আপডেট : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১২:৫০
সংকট মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত বাংলাদেশ

আড়াই কোটি লোকের ঢাকায় করোনাভাইরাস ছড়ালে কী ঘটবে?

সাজ্জাদুল ইসলাম নয়ন
আড়াই কোটি লোকের ঢাকায় করোনাভাইরাস ছড়ালে কী ঘটবে?

২৩ হাজার দুইশো চৌত্রিশ। সংখ্যাটা খুব একটা ছোট নয়। ঢাকার প্রতি বর্গ কিলমিটারে ২৩ হাজার দুইশো চৌত্রিশ জন মানুষের বসবাস! এটা আসলে অফিসিয়াল হিসাব। বাস্তবে সংখ্যাটা আরও বড়। প্রায় ৪৫ হাজার লোকের বসসবাস ঢাকার প্রতি বর্গকিলমিটারে।

বিদেশী এক বন্ধু পরিসংখ্যানটা শুনে চমকে গেল। সর্বনাশ! এত কম জায়গায় এত লোক বসবাস করে কিভাবে? বললাম পারে তো। কোনই অসুবিধা হয় না। শুধু সবার মাথাটা একটু নষ্ট হয়ে যায়। সবাই প্রচণ্ড ষ্ট্রেসট থাকে। আর প্রত্যেকেরই সহ্যশক্তি থাকে একদম তলানীতে।

বন্ধুর পরের প্রশ্ন- আচ্ছা কচুরিপানা ভর্তি পুকুরে যখন সাতার কাটতে হয় তখন আগে হাত দিয়ে কচুরিপানা সরিয়ে তারপর সামনে যেতে হয় । তাহলে তোমরা রাস্তায় একজন আরেকজনকে হাত দিয়ে সরিয়ে পথ চলো?
-ভাবলাম তাইতো! আমরাও তো চলার পথে এই কাজই করছি। যখন ফুটপাতে হাটি তখন তো একজন আরেকজনে ঠেলে গুতিয়েই পথ চলতে হয় যা বিশ্বের অন্য দেশগুলোতে বিরল।

ঢাকার ৩২৫ বর্গকিলমিটারে বর্তমানে সোয়া দুই কোটি লোকের বাস। এই শহরে যদি কোনভাবে করোনাভাইরাস ছড়ায় তাহলে পরিণতি যে কত ভয়ংকর হয়ে উঠবে তা কল্পনারও অতীত। সামান্য ডেঙ্গু নিয়েই যে শহর হিমশিম খায়, সে শহরে করোনাভাইরাস এক ভয়ংকর মরণঘাতি দুর্যোগ নিয়ে আসবে এটা নিশ্চিত।

চীনাদের গোপন কারখানায় মানুষ হত্যার ভাইরাস তৈরীর অভিযোগ বেশ পুরনো। সেখানকার কোন এক কারখানায় সংগঠিত দুর্ঘটনা থেকে এ্ই করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা দুই শো ছাড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা লক্ষাধিক। চীনের জনবহুল নগরীগুলো এখন ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয়েছে। রাস্তার ধা্রে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে মানুষের লাশ।

ইজরায়েলের জীবাণু অস্ত্রের বিশেষজ্ঞরাও বলেছেন, এই ভাইরাসের জন্মদাতা ইউহানের জৈব রাসায়নিক মারণাস্ত্র তৈরির কারখানা বায়ো-সেফটি লেভেল ৪ ল্যাবোরেটরি। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, অসাবধানতাবশত এই গবেষণাগার থেকেই ছড়িয়েছে ভাইরাসের সংক্রমণ। আসলে জৈব রাসায়নিক অস্ত্রের উপর গবেষণা করতে গিয়েই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। ইজরায়েলের সেনা গোয়েন্দাদের উদ্ধৃত করে সে দেশের দুটি ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর ব‌্যাপক আধুনিকীকরণ, ছাঁটাই প্রক্রিয়া ও প্রযুক্তিগত মানোন্নয়ন করছে চীন। চলছে জীবাণু অস্ত্র ও রাসায়নিক অস্ত্র নিয়েও গবেষণা। এরই অঙ্গ হিসাবে সার্স জাতীয় ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করছে চিনের সামরিক বাহিনীর গবেষণাগার। সেখান থেকেই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস ক্রমেই মহামারীর আকার নিচ্ছে। লাফিয়ে বাড়ছে মৃত ও আক্রান্তের সংখ‌্যা। ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ইতোমধ্যে বিশ্বের ১৯টি দেশে এই মারণ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্ত হতে বাদ নেই ইউরোপ, আমেরিকাও। বিমানযাত্রীদের মাধ‌্যমে ছড়াচ্ছে এই ভাইরাস। আতঙ্ক ছড়িয়েছে সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে দক্ষিণ আফ্রিকাতেও। বাংলাদেশও ঝুঁকিমুক্ত নয়। কারণ বাংলাদেশের অনেকেই পড়াশুনা ও ব্যবসা্য়িক কাজে চীনে অবস্থান করে। অনেকের চীনে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে।

করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের উহানে আটকে থাকা ৩৬১ বাংলাদেশির মধ্যে ৩১৬ জনকে বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ উড়োজাহাজ বোয়িং ৭৭৭-৩০০ এ করে আজ (০১ ফেব্রুয়ারি) দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আটকে পড়া বাংলাদেশিদের মধ্যে দুইজনকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে রেখে দিয়েছে চীন। ফেরত আসা যাত্রীদের প্রথমে কোয়ারেন্টাইনে (সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা) রাখার জন্য আশকোনা হজ ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। সেখানে তাদের ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। ফেরত আসাদের মাঝেও কেউ কেউ করোনা আক্রান্ত থাকতে পারে। এ সময়ে আত্মীয়-স্বজনরা স্বাভাবিক ভাবেই ক্যাম্পে ভিড় জমাতে পারে। এতে করে করোনাভাইরাস বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকারকে এ বিষয়ে কড়া নজরদারি করতে হবে।

এর আগেও গত কয়েক দিনে চীন থেকে প্রায় ৩৫০ জন দেশে ফিরেছেন। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস দুর্গত এলাকা থেকে এসব মানুষ দেশে প্রবেশ করায় বাংলাদেশেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।  

সতর্কতা হিসেবে বিশ্বের কয়েকটি দেশ চীনের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। সরকারের উচিত হবে সাময়িক সময়ের জন্য হলেও যোগাযোটা বন্ধ করে দেওয়া। ইতোমধ্যে চীনের পাশের দেশ দক্ষিন কোরিয়ায় দশের অধিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। করোনা ছড়াচ্ছে দ্রুত। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপি জরুরী অবস্থা ঘোষণাও করেছে। আমার আছি ঘুমিয়ে। বসে আছি সরকারের ঘুম ভাঙ্গার অপেক্ষায়। 

লেখক-সাংবাদিক ও কলামিস্ট

উপরে