আপডেট : ১৫ এপ্রিল, ২০১৭ ২১:১৫

টুপি মাথায় দিয়ে মিথ্যাচার করবেন না: নাছির

অনলাইন ডেস্ক
টুপি মাথায় দিয়ে মিথ্যাচার করবেন না: নাছির

চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী টুপি মাথায় দিয়ে মিথ্যাচার করছেন বলে মন্তব্য করেছেন সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন।

শনিবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড কার্যালয়ে জঙ্গিবাদ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত পৌরকর পরিশোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এ মন্তব্য করেন।

সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ইঙ্গিত করে মেয়র নাছির বলেন, টুপি একটা মাথায় দিলে হবে না। মিথ্যাচার করবেন না। মেয়র আমি নিজের ইচ্ছেতে হইনি। দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। নগরবাসী ভোট দিয়েছেন। আমাকে খাটো করা মানে নগরবাসীকে অপমান করা। শুধু গলাবাজি করলে মানুষের প্রতি দরদ হয় না।

তিনি বলেন, ট্যাক্স নিয়ে যে কথাবার্তা তার সঙ্গে নগরবাসী সম্পৃক্ত নন। ১৯৮৫ সালে চসিকের যে হার ছিল। ১৭ বছর মেয়র ছিলেন তিনিও তা অনুসরণ করেছেন। আল্লাহ রাসুলের নামে শপথ করে বলেন। প্রয়োজনে গোলটেবিল করব। ইতিমধ্যে অনেক দাওয়াত দিয়েছি, আসেননি। মনজুর আলম ভাইয়ের আমলে ১৪ হাজার অ্যাসেসমেন্ট করেছেন। আমি সব নিষ্পত্তি করেছি। আমি সাবেক মেয়র যা ধার্য করেছেন তা থেকে কমিয়ে দিয়েছি।

তিনি বলেন, আ জ ম নাছির চুল পরিমাণ দুর্নীতি করেনি। কেউ প্রমাণ দিতে পারবেন না। চ্যালেঞ্জ করে বলছি।

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২১ বছরে বৃষ্টির পানি নামার জন্য নালা হলো না কেন? ফুটপাত দখল আমি চেয়ারে বসার পর হয়েছে নাকি আগে হয়েছে? বিলবোর্ড কারা বসিয়েছিলেন, অনুমোদন দিয়েছিলেন? আমি তো দিইনি। যাত্রীছাউনি মাদকাসক্তদের অভয়ারণ্য কারা বানিয়েছেন? আমি বিশ্বমানের যাত্রীছাউনি বানাব, আধুনিক পাবলিক টয়লেট বানাব। ১ বছর ৮ মাস ২০ দিন হলো দায়িত্ব নিয়েছি। প্রথম মাসে বেতন দিয়েছি ৯ কোটি টাকা। এখন বেতন দিচ্ছি ২০ কোটি টাকা।

পাঁচ বছর পর পুনর্মূল্যায়ন আইনি বাধ্যবাধকতার কারণেই করা হচ্ছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এটি না করলে আমাকে ব্যর্থ বলা হবে। সেক করা হবে। আদালতের সহানুভূতিও পাব না।

মেয়র বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের ভয়াবহতা এখন সবাই অনুধাবন করতে পারছি। ইসলামের নামে জঙ্গি হামলা হচ্ছে। ইসলামে পেশিশক্তি দিয়ে, জুলুম করে, আত্মঘাতী হয়ে কোনো কিছু অর্জনের সুযোগ নেই। যারা আত্মঘাতী হচ্ছে তারা ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। নিরীহ মানুষকে হত্যা করা ইসলাম অনুমোদন করেনি। জঙ্গি হামলা কোনোভাবেই কল্যাণকর নয়, প্রচণ্ড ক্ষতিকর। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করা নৈতিক দায়িত্ব। জঙ্গিরা আশ্রয়-প্রশ্রয় না পেলে নগরবাসী নিরাপদ বোধ করবে।

মাদক প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, মাদক ইসলামে হারাম। যারা মাদক সেবন ও বিক্রি করছে তারা কবিরা গুনাহ করছেন। মাদকের টাকা জোগাতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, নৈরাজ্য করবে। মাদকমুক্ত শহর করতে পারলে শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে মাদক নির্মূল কমিটি করার নির্দেশ দিয়েছি। যারা মাদক বিক্রি করছে তাদের সমাজ থেকে নির্মূল করতে হবে। তারা নতুন প্রজন্মকে অকর্মণ্য করছে, ধ্বংস করছে। যারা ইতিমধ্যে মাদকাসক্ত হয়েছে তাদের পুনর্বাসনের জন্য চসিক নিরাময়কেন্দ্র খুলবে।

স্থানীয় কাউন্সিলর মো. জহুরুল আলম জসিমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম আলমগীর। উপস্থিত ছিলেন পাহাড়তলী থানার ওসি আলমগীর হোসেন।

কাউন্সিলর আবিদা আজাদ বলেন, নারী-পুরুষ কাউন্সিলরদের সমান চোখে দেখে সমান দায়িত্ব দিচ্ছেন মেয়র নাছির। আমরা বিশ্বাস করি মেয়রের নেতৃত্বে উন্নয়নের পাশাপাশি চট্টগ্রাম সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিমুক্ত হবে।

কাউন্সিলর মো. জহুরুল আলম বলেন, ওয়ার্ড ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। এখন সাধারণ সম্পাদক। গত দেড় বছরে ২৭ কোটি ৪১ লাখ টাকার কাজ হয়েছে এ ওয়ার্ডে। এত উন্নয়ন আগে দেখেননি এলাকাবাসী। আগামী পাঁচ বছরে এ ওয়ার্ডে ১১০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাবে। এভাবে ৪১ ওয়ার্ডে উন্নয়ন হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে উন্নয়নে পিছিয়ে দিতে ট্যাক্স বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। মেয়র তো ট্যাক্স বাড়াননি। সাবেক মেয়র মনজুর আলমের আমলে এ রাস্তায় মার্কেট ছিল। মেয়র নাছির দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই মার্কেট ভেঙে রাস্তা করা হয়েছে। আমরা ঘরে ঘরে বিন পৌঁছে দিয়েছি। ডোর টু ডোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শুরু করেছি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে