আপডেট : ২১ মার্চ, ২০১৮ ১৯:১০
ভয়াবহ চিত্র

অতীতে বহু দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে নেপালে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি

সাজ্জাদুল ইসলাম নয়ন
অনলাইন ডেস্ক
অতীতে বহু দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে নেপালে বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি

কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি ছিল ভয়াবহ দুর্ঘটনাপ্রবণ। আন্তর্জাতিক অ্যাভিয়েশন দুর্ঘটনা সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে দেখা গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আটটি ভিন্ন রেজিস্ট্রেশনে চলেছে ১৭ বছর ২ মাসের পুরনো এই বিমানটি। মালিকানা বদল হয়েছে সাতবার। চলেছে কানাডা, জার্মানি, সুইডেন ও জর্ডানের এয়ারলাইনস কোম্পানিতে। আর বার বার ঘটিয়েছে দুর্ঘটনা। ২০১৩ সালে ছয় মাসের ব্যবধানে দু-দুবার দুর্ঘটনা ঘটেছিল উড়োজাহাজটি অবতরণ করার সময়। এতে ইঞ্জিন ও চাকার বেশ ক্ষতি হয়েছিল। এ ছাড়া অবতরণের সময় ল্যান্ডিং গিয়ার আটকে যাওয়া, ল্যান্ডিং গিয়ার না খোলা, মাঝ আকাশে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়া, কখনো কখনো বিকট শব্দ করা, কারণ ছাড়াই প্রচণ্ড ঝাঁকুনি, ল্যান্ডিংয়ের পর রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়াসহ ইঞ্জিনের সঙ্গে ককপিটের সঙ্কেতে গরমিলের একাধিক ঘটনা আছে আলোচিত এই উড়োজাহাজটির। প্রতিবারই এসব কারণে বিমানটিকে জরুরি অবতরণ করাতে বাধ্য হয়েছেন পাইলট।

যতদূর জানা গেছে, এর আগে দুর্ঘটনার কারণে উড়োজাহাজটির ক্ষতি হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এর নোজ গিয়ারের চাকা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে একাধিকবার। নানা সমস্যার কারণে ১৭ বছরের মধ্যে প্রায় চার বছর বিমানটি অলস ফেলে রাখা হয়েছিল। ইউএস-বাংলায় যুক্ত হওয়ার আগেও এটি প্রায় এক বছর গ্রাউন্ডেড ছিল জার্মানির মিউনিখের এক হ্যাঙ্গারে। পরে এর মালিক বিমান সংস্থাটিও দেউলিয়া হয়ে যায়। এর আগে বোম্বারডিয়ার ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজটি ছিল রয়েল জর্ডানিয়ান এয়ারলাইনসে। সে সময়ও নানা সমস্যার কারণে আকাশের চেয়ে মাটিতেই বেশি সময় কাটিয়েছে এটি। তার আগে এর মালিক ছিল সুইডেনের স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইনস (এসএএস)। তারা কারিগরি জটিলতার কারণে লিজ নেওয়ার এক বছরের মধ্যে উড়োজাহাজটি ফেরত দিয়েছিল বোম্বারডিয়ারকে। মোট ১১টি ড্যাশ-৮ কিউ-৪০০ ছিল এসএএসের হাতে। ২০০৭ সালে ল্যান্ডিং গিয়ারের মারাত্মক ত্রুটি ধরা পড়ায় এর সবগুলোই চলাচলের অনুপযুক্ত ঘোষণা করে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশেও ২০১৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ৭ যাত্রী নিয়ে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছিল এই উড়োজাহাজটি। রানওয়ে থেকে ছিটকে পাশের নরম মাটিতে দেবে গিয়েছিল। ক্ষতি হয়েছিল সামনের ডানপাশের চাকার। যদিও ইউএস-বাংলা থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি সেই বিমান নয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিমান দুর্ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এসটু-এজিইউ নামে রেজিস্ট্রেশন করা ইউএস-বাংলার এই উড়োজাহাজটিই সৈয়দপুরে দুর্ঘটনায় পড়েছিল।

আন্তর্জাতিক বিমান চিহ্নিতকারী সংস্থা প্লেনস্পটারডটনেটের তথ্য-উপাত্ত থেকে জানা গেছে, ডি হ্যাভাল্যান্ড কানাডা ড্যাশ-৮ মডেলের এই বিমানটির প্রস্তুতকারক বোম্বারডিয়ার অ্যারোস্পেস নামে কানাডার একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯৮৪ সাল থেকে তারা এ ধরনের দুই প্রপেলারচালিত ইঞ্জিনের উড়োজাহাজ তৈরি করছে।

কাঠমান্ডুতে দুর্ঘটনার শিকার উড়োজাহাজটির প্রথম রেজিস্ট্রেশন হয় ২০০১ সালের এপ্রিলে। নম্বর ছিল এন৩৮৫বিসি। এটি কিনেছিল বোম্বারডিয়ার ক্যাপিটেল ইনকরপোরেশন নামে বোম্বারডিয়ার অ্যারোস্পেসেরই একটি সহযোগী সংস্থা। এর পরের মাসেই এটি লিজ দেওয়া হয় এসএএস স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইনসের কাছে। এর ১৪ মাসের মাথায় এসএএস কারিগরি ত্রুটির কারণে এলএন-আরডিএক্স নামে রেজিস্ট্রেশন করা উড়োজাহাজটি ফেরত দিয়ে দেয়। এরপর প্রায় টানা তিন বছর এটি পড়ে ছিল কানাডার কুইবেকের একটি হ্যাঙ্গারে। সেখান থেকে একটি অজ্ঞাত মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রয়্যাল জর্ডানিয়ান এয়ারলাইনসের কাছে এটি লিজ দেয় বোম্বারডিয়ার। রেজিস্ট্রেশন হয় জেওয়াই-এএসএম নামে। সূত্রমতে, সমস্যাপ্রবণ হওয়ায় পরবর্তী তিন বছরে উড়োজাহাজটি আকাশের চেয়ে মাটিতেই কাটিয়েছে বেশিরভাগ সময়। ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে রয়্যাল জর্ডানিয়ান লিজ নবায়ন করতে রাজি না হওয়ায় এটি আবার ফেরত আসে বোম্বারডিয়ার ইনকরপোরেশনের হাতে। যতবারই এটি বোম্বারডিয়ারের কাছে ফিরেছে ততবারই নতুন নামে এর রেজিস্ট্রেশন হয়েছে।

উড়োজাহাজ ও অ্যাভিয়েশন নিয়ে কাজ করে অ্যাভিয়েশন হেরাল্ড। ওই পত্রিকার সূত্রমতে, ২০০৮ সালের শুরু থেকেই ইউরোপজুড়ে বিমান ভ্রমণ বেড়ে যায় তিনগুণ। সে সময় বাজেট এয়ারলাইনস হিসেবে খ্যাত জার্মানিভিত্তিক অগসবার্গ ফুলে-ফেঁপে ওঠে। নিজেদের বিমান পরিচালনার পাশাপাশি লুফথানসার সহ-প্রতিষ্ঠান হয়েও কাজ শুরু করে অগসবার্গ। সে সময়টায় কোম্পানিটি সস্তায় বেশ কিছু উড়োজাহাজ কেনে। সেই বহরে ডি-এডিএইচআর রেজিস্ট্রেশনে যুক্ত হয়েছিল এই বিমানটিও। অ্যারোইনসাইড নামে একটি বিমান দুর্ঘটনা চিহ্নিতকরণ সংস্থার মতে, অগসবার্গের হয়ে লুফথানসা পরিচালিত ডি-এডিএইচআর কমপক্ষে ১৫টি দুর্ঘটনায় পড়ে। এর মধ্যে ২০১৩ সালেই ঘটে দুটি। লুফথানসার হয়ে সে বছরের ৩০ আগস্ট ৫৩ যাত্রী নিয়ে (ফ্লাইট এলএইচ১৬৩২) উড়োজাহাজটি জার্মানির মিউনিখ থেকে পোল্যান্ডের ওয়ার্কলো যাচ্ছিল। প্রাগের আকাশে ২৫ হাজার ফুট উপরে থাকতে পাইলট সঙ্কেত পান ডান ইঞ্জিন ‘ওভারস্পিড’ দেখাচ্ছে। যে কারণে ইঞ্জিনের তাপমাত্রাও বাড়তে থাকে দ্রুত। উপায়ান্তর না দেখে পাইলট মাঝ আকাশেই ডান ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন এবং প্রাগে জরুরি অবতরণ করেন। ওই দুর্ঘটনায় ১০ যাত্রী আহত হয়েছিল।

একই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই বিমানটি (ফ্লাইট এলএইচ২১৬৪) জার্মানির লিপজিগ থেকে ওড়ার পর পাইলট ডানপাশের ল্যান্ডিং গিয়ারের দরজা আর বন্ধ করতে পারেননি। মিউনিখের স্টুটগার্টে যাওয়ার কথা থাকলেও ত্রিশ মিনিট পর যাত্রা বাতিল করে লিপজিগেই সেটি জরুরি অবতরণ করানো হয়। এর আগে ২০১২ সালের ২০ আগস্ট একই উড়োজাহাজটি ৪৭ যাত্রী ও ৪ জন কেবিন ক্রু নিয়ে স্টুটগার্ট যাওয়ার জন্য মিউনিখ থেকে আকাশে ওড়ে। ১৫ মিনিট পর সাত হাজার ফুট উচ্চতায় কোনো সঙ্কেত ছাড়াই বামপাশের ইঞ্জিনটি বন্ধ হয়ে যায়। পাইলট মিউনিখে জরুরি অবতরণে বাধ্য হন। বাতিল হয় ওই মডেলের উড়োজাহাজের সব শিডিউল। অগসবার্গের কাছে ছিল একই মডেলের আরো তিনটি বিমান। সেগুলোও একই ধরনের ঝামেলায় পড়তে থাকে নিয়মিত। যে কারণে লুফথানসা অগসবার্গের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে। ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর অগসবার্গ এয়ারওয়েজ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। বিমানগুলো চলে যায় মিউনিখের বিভিন্ন হ্যাঙ্গারে। এরপর অজ্ঞাত মধ্যস্থতাকারীদের হাত ধরে ডি-এডিএইচআর ও ডি-এডিএইচএস রেজিস্ট্রেশনে বিমান দুটি আসে ইউএস-বাংলার হাতে। এর নতুন রেজিস্ট্রেশন নম্বর হয় এস২-এজিউ (সিরিয়াল ৪০৪১) ও এস২-এজিভি (৪০৪৪)। এই দুটি উড়োজাহাজ দিয়েই ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা। এরপর ২০১৫ ও ২০১৮ সালে একই সিরিজের আরো দুটি উড়োজাহাজ আসে ইউএস-বাংলা বহরে। এর মধ্যে এস২-এজিইউ কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত হয় গত ১২ মার্চ।

অ্যারো ইনসাইডের তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৬৫টি দেশে ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০ সিরিজের ১৬৭টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এগুলোর পারফরম্যান্স নিয়ে বহু দেশেই বদনাম আছে। এই সিরিজের বিমানগুলো আগের সিরিজের চেয়ে অনেক বেশি দুর্ঘটনাপ্রবণ। ২০১৮ সালের মার্চেই ড্যাশ-৮ মডেলের উড়োজাহাজগুলো ১৩টি দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে। আর ২০১১ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ৩৪৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে এই মডেলের বিমানগুলোতে।

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে ল্যান্ডিং গিয়ারের সমস্যার কারণে। অবতরণের সময় চাকা ফেটে ও খুলে গিয়েও দুর্ঘটনার হার নেহাত কম নয়। ২০১৭ সালের তথ্যে দেখা যায়, ৮২টি দুর্ঘটনার ৪০টির বেশি ঘটেছে ল্যান্ডিং গিয়ার ও চাকা ফাটার কারণে। এ ছাড়া ইঞ্জিন, ককপিটের টেকনিক্যাল সমস্যা ও ডানায় আগুন ধরেও দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০১৭ সালে ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ বিমানেরও একটি দুর্ঘটনার খবর রয়েছে। সৈয়দপুর থেকে ঢাকা আসার পথে আকাশে থাকতে ডানপাশের চাকা খুলে পড়ে যায় বিজি-৪৯৪ ফ্লাইটটির। এটিও ছিল ড্যাশ-৮ সিরিজের উড়োজাহাজ।

২০০৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট১২০৯-এর পাইলট অবতরণের সময় ডানপাশের প্রধান গিয়ার লক খুলতে ব্যর্থ হন। এক ঘণ্টা ধরে কোপেনহেগেনের আকাশে চক্কর মেরে অবশেষে তিনি উড়োজাহাজটি জরুরি অবতরণ করান। এয়ারক্রাফটির ডানদিকের ল্যান্ডিং গিয়ার ভেঙে যায় এবং ডানপাশের ডানা মাটি স্পর্শ করে। ফলে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। পাঁচ যাত্রী আহত হয় সেদিন।

কোপেনহেগেনে তৃতীয়বারের মতো দুর্ঘটনার পর স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইনস সিস্টেম (এসএএস) তাদের পুরো ড্যাশ-৮-৪০০ সিরিজের ২৭টি উড়োজাহাজ গ্রাউন্ডেড করে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোম্বারডিয়ার অ্যারোস্পেসের সুপারিশে এই মডেলের উড়োজাহাজের ১০ হাজারের বেশি ফ্লাইট পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। এর প্রভাব পড়ে অ্যাভিয়েশন সিস্টেমে। সে সময় হরাইজন এয়ারলাইনসের ১৯টি ও অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের আটটি উড়োজাহাজ গ্রাউন্ডেড করা হয়।

১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭ বোম্বারডিয়ার কিউ-৪০০ টর্চট্রেপ এয়ারক্রাফটের জন্য সতর্কতামূলক কিছু নির্দেশিকা জারি করে। তাতে বলা হয়, সব অপারেটরকে এয়ারক্রাফটের বাম ও ডানের প্রধান ল্যান্ডিং গিয়ার সিস্টেম ভালোভাবে পরীক্ষা এবং মূল গিয়ারের অ্যাক্যুয়েটর জ্যাম নাট বদলাতে হবে।

২০০৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বোম্বারডিয়ারসহ সব উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং গিয়ার পরীক্ষা সংক্রান্ত নতুন পদ্ধতির নির্দেশিকা সংবলিত একটি অল-অপারেটর মেসেজ (AOM) জারি করা হয়। এ পরিস্থিতিতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বোম্বারডিয়ারের ৮ হাজারের বেশি ফ্লাইট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। নতুন এই পরীক্ষা পদ্ধতিতে সারা বিশ্বের ১৬৫টি কিউ-৪০০ উড়োজাহাজের প্রায় ৮৫টিতেই সমস্যা পাওয়া যায়। কিছু অপারেটর অ্যাক্যুয়েটর প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ না পেয়ে তাদের উড়োজাহাজ গ্রাউন্ডেড করতে বাধ্য হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউএস-বাংলার একটি সূত্র জানিয়েছে, কেনার পর থেকেই দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটিতে কিছু সমস্যা ধরা পড়ে। তবে সেসব ঠিকঠাক করা হয়েছে। যখনই সমস্যা দেখা দেয়, তাৎক্ষণিক তা মেরামতের জন্য তাদের দক্ষ প্রকৌশলী দল প্রস্তুত থাকে। প্রকৌশলীদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশিও আছেন।

এত বছরের পুরনো বিমান কেন কেনা হচ্ছে বিশেষ করে যে বিমানগুলোর দুর্ঘটনার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ- এ প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি ওই কর্মকর্তা। তিনি জানান, বিএস২১১ দুর্ঘটনার পর ইউএস-বাংলার সব কর্মীকে বাইরে কথা বলতে বারণ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র জানিয়েছে, কম বিনিয়োগে বেশি মুনাফার চেষ্টাই বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিকে দাঁড়াতে দিচ্ছে না। বেশি লাভ করতেই পুরনো উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বিমানের পারফরম্যান্স এবং দুর্ঘটনার ইতিহাস ঘেঁটে দেখা হচ্ছে না।

বাংলাদেশে এসব ঝুঁকিপূর্ণ উড়োজাহাজ লাইসেন্স পাচ্ছে কীভাবে-এ প্রশ্নের উত্তরে ওই সূত্র জানায়, কাগজপত্র যদি ঠিক থাকে সেক্ষেত্রে ২০ বছর বয়সী উড়োজাহাজকেও লাইসেন্স দেওয়া হয়। তবে যাত্রী ও অ্যাভিয়েশনের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশনের পরিচালক চৌধুরী মো. জিয়াউল কবীর।

পুরনো বিমানের বিষয়ে তার কথা হচ্ছে, সিভিল অ্যাভিয়েশন থেকে বাংলাদেশে ২০ বছরের বেশি বয়সী বিমান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয় না। আর উড়োজাহাজ তো একটি যন্ত্র। কোনো পুরনো বিমানই ত্রুটিহীনভাবে চলাচল করতে পারে না। তবে এই যন্ত্রের যেসব ত্রুটি চিহ্নিত হয় তা অনুমোদিত যন্ত্রাংশ ও প্রকৌশলী দিয়ে মেরামত করা হয়। এখানে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, যেকোনো উড়োজাহাজের অনুমোদন দেওয়ার সময় আমাদের সবার আগে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অরগানাইজেশনের (আইসিএও) সমস্ত নিয়মনীতি অনুসরণ করতে হয়। এর বাইরে অন্য কিছু খোঁজার বা পর্যবেক্ষণের অবকাশ নেই। ইউএস-বাংলার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তা ছাড়াও ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসেও আইসিএও থেকে ইউএস-বাংলার বিমানগুলোর নিরীক্ষণ (অডিট) হয়েছে। আর এ বছরও ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) থেকেও বাংলাদেশ বিমান ও ইউএস বাংলার উড়োজাহাজগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে। লেখক : সাংবাদিক, রাজনীতি বিশ্লেষক, সূত্র: আংলাদেশের খবর

উপরে