আপডেট : ২ আগস্ট, ২০১৭ ০৯:৪৩

হাসিনার চেয়ে খালেদার শাসন উত্তম হবে, গ্যারান্টি কোথায়?

পীর হাবিবুর রহমান
হাসিনার চেয়ে খালেদার শাসন উত্তম হবে, গ্যারান্টি কোথায়?

অসিহষ্ণু, অস্থির, অশান্ত, রাজনীতিপীড়িত, মূলবোধহীন সমাজে রাজনীতি নিয়ে লেখা মানেই হয় কোথাও তালি, কোথাও গালি খাওয়া। দুই নয়নেই যারা দেখেন, দলকানারা তাদেরকে সুবিধাবাদী বলেন। নির্মোহ সত্য সইবার মতো গায়ের চামড়া কারো নেই। ফুসকা পড়ে যেখানে, সেখানে। রাজনীতিতে আদর্শহীন পথ চলবেন, গণমুখী চরিত্র হারাবেন, সেটি বলা যাবে না। বলতেই গেলেই আক্রোশে ফেটে পড়বেন। মঞ্চে, মাইক্রোফোনে যা বলেন, হৃদয় দিয়ে তা বিশ্বাস করেন না। যা বিশ্বাস করেন, তা বলেন না। সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতেই গেলেই কলজে পুড়ে যায় তাদের। পুড়ে পুড়ে তামা হয় তাদের মুখায়ব। তাদের চেহারা দেখে অন্ধা, উন্মাদগণ আরো বেশি জোরে আর্তনাদ করে উঠেন। গাল দেন, অশ্লীল, গুয়েবলসিয়ো মিথ্যাচারের পথ নেন।

তথ্য প্রযুক্তির এই বিপ্লবের যুগে সরকার তথ্য প্রযুক্তি আইন ৫৭ ধারা প্রবর্তন করে মুক্ত চিন্তার মানুষের হাত বেঁধে দিয়েছেন। বাতিল না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে হতাশার চাদরে মুড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু যাদের জন্য এই আইন প্রবর্তন করেছেন বলে তারা জিগির করছেন তাদের ঠেকাতে পারছেন না। দেশের ভিতরে বাইরে থেকে তারা মানসিক বিকৃতির পথে চরিত্রহনন ও মিথ্যাচারের ধারা অব্যাহত রেখেছেন নাম পরিচয়হীন নিউজপোর্টাল খুলে।

এক কথা লিখতে গেলে আরেক কথা এসে যায়। এই লেখা শুরুর আগ মুহুর্তে সাংবাদিক সুভাষ চন্দ্র বাদলের ফেসবুক স্ট্যাটাস পড়তে গিয়ে মনটা বিষন্ন হয়ে গেল। দীর্ঘদিন দেখা নেই বিনয়ী, হাসিমুখের, পেশাদার সংবাদকর্মী প্রদীপ সিংহ রায়ের। ইংরেজি জানা, পরিশ্রমী এই রিপোর্টার দীর্ঘদিন প্রিন্ট মিডিয়ায় কাজ করেছেন। একজন পেশাদার রিপোর্টার হিসাবে শেষ পর্যন্ত বাসসের চুক্তিভিত্তিক কাজ করেছেন। সেই চাকরিটি চলে যাওয়ায় দু’মাসের বাড়িভাড়া বকেয়া পরেছিল। জীবনের পড়ন্তবেলায় ঢাকায় টিকতে না পেরে গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। সরকারের এত রাজনৈতিক নিয়োগ, সেখানে তার ভাগ্যের সিঁকে ছিড়েনি। এত বড় বড় কর্পোরেট হাউজ কোথাও তার জায়গা হয়নি। অথচ চোখের সামনে তিনি দেখে গেলেন, রাতারাতি তার সঙ্গে পায়ে পায়ে হাঁটা কত সহকর্মী, অগ্রজ, অনুজ অগাদ বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন।

মাঝেমধ্যে আমারও ইচ্ছে করে, এই অমানবিক হৃদয়হীন মৃত নগরী ছেড়ে আমার জল জোছনার হাওরের রাজধানী সুনামগঞ্জ চলে যাই। জীবিকার টানে পরে থাকা এই নগরীতে আমারও দম বন্ধ হয়ে আসে। কবিগুরুর ‘সত্য সে যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম আমি। কারণ সত্য করে না বঞ্চনা’ হৃদয়ের তন্ত্রীতে লালন করলেও মাঝেমধ্যে বিদ্রোহী কবি নজরুলের মতো চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে, ‘ অমর কাব্য লিখিও বন্ধু, তোমরা যারা আছো সুখে, দেখিয়া-শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই মুখে যাহা আসে তাহাই কহি’।

পূর্বপশ্চিমের সম্পাদক হিসাবে মুন্নি একটি কলাম লিখেছিলেন, বিএনপি-জামায়াতের সেই বিভিষীকাময় অপশাসন নয়, শেখ হাসিনার উন্নয়নের শাসন চাই।’ এই লেখায় একদিকে বিএনপি-জামায়াত জামানার অন্ধকার চিত্র যেমন উঠে এসেছে, তেমনি শেখ হাসিনার উন্নয়নের মহাসড়কের যাত্রাপথ তুলে এনেছেন। কিন্তু যারা শেখ হাসিনার উন্নয়নকে, সাফল্যকে ধূসর করে দিচ্ছেন, শাসনকালকে বিতর্কিত করছেন, তাদেরকে আর দলে বা সংসদে দেখতে চান না এই আকুতিও ছিল। এতে একটি রাজনৈতিক শক্তির অন্ধ সমর্থকরা আক্রোশে ফেটে পরলেন। নির্মোহ চিত্তে হৃদয়, মন খুলে নানা মহলের সঙ্গে আলাপ আলোচনায়, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথাবার্তায় কিংবা বিভিন্ন এলাকায় চায়ের আড্ডায় যখন রাজনীতি নিয়ে তুফান উঠে; তখন একপক্ষ সরকারের বিরুদ্ধে যেরকম মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ, মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন, বিরোধী দলের ওপর দমন নির্যাতন, মামলা এবং গুম-খুন ও শাসকদলের উন্মাসিকতার চেহারা তুলে ধরেন; তেমনি আরেকপক্ষ বলতে ভুলেন না বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে কিভাবে পূর্ণিমা ধর্ষিতা হয়েছিল, কিভাবে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঘরবাড়ি ছাড়া করা হয়েছিল, কিভাবে কর্মীদের নিহত হয়েছিল, পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছিল, কেমন করে বিএনপি-জামায়াত সরকারের প্যারালাল হাওয়া ভবনের উন্মত্ত রূপ দেখেছিল বাংলাদেশ, কেমন করে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়া, আহসান উল্লাহ মাস্টার, নাটোরের মমতাজ হোসেনসহ দলের প্রভাবশালী এমপি নেতাকর্মীদের নৃসংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, কেমন করে বাগমারা রীতিমতো স্বাধীন করে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় বাংলা ভাইদের মধ্যযুগীয় শাসন কায়েম হয়েছিল, কেমন করে একই জেলায় ৬৩ জেলায় ৫ শতাধিক স্থানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল, বিশ্ববিবেককে নাড়া দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় প্রকাশ্য দিবালোকে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনাসহ দলের শীর্ষ নেতাদের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে একুশের গ্রেনেড হামলা ছিল বিশ্বাস, আস্থা, সহনশীলতা ও সৌজন্যের রাজনীতির কফিনের শেষ পেরেক ঠুঁকে দেয়া। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কিছুদিন আগে রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন ভিশন-২০৩০ উপস্থাপন করতে গিয়ে প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে সংবিধান ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সকল প্রতিষ্ঠানকে দলবাজির ঊর্ধ্বে রাখার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তার চমৎকারিত্ব থাকলেও বিশ্বাসযোগ্যতা মানুষের কাছে নেই। বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার দিন তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগকে এক কাপড় ঘর ছাড়তে হবে। অর্থাৎ বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিহিংসার ছোবলে সুদে আসলে সব বুঝিয়ে দেয়া হবে। রাষ্ট্র পরিচালনার উদার নীতির সেই দর্শন এখানেই তিরোহিত হয়ে যায়।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা একদিন ক্ষমতায় না থাকলে দেশে রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে। এই কথাগুলো প্রতিহিংসার রাজনীতির ধারাবাহিকতার চিত্র তুলে আনে আতংকগ্রস্ত নাগরিক মনে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড যেমন হয়েছে, তেমনি দুর্নীতির মহোৎসবও হয়েছে। শেয়ার বাজার থেকে ব্যাকিংখাত যেভাবে লুটেরাদের অভয়ারন্য হয়েছে, যেভাবে বিদেশে টাকা পাচার হয়েছে; তার কারণে বঙ্গবন্ধু কন্যার এত সাফল্যের পরও মানুষ হৃদয়নিঃসৃতভাবে সেই হারে প্রশংসা করছে না।

সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাদ, গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচন যেমন সকল মহলের প্রত্যাশা, সংবিধান, আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা যেমন মানুষের চাওয়া, সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, বেসরকারি খাতকে উৎসাহ দান মানুষের আশা; তেমনি ভয় আর আতংকেরও শেষ নেই। শেষ নেই দ্বিধা-দ্বন্ধের। রাষ্ট্র পরিচালনায় শেখ হাসিনার চেয়ে খালেদা জিয়ার শাসন উত্তম হবে এই গ্যারান্টি কেউ পাচ্ছেন না। একপক্ষ ক্ষমতা থেকে বিদায় মানে, আরেকপক্ষের আগমন। সেই পক্ষের আগমন মানে ক্ষুধার্ত বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পরা। ক্ষমতার নেশা, রক্তের নেশা, অর্থবিত্তের নেশা। আমাদের গোটা রাজনীতি ও সমাজকে নেশাখোঁড়দের আগ্রাসনে পতিত। কেউ রাজনৈতিক ক্ষমতার নেশা, কেউ প্রশাসনিক ক্ষমতার নেশায়, কেউবা সামাজিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার নেশায়, আবার কেউ বা অর্থবিত্ত, অগাদ সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্যের নেশায় চুঁড় হয়ে আছেন। সুযোগ কেউ হাতছাড়া হতে দিতে চান না, কেউ বা একবার হাতে পেলেই হয়।

মাঝখানে জনগণ এক সরকারের বিদায়ে আরেক সরকারের সুশাসন পাবেন এই নিশ্চয়তা নিজের মনকে দিতে পারছেন না, মানুষকে দেয়া দূরে থাক। আদর্শিক রাজনীতির পথ হারা বাংলাদেশ এক দ্বিধা-দ্বন্ধ, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ঘরে-বাইরে তো বটেই, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সাফল্য হাতের মুঠোয় পুরে পথ হাঁটছেন। ব্যাংক ব্যাংককে চ্যালেঞ্জ করে নিজস্ব অর্থায়নে এ মেয়াদেই পদ্মা সেতুর মতো উন্নয়ন প্রকল্প শেষ করছেন। সীমান্ত সমস্যার সমাধান করেছেন, সমুদ্র বিজয় করেছেন, দেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে এনে এখন মধ্যম আয়ের দেশে যাওয়ার লড়াই করছেন, বিদ্যুত সমস্যার সমাধানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন, তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটিয়েছেন।

উন্নয়নের মহা কর্মযজ্ঞ যেমন চলছে, তেমনি তার উজ্জলতা বর্ণহীন ধূসর করে দিচ্ছেন দলের দখলদারিত্বের লড়াইয়ে অবতীর্ণ মাঠ নেতাদের কামড়া-কামড়ি। গত ৯ বছরে বিএনপি-জামায়াত জামানার দুঃশাসন, দুর্নীতি, হাওয়া ভবন বির্তক, নতুন ভোটারদের কাছে আলোচনায় নেই। সেখানে বির্তক উঠে এসেছে শেয়ার বাজার থেকে ব্যাংকিখাত ও বিদেশে টাকা পাচারের ঘটনা।

যে আওয়ামী লীগ আজীবন গণতন্ত্র ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লড়াই করেছে, ৯ বছরে সেটি কতটা রক্ষা করেছে, সেই বিতর্কও চলছে। যে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আওয়ামী লীগের গৌরব ও অহংকার, যে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পাশাপাশি ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে, সেখানে আজকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব যেন অনেকটাই দিশেহারা ও বিভ্রান্ত।

একদিকে দলে আশ্রয় নেয়া হাইব্রিড মানে সুবিধাবাদী ও সুযোগ সন্ধানীদের তাড়াতে বলছে, আরেকদিকে অনুপ্রবেশকারী জামায়াত বিএনপির আগমনকে রুখতে বলছে; কিন্তু এক চাপাইনবাবগঞ্জে আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি ওয়াদুদের হাত ধরে মামলার আসামিসহ ৮০০ জামায়াত নেতাকর্মীর আওয়ামী লীগে যোগদানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। আওয়ামী লীগের দুর্বলতাটা কোন জায়গায়, এই প্রশ্ন উঠছে।

চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত দলীয় এমপি নদভীর স্ত্রী, জামায়াত নেতার কন্যা রিজিয়াকে মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই দিয়ে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে। যতদূর জানি, নদভী মনোনয়ন পাওয়ার পরও বিতর্ক উঠেছিল। আরো জানি, নদভীর নির্বাচনী জনসংযোগের অনেকটাই করে দেন তার স্ত্রী রিজিয়া। তার সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যিনি দলে ঠাঁই নেয়া সুবিধাবাদী হাইব্রিড ও কাউয়াদের ব্যাপারে বরাবর সরব তিনি এই বিতর্কের মুখে বলেছেন, নদভী চার বছর ধরে দলের এমপি। আজ কেন তার স্ত্রীকে নিয়ে প্রশ্ন? স্বামীর সঙ্গে তার স্ত্রী আওয়ামী লীগের কাজ করছেন। এইখানে দুর্মোখরা প্রশ্ন করতেই পারে, যে জামায়াতকে নিয়ে এত নিন্দা, এত ঘৃণা, সেই জামায়াত নেতার কন্যা রিজিয়া আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি নদভীর স্ত্রী হয়ে থাকলেই অসুবিধা কি? তাকে কেন মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই দিতে হবে?

কর্মী নির্ভর দল আওয়ামী লীগ মহিলা আওয়ামী লীগে ঠাঁই দিতে কি আর কাউকে পাইনি? আওয়ামী লীগ বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির কট্টর বিরোধী এককালের আওয়ামী লীগ ও মুজিব বিদ্বেষী জাসদ, ওয়ার্কাস পার্টিকে যদি বুকে টানতে পারে, পথের বন্ধু করতে পারে, সংসদ ও সরকারে ঠাঁই দিতে পারে; তাহলে মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বাঘা সিদ্দিকী খ্যাত যার বুকের ভিতরে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু জিগির, যিনি ৭৫ এর পর পিতৃহত্যার বদলা নিতে প্রতিরোধ যুদ্ধে গিয়েছিলেন, তাকে বুকে টানতে পারে না? একটি আসনের জন্য যদি জামায়াত নেতার কন্যাকে মহিলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে ঠাঁই দিতে হয়, তাহলে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে কাটানো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ৭০ হাজার ভোট পাওয়া টাঙ্গাইলের মুরাদ সিদ্দিকীকে দলের প্রার্থী করতে পারে না?

ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির দুঃসময়ের সাথী মোস্তফা মরশিদ মন্টুকে ফিরিয়ে নিতে পারে না? সাবেক ডাকসু ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, মাহমুদুর রহমান মান্নাদের ক্ষমা করে দলে জায়গা দিতে পারে না? এই বিষয়গুলো বুঝতে পারি না। মুক্তিযুুদ্ধের পক্ষের বাইরে থাকা আদর্শিক দল সিপিবি-বাসদকে মহাজোটে এনে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ নিতে আবারো গণজাগরণ ঘটাবার ডাক দিতে পারে না? তৃণমূলে আওয়ামী লীগের মধ্যে নেতৃত্বের লড়াই বিভিন্ন স্থানে যে বিভক্তি এনেছে, সেটি মিমাংসা কেন করতে পারে না?

এক বগুড়ায় মধ্যযুগীয় বর্বরতায় ধর্ষক তুফান সরকার দলের জন্য সারা দেশে যে ঝড় তুলেছে এই ধরণের সারাদেশে রাতারাতি ক্ষমতার ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে মাফিয়া হয়ে উঠা অসৎ শক্তিকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে সাদামনের মানুষদের, দলের আদর্শিক কর্মীদের তুলে আনতে পারে না। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলছেন, তুফান আওয়ামী লীগের কেউ নয়। গঠনতান্ত্রিকভাবে এটি গ্রহণযোগ্য হলেও রাজনৈতিকভাবে খোলা চোখে মানুষ মনে করে শ্রমিক লীগ আওয়ামী লীগের। এই তুফান সরকার কেমন করে বগুড়া শ্রমিক লীগের নেতা হয়? তার ভাই মতিন সরকার কেমন করে যুবলীগের নেতা হয়? কেমন করে দেশে সুশাসন থাকলে তারা মাদক সাম্রাজ্যের অধিপতি হয়? কাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে সারাদেশে এই ধরণের বিতর্কিতরা শেখ হাসিনার উন্নয়নকে ধূসর করে দেয়? বঙ্গবন্ধু কন্যার এ্যারাবিয়ান ব্ল্যাক হর্সের মতো ছুটে চলাকে থামিয়ে দেয়?

পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা জাতির জনকের খুনিদের ও একাত্তরের ঘাতকদের ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন। তার সামনে স্বপ্ন আর একটি। সেটি হচ্ছে-বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা অর্থাৎ একটি আধুনিক, উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশ গড়ার লড়াই করছেন তিনি। আদর্শহীন, সুবিধাবাদী, লুটেরা সিন্ডিকেট নিয়ে সেটি অর্জন কঠিন না সফল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে উপলব্ধি করতে হবে। বিএনপি নেতৃত্বকেও বুঝতে হবে, যারা দুই চোখে দেখেন তাদের মনে মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন, শেখ হাসিনার শাসনের চেয়ে খালেদা জিয়ার শাসন উত্তম হবে, সেই বিশ্বাস ও গ্যারান্টি কোথায়? এখনো জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ হয়নি। এখনো হাওয়া ভবনের কুশীলবরা দেশে বিদেশে বসে ভয় আর আতংকে তাড়া করে ফেরে। আর যাই হোক শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, গ্রেনেডের নেশায় আসক্তদের দমন করতে পেরেছেন।

নির্বাচনের অনেক বাকি। তিনি যদি যৌন বিকারগ্রস্ত ধর্ষক, লোভ, লালসার, ক্ষমতার উন্মাসিতকার নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন, তার প্রতি মানুষের আস্থার জায়গা অন্য উচ্চতায় যাবে।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে