আপডেট : ২৬ জুলাই, ২০১৭ ১৯:৪০
চার শিশু হত্যা

প্রধান আসামি খালাস, রায় শুনে মূর্ছা গেলেন চার মা

অনলাইন ডেস্ক
প্রধান আসামি খালাস, রায় শুনে মূর্ছা গেলেন চার মা

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের চার শিশু হত্যা মামলার প্রধান আসামি খালাস পেয়েছেন শুনে মূর্ছা গেছেন নিহত চার শিশুর মা। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ বুধবার (২৬ জুলাই) দুপুরে রায়ের খবর শুনে প্রথমে নিহত ইসমাইলের মা মিনারা বেগম মূর্ছা যান। তাঁকে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এরপর নিহত তাজেলের মা মিনারা খাতুন ও মনিরের মা সুলেমা বেগমও মূর্ছা যান। তাঁদেরও ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে হাসপাতাল থেকে মামলার বাদী আবদাল মিয়ার ছোট ভাই শাহজাহান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘১৮ জুলাই মামলার যুক্তি-তর্কের দিন আমরা আদালতে গিয়েছিলাম। ওই দিন আসামিরা হুমকি-ধমকি দিয়েছিলেন। এ কারণে আজ রায় শুনতে আদালতে যাইনি। যা হওয়ার তো হবেই, তাই আমরা কেউ যাইনি আদালতে।’

সুন্দ্রাটিকি গ্রামে পঞ্চায়েতের বিরোধের জের ধরে অপহরণ করে চার শিশুকে হত্যার ঘটনায় আজ তিনজনের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুজনের সাত বছর করে কারাদণ্ড ও তিনজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।

ফাঁসির দণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন রুবেল মিয়া, আরজু মিয়া ও উস্তার মিয়া।

মামলা পরিচালনাকারী রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি কিশোর কুমার কর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বাড়ির পাশের মাঠে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সুন্দ্রাটিকি গ্রামের আবদাল মিয়া তালুকদারের ছেলে মনির মিয়া (৭), ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), আবদুল আজিজের ছেলে তাজেল মিয়া (১০) ও আবদুল কাদিরের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১০)।

মনির সুন্দ্রাটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে, তার দুই চাচাতো ভাই শুভ ও তাজেল একই স্কুলে দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। আর তাদের প্রতিবেশী ইসমাইল ছিল সুন্দ্রাটিকি মাদ্রাসার ছাত্র।

নিখোঁজের পাঁচ দিন পর গ্রামের উত্তরে ইছাবিল থেকে চারজনের বালুচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার হলে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় বাহুবল থানায় নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মনির মিয়ার বাবা আবদাল মিয়া।

ওই বছরের ২৯ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তাদির হোসেন নয়জনের বিরুদ্ধেই আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

সুন্দ্রাটিকি গ্রামের দুই পঞ্চায়েতের বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে মামলার তদন্ত ও আসামিদের দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ নিশ্চিত হয়। নয়জন আসামির মধ্যে কারাবন্দী আছেন সুন্দ্রাটিকি গ্রামের পঞ্চায়েত একাংশের প্রধান আবদুল আলী ওরফে বাগাল, তাঁর দুই ছেলে রুবেল মিয়া ও জুয়েল মিয়া, সহযোগী আরজু মিয়া ও শাহেদ মিয়া। বাচ্চু মিয়া নামের অন্য একজন আসামি পলাতক থাকা অবস্থায় র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান। এ ছাড়া উস্তার মিয়া, বাবুল মিয়া ও বিল্লাল মিয়া নামের তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে