আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৪:৩২

৮ বছর ধরে কুকুরের সঙ্গে সখিনার সংসার

অনলাইন ডেস্ক
৮ বছর ধরে কুকুরের সঙ্গে সখিনার সংসার

কুড়িগ্রামের রাজারহাটের রেলওয়ে স্টেশনে থাকেন সখিনা। সংসারে জীবন সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন দুটি কুকুর। নিজের সন্তান হিসেবে আছে দুটি কুকুরছানা। নাম রেখেছেন টমি ও অনি। আরো ৬ টি কুকুর ছিল। ৪টি মারা গেছে। এখন আছে ২টি কুকুর ও ৫টি কুকুরে বাচ্চা আছে। বেশির ভাগ সময় কাটে কুকুরের সঙ্গেই।

রাজারহাট উপজেলার সদর ইউপির ফুলবাড়ির দালালী পাড়া এলাকার কচিম উদ্দিনের মেয়ে সখিনা।

সখিনাকে পাগল হিসেবেই সবাই জানে। ১২ বছর বয়সে মা ফুলবাসী মারা যান। এরপর বাবা ছালেকানামের এক মেয়েকে বিয়ে করেন। নেমে আসে তার জীবনে দু:খ। বাবা তাকে বিয়ে দেন কুড়িগ্রামের নয়েজ উদ্দিনের সঙ্গে। পরে একসময় বাবা মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর নয়েজ উদ্দিন ২ বছর সংসার করে সখিনাকে মাতৃকালীন অবস্থায় রেখে পালিয়ে যায়। সখিনার ঘর আলো করে আসে এক কন্য সন্তান। এ সন্তানের নাম রাখা হয় মাজেদা। কিন্তু সৎ মা ছালেকা মাত্র ৩০০ টাকায় তার সন্তানকে বিক্রি করে দেয়।

সখিনার সৎ মা ছালেকা বলেন, সখিনার স্বামী পালিয়ে যাওয়ার পর সখিনা ১টি কন্যা সন্তান জম্ম দেয়। আমরা গরীব মানুষ তাই আমি তার সন্তানকে একজন লোককে পোষানী দিয়েছি।

সখিনা বলেন- আট বছর ধরে কুকুরের সঙ্গে সংবার আমার। কুকুর তার সঠিক জীবনসঙ্গী। যেকোন পুরুষ থেকে কুকুর ভালো। আমার সন্তান না থাকায় পাগল হয়ে গেছি। সৎ মা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। স্বামী-সন্তান হারার কষ্ট বেদনায় খুব দুঃসময় আসে। এই খারাপ সময় আমি ভিক্ষা করি সেই সময় এই টমি ও অনি আমার অনুগত থেকেছে। তাই আমি কুকুর টমিকে ও কুকুরের বাচ্চাগুলোকে নিজের সন্তান মনে করি।

সখিনা ভিক্ষা করে রেলস্টেশনে ভাত রান্না করে নিজে খায়। আবার ১টি পাউরুটি অর্ধেক খায়,অর্ধেক কুকুরগুলোকে খাইয়ে দেয়। কেউ তার কুকুরকে মারধর করলে সখিনা কেঁদে কেঁদে ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে বিচার দিয়ে বেড়ায়। আবার সখিনাকে কেউ কিছু করলে কুকুরগুলো সখিনার জন্য প্রতিবাদ করে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

উপরে