয়া হয়েছিল তা শুধু উৎসাহ দেওয়ার জন্য। প্রকৃতপক্ষে বেতন কাটার কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। ভুল করে বেতন কাটার বিষয়টি উল্লেখ করায় আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’

এ বিষয়ে কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক এনামুল করিম বলেন, ‘গত ৯ তারিখের নোটিশে নামাজ পড়ার বিষয়ে বেতন কাটার যে সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল, এটা ভুল করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা আসলে এটা না বুঝে করেছি, এটার জন্য দুঃখিত। নামাজের যে নোটিশটা দেওয়া হয়েছে, এটা মূলত শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধ তৈরির জন্য দেওয়া হয়। তবে যে কেউ নির্দিষ্ট সময়ের পড়ে নামাজ পড়তে পারবেন।’

কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজার) ফারিন বলেন, ‘এ কারখানার রফতানি পণ্যের পরিমাণ প্রতি মাসে ১৮ লাখ পিস। এখানে সাম্প্রদায়িক কোনও ভেদাভেদ নেই। যে যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করেন। বিচ্ছিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করে যেন কেউ কাজে ফাঁকি দিতে না পারে সেজন্য নামাজের বিষয়টিকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য ওই নির্দেশনাটি দেওয়া হয়।’

নোটিশটি শুধু ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের জন্য প্রযোজ্য ছিল বলে জানান কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক (এসিস্ট্যান্স ম্যানেজার) এনামুল করিম। তিনি বলেন, ‘কারখানায় বেশ কয়েকজন হাজি রয়েছেন। তারা ছাড়াও অন্যান্য কর্মকর্তা নামাজের সময় ডেস্কে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়েন। অথচ অফিসের চারতলায় নামাজের ঘর রয়েছে। যথাস্থানে নামাজ আদায়ের চর্চার জন্যই মূলত এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে বিষয়টিকে কেউ কেউ সহজে নিতে পারেননি। মূলত দিনে অন্তত তিনবার বিভিন্ন বিভাগের লোকদের মুখোমুখি সাক্ষাতের একটি সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার ইচ্ছা থেকেই নির্দেশনাটি দেওয়া হয়েছিল।’

কারখানার পরিচালক (অপারেশন) মেসবাহ ফারুকী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে কারখানার কোনও কর্মকর্তার বেতন কাটা হয়নি।’ তিনি জানান, জাপান, রাশিয়া ও আমেরিকা অঞ্চলের বেশ কিছু দেশে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। ২০১৬ সালে কারখানার রফতানি আয় ছিল ৯০ মিলিয়ন ডলার। মূলত গেঞ্জি কাপড়ের নানা ডিজাইনের পোশাক তৈরি হয় এ কারখানায়।

কারখানার হিসাব বিভাগের নিরীক্ষক (অডিটর) বিলাস সরকার বলেন, ‘কারখানাটিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের কোনও অভিযোগ কেউ করেননি। অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে সবাই এখানে কাজ করছেন।’

ডাইং ও ফিনিশিং বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার দেবব্রত কুণ্ডু বলেন, ‘আট বছর ধরে এই কারখানায় কাজ করছি। প্রতিবছরই দুর্গাপূজার সময় সাতদিন এবং ঈদের সময় তিনদিনের ছুটি পেয়ে আসছি। অসাম্প্রদায়িক পরিবেশেই কাজ করে আসছি। অনেকেই নামাজ পড়েন। কিন্তু নিজস্ব ডেস্কে নামাজ আদায় করতেন। তাই সবাইকে একত্রে নামাজ আদায়ের জন্য এবং সময়ের প্রতি যত্নশীল হতেই ওই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল বলে আমি জেনেছি।’

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম  

উপরে