আপডেট : ১৮ নভেম্বর, ২০১৬ ২১:৫০

হতদরিদ্র মাবিয়াকে লাখপতি করেছে ছাগল !

বিডিটাইমস ডেস্ক
হতদরিদ্র মাবিয়াকে লাখপতি করেছে ছাগল !

গ্রামের হতদরিদ্র গৃহিনী ছিলেন মাবিয়া। ক্ষুদে ব্যবসায়ী স্বামী গোলাম কিবরিয়ার আয়ে সংসার কোনভাবেই চলতো না। ক্ষুধা আর দারিদ্রের মধ্যেই দিনাতিপাত করতে হয়েছে দিনের পর দিন। অবস্থা আরও শোচনীয় হতে শুরু করলো। স্বামীর ব্যবসাও বন্ধের পথে। কি করবেন, আগামী দিনগুলো কেমনে চলবে সেই চিন্তায় যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় ঠিক এমন এমন সময় ছোট্ট একটি সিদ্ধান্ত বদলে দিলো মাবিয়ার জীবন। শুরু করলেন ছাগল পালন। সেই শুরু আর পেছনে তাকাতে হয়নি। হতদরিদ্র থেকে আজ লাখপতি হয়েছেন তিনি। অন্যদের দেখাচ্ছেন আলোর পথ।  

রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভার মুন্সিপাড়া মহল্লায় তার বাস। স্বামী গোলাম কিবরিয়া। পেশায় ছিলেন ক্ষুদে ব্যবসায়ী। মাবিয়া জানান, মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ, ভরণ-পোষণসহ সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতে ক্ষুদে ব্যবসায়ী স্বামী হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। এ অবস্থায় তার ব্যবসাও বন্ধের উপক্রম হয়। বাধ্য হয়ে তখন মাবিয়া শুরু করলেন ছাগল পালন। শুরুটা হয়েছিল এভাবেই। তারপর দিনে দিনে সময় পাল্টে গেছে।

সরেজমিনে গত ১৫ নভেম্বর সকালে মুন্সিপাড়ায় গিয়ে কথা হয় মাবিয়া খাতুনের সঙ্গে। তিনি জানান, ২০০৯ সালে আর্থিক অনটনের কারণে একটি দেশি জাতের ছাগল পালন করেন। পরে ওই ছাগল বিক্রি করে আরও কিছু টাকা দিয়ে তিনটি রামছাগল কেনেন। তারপর আরও দুটি ছাগল কেনেন। সবই লাভের টাকায় কেনা। এক সময় ছাগলের সংখ্যা ৫টি হয়। তারপর তা গোটা খামারকেই ভরিয়ে তোলে। ক’মাস আগেও তার ছাগলের সংখ্যা ছিল ১২৫টি। তার ভিতর থেকে কটি ছাগল বিক্রি করে ৬টি বিদেশি গরু কিনেছেন। মাত্র কয়েকদিন আগে ১৫টি ছাগল বিক্রি করে স্বামীকে ব্যবসার জন্য মোটা অংকের টাকা দিয়েছেন।

মাবিয়া বলেন, ‘আমার ৫ মেয়ে, ছেলে নেই। ৫ সন্তানই লেখাপড়া করে। ২ মেয়ে এখন বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে স্নাতক  শ্রেণিতে ও একজন দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছে। এক মেয়ে অর্নাসে পড়ে। ছোট মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে। সবই ছাগল খামারের বদৌলতে। এখন যোগ হয়েছে গরু।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার খামারের একটি ছাগল অন্তত ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। গত কোরবানির ঈদে চট্টগ্রাম হতে এক লোক আমার খামার থেকে কোরবানির জন্য একটি রামছাগল ৫৫ হাজার টাকা দিয়ে নিয়ে যান। এ ছাড়াও মাঝে মধ্যে বিভিন্ন জেলা হতে ছাগলের খামারিরা আসেন ভালো জাতের ছাগল ক্রয় করতে।’

তিনি জানান, তাকে আর সন্তানদের জন্য দুধ কিনতে হয় না। প্রতিদিন ছাগল থেকে কমপক্ষে ৫ কেজি দুধ পান। ছাগলের খামার দেবার পর হতেই সন্তানদের লেখাপড়া, আর্থিক সচ্ছলতা এবং বসতভিটা বাবদ পৌরসভায় ২৫ শতাংশ জমি- ইত্যাদি নানা কিছু হয়েছে। এছাড়াও ৩ বিঘা ধানি জমি ক্রয় করেছেন। তার মতে, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পরিশ্রম করলে যে কেউ সাবলম্বী হতে পারেন বলে বিশ্বাস জন্মেছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে