আপডেট : ২৫ মার্চ, ২০১৭ ২১:৫৪

সিলেটে যেভাবে চালানো হয় ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা

অনলাইন ডেস্ক
সিলেটে যেভাবে চালানো হয় ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ি এলাকার জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহল থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে গোটাটিকর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা সংলগ্ন শিববাড়ি পুলিশ চেকপোস্টের কাছে দুই দফা আত্মঘাতী বোমা হামলায় দুই পুলিশসহ চারজন নিহত এবং এক সাংবাদিকসহ অনন্ত ৩২জন আহত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহত দুই পুলিশ সদস্য হলেন ইনসেপক্টর আবু ফয়সাল ও ইনসেপক্টর মনির। নিহত অন্য দুইজন সাধারণ মানুষ। নিহত অপর দুইজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, সিলেটের আতিয়া মহলে প্যারা কমান্ডোর জঙ্গিবিরোধী অভিযানের চলাকালে শনিবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পুলিশ চেকপোস্টে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত ‘সিলেট মানচিত্র’র ফটো সাংবাদিক মো. আজমল আলীসহ বেশ কয়েকজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. জেদান আল মূসা বলেন, বোমা বিস্ফোরণে ইনসেপক্টর আবু ফয়সাল ও ইনসেপক্টর মনিরসহ চারজন নিহত হয়েছেন। অন্য দুইজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। কে বা কারা এ বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নিহতের সংখ্যা আরো বড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে এবং পুলিশ ও সোয়াটের সহায়তায় চলা ‘অপারেশন টোয়াই লাইট’ নিয়ে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ব্রিফিং করা হয়। ব্রিফিং শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট পর সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে ব্রিফিংস্থলের কাছে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এরপর রাত ৭টা ৫৫ মিনিটের দিকে আগের ঘটনাস্থলের কাছে পূর্ব পাঠানতলা মসজিদ এলাকায় আরেকটি বোমার বিস্ফোরণ হয়। ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন।

রাত পৌনে নয়টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশসহ ৩৮ জনকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুইটি মোটরসাইকেলে করে হামলাকারীরা চেকপোস্টের কাছে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে মোটরসাইকেল দুইটি বিস্ফোরণের কারণে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে।

সিলেট প্রতিনিধি ঘটনাস্থল থেকে জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী জঙ্গিবিরোধী অভিযানের বিষয়ে যে জায়গায় ব্রিফিং করেছিল বোমা বিস্ফোরণের স্থানটি তা থেকে ৪০০ ফুট দূরে। বোমা বিস্ফোরণের সময় চেকপোস্টে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেখানে কঠোর নিরাপত্তা ছিল।

অভিযানে থাকা সেনা সদর দপ্তরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান ব্রিফিংয়ে বলেন, তারা ওই ভবন থেকে ৭৮ জনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। ভেতরে জঙ্গিদের অবস্থান রয়েছে। তাই তাদের অভিযান চলমান আছে। রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযান সমাপ্ত করা হবে। শনিবার অভিযান চলাকালে জঙ্গিরা ১০-১২টি শক্তিশালী বিস্ফোরক ব্যবহার করেছে।

সিলেটে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে প্যারা কমান্ডো। সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে ‘অপারেশন টোয়ালাইট’ শুরু করে সেনাবাহিনী। ঘটনাস্থলে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, পুলিশের সাঁজোয়া যান ও কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স।

‘আতিয়া মহলে’সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানা শনিবার সকালেই ঘিরে ফেলেন সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোরা।

শুক্রবার সকালে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা বাড়ির ভেতর থেকে ২ রাউন্ড গুলি করে জঙ্গিরা। জবাবে পুলিশও পাল্টা ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায় সেখান থেকে। এছাড়া বাড়ির ভেতর থেকে কয়েকজনকে একসঙ্গে আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিতে শোনা যায়।

বৃহস্পতিবার রাত ৩টা থেকে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িস্থ জহির তাহির মেমোরিয়াল স্কুলসংলগ্ন বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। রাতে বাড়ি থেকে বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায় বলে স্থানীয়রা জানান।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে