আপডেট : ১২ জুন, ২০১৬ ২২:২০

আশুগঞ্জে বিতর্কিত ইউএনওর বদলি

বিডিটাইমস ডেস্ক
আশুগঞ্জে বিতর্কিত ইউএনওর বদলি

বাংলা নববর্ষে দেড় মন ইলিশ খেয়ে বিতর্কিত আশুগঞ্জের ইউএনও সন্দ্বীপ কুমার সিংহ অবশেষে বদলি হয়েছেন। 

নানান অপকর্মের কারণে সমালোচিত ইউএনও আশুগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই ছিলেন তুমুল সমালোচনায়। বিভিন্ন অনৈতিক কাজের মাধ্যমে কুড়িয়েছেন বদনাম। চট্টগ্রামের বাশঁখালিতে তাকে পোস্টিং করা হলেও বর্তমানে তাকে সিলেট বিভাগে ন্যাস্ত করা হয়েছে। তার বদলি হলেও বহাল তবিয়তে আছেন তার সকল অপকর্মে দুই সহযোগী তার অফিস সহকারী লুৎফুর রহমান ও চালক কামরুল ইসলাম। 

সরেজমিনে আশুগঞ্জ উপজেলায় ঘুরে জানা যায়, ইউএনও সন্দ্বীপ কুমার সিংহ আশুগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করেন ২০১৩ সালে ১৪ নভেম্বর। যোগদানের পর থেকেই স্থানীয় সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টি আর উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপি হওয়ায় তার দুই সহযোগী অফিস সহকারী লুৎফুর রহমান ও চালক কামরুলকে দিয়ে একটি অপকমের্র সিন্ডিকেট করে তুলেন তিনি। তাদের সঙ্গে যোগ করা হয় কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটি সহসভাপতি আমিনুল হক আমিনের ভাগিনা স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ঠিকাদার মোস্তাফিজুর রহমানকে। এর পরে দেদারসে চলেছে তাদের অপকর্ম। 

অভিযোগ রয়েছে তার দায়িত্বকালে ঠিকাদার মোস্তাফিজকে দিয়ে তিনি বিনা টেন্ডারে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করিয়েছে। আর টেন্ডার দেয়ার মাধ্যমে ইউএনও হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাজগুলো হল-উপজেলা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, অফিসার ক্লাব নির্মাণ, কাচারী বিথিকা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, ও মসজিদ মার্কেট নির্মাণ। এছাড়া উপজেলায় সকল সরঞ্জাম ক্রয় করাও ছিল ঠিকাদার মোস্তাফিজ ও অফিস সহকারী লুৎফুরের সিন্ডিকেটে। তারা দুই জনেই মিলে তা নিয়ন্ত্রণ করতেন।

অফির্সাস ক্লাব নিমার্ণের নামে আশুগঞ্জ বন্দরের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ইউএনও হাতিয়ে নিয়েছেন অনেক টাকা। যদিও উপজেলার অফিসার্স ক্লাবের বোর্ডে মাত্র কয়েকজনের টাকা দেয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। বাকীদের নাম রয়ে গেছে আড়ালে। 
এছাড়াও ২০১৫ সালের কোরবানি ঈদে কোনো টেন্ডার ছাড়াই নিজে চালিয়েছেন রেলগেইট চামড়া বাজার। চামড়া বাজারের টাকা তুলেছেন তার দুই সহযোগী অফিস সহকারী লুৎফুর রহমান ও চালক কামরুল। চামড়া বাজার থেকে ঠিক কত টাকা উঠেছে তা কেউই জানে না। তবে সমলোচনা ছিল যথা সময়ে চামড়া সরানো হলেও বজ্য অপসারণের জন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি তিনি। তাছাড়া ঈদে মোটা অংকের কমিশনে আশুগঞ্জ গরু বাজার তিনি বিনা টেন্ডারে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে পাইয়ে দেয়ার।

চলতি বছর আয়োজন করা হয়েছিল ইউএনও গোল্ড কাপ ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা। ফাইনালে সম্মাননা দেয়া হয়েছে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির সমর্থিত কয়েকজনকে। সবচেয়ে বেশি আলোচনা ছিল ইউএনও অফিস সহকারী লৎফুর রহমানের সম্মাননা পাওয়া নিয়ে। 

সবচেয়ে বেশি বিতর্কে জড়ালেন পহেলা বৈশাখে। নববর্ষে জাতীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রী ইলিশ খাবেন না এই সম্মানে অনেকেই যখন ইলিশ খেলেন না তখন ইউএনও উপজেলা প্রশাসনে দেড় মন ইলিশ দিয়ে ভুড়িভোজন করিয়েছেন। তবে এই টাকার যোগানদাতা বিএনপির এক সিনিয়র নেতার বলে জানা যায়। তিনি উপজাতি হলেও তার পাশে সব সময় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা তার ওপর ছিল নাখোশ। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বাংলামেইলকে জানান, ইউএনও তার সহযোগীদের মাধ্যমে আশুগঞ্জ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাছাড়া অফিসার্স ক্লাব ও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের নামে তার সহযোগীদের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করা হত। তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলে কথা বলতে পারে না। স্থানীয় কিছু অসাধু চক্র তার সাথে আঁতাত করে চলে, তাই সবাই ভয়ে থাকে। 

সর্বশেষ গত ৪ জুন আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো.সালাহ উদ্দিন বিপুল ভোটে জয়ী হলেও ফলাফল নিয়ে তিনি টানবাহনা করেন। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের হাতে নাজেহাল হন। তার এই সীমাহীন দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা খতিয়ে দেখে একটি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা। সংস্থাটি বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়। তাকে দ্রুত আশুগঞ্জ থেকে বদলি করার জন্য সুপারিশও করেন তারা। ফলে তাকে বদরি করা হয়। তাকে চট্টগ্রামের বাঁশখালি উপজেলায় বদরি করা হলেও পরে সিলেট বিভাগে ন্যাস্ত করা হয়েছে তাকে। 

ইউএনও সন্দ্বীপ কুমার সিংহ মুঠোফোনে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, কেন তাকে বদলি করা হয়েছে তা তিনি জানেন না। তবে কোনো সরকারি কর্মকর্তার তিন বছর হয়ে গেলে তাকে যথাযথ নিয়মেই বদলি করা হয়।

জেডএম

উপরে