আপডেট : ৬ এপ্রিল, ২০১৮ ১৬:০৩

খুন হওয়া রথিশের আড়াই লাখ টাকা গেল কোথায়?

অনলাইন ডেস্ক
খুন হওয়া রথিশের আড়াই লাখ টাকা গেল কোথায়?

স্ত্রীর ‘পরকীয়ায়’ খুন হওয়া রংপুরের আইনজীবী রথিশ চন্দ্রের ব্যাংক হিসাব থেকে উঠানো দুই লাখ ৩০ হাজার টাকার কোনো হদিস পাচ্ছে না পুলিশ। ২৯ মার্চ রাতে খুন হওয়ার কয়েকদিন আগেই ওই টাকা তুলেছিলেন রথিশ চন্দ্র বাবু সোনা। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওই টাকার সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, খুন হওয়ার কয়েকদিন আগে নগরীর আশরতপুর এলাকায় রথিশের ফুপু বীনা বানি ভৌমিকের একটি জমি বিক্রির চুক্তিপত্র হয়। আবদুস সালাম নামে রংপুর কারমাইকেল কলেজের এক গাড়িচালক ৪০ লাখ টাকায় জমিটি কেনেন। বায়না হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দেন তিনি। ওই পাঁচ লাখ টাকা ব্যাংকে রাখা হয়। এর মধ্যে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছিলেন রথিশ চন্দ্র। কিন্তু সেই টাকার কোনো হদিস পাচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কোন খাতে সেই টাকা ব্যয় হয়েছে, নাকি স্ত্রী স্নিগ্ধা সেই টাকা তার প্রেমিক কামরুল ইসলামকে দিয়েছে সেই প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত টিমের কাছে।

জানা গেছে, তাজহাট স্কুলে প্রায় ২৫ বছর ধরে চাকরি করছেন স্নিগ্ধা ভৌমিক। এ সময় শিক্ষক কামরুল ইসলামের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। মাঝে মাঝে তারা বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনও করেন। টাকা নিয়ে রথিশের সঙ্গে তার স্ত্রী স্নিগ্ধার মাঝেমধ্যে কথা কাটাকাটিও হতো।

প্রেমের সম্পর্কের কারণে সিগ্ধা ওই টাকা কামরুলকে দিতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। টাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বামীর সঙ্গে স্নিগ্ধার কথা কাটাকাটির জেরে রথিশ খুন হতে পারেন বলেও বিষয়টি আমলে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটি। এজন্য এই বিষয়টিকেও গুরুত্ব সহকারে দেখছে পুলিশ।

জানতে চাইলে রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান সাইফ বলেন, ‘ওই টাকার খোঁজ করছে পুলিশ। আশা করছি এই তথ্যও আমরা পেয়ে যাব।’

উল্লেখ্য, পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে নগরীর তাজহাট মোল্লা পাড়ার একটি বাসা থেকে রথিশ চন্দ্রের গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

জঙ্গি-জামায়াত বা ব্যক্তিগত বিরোধসহ বিভিন্ন কারণে তিনি নিখোঁজ হতে পারেন এমন ধারণা থেকে তাকে উদ্ধারে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে মরদেহ উদ্ধারের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায় স্ত্রীর পরিকল্পনাতেই খুন হন আইনজীবী রথিশ।

পরে খুনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে এমন সন্দেহে রথিশ চন্দ্রের স্ত্রী দীপা ভৌমিক, মেয়ে অদিতি ভৌমিক, দীপা ভৌমিকের পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলাম এবং দুই স্কুলছাত্রকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রথিশ চন্দ্রের মেয়ে অনিতা ভৌমিককে ছেড়ে দেয় র‌্যাব।

এছাড়া রথিশ চন্দ্র খুনের ঘটনায় তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও সহকারী মিলন মোহন্তকে গতকাল গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই খুনের ঘটনায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।

এদিকে পুলিশের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল রাতে সিগ্ধার পরকীয়া প্রেমিক কামরুল ইসলামের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গ্রেপ্তার স্নিগ্ধা ভৌমিক ও দুই স্কুলছাত্র স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল মিয়া বলেন, মামলাটিতে মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে