আপডেট : ১৬ মে, ২০১৭ ১৩:২৭

খালেদা যাবেন জেলে, এরশাদ বিরোধী দলে!

পীর হাবিবুর রহমান
খালেদা যাবেন জেলে, এরশাদ বিরোধী দলে!

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন মডেলে হবে তা কেউ বলতে পারছেন না। এমনকি খোদ সরকারি দলের বড় বড় নেতারাও না। বিএনপি যতই জোরেশোরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিক না কেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের কথা বলুক কান কেন, মনস্তাত্বিক অস্থিরতা এবং অনিশ্চয়তা থেকে এখনো বের হতে পারছে না। বাইরে সরকারের পক্ষ থেকে যতই বলা হোক আগামী নির্বাচন সকল দলের অংশগ্রহণমূলক, প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হবে; পর্দার অন্তরালের হিসাব, আলাপ আলোচনা, জল্পনা-কল্পনা অন্যমাত্রায় উঠে গেছে। বলাবলি হচ্ছে, পর্দার আড়ালে নাকি আগামী নির্বাচনে কোন দল কত আসন পাবে; সেটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

এমনকি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে দেয়া দূরে থাক বিরোধী দলেও বসতে দেয়া হচ্ছে না। বলাবলি হচ্ছে, জিয়া আরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনের আগেই দণ্ডিত হয়ে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হতে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে তাকে জেল জীবন ভোগ করতে হবে। অনেকে মনে করেন, কারাগারে নেয়া হলে বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা অনেক বাড়বে। কিন্তু শাসক জোটের অনেকের ভাষায়, জনপ্রিয়তা বাড়লেও বিএনপি সেটিকে ক্যাশ করে কোনো গণ আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে না। মামলার জালে আটকা নেতাকর্মীরা এমনিতেই দিশেহারা। তাদের ভাষায়, খালেদা জিয়া দণ্ডিত হয়ে জেলে গেলে, নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হলে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এক্ষেত্রে বিএনপির মূল স্রোত নির্বাচন বর্জন করুক কিন্তু খন্ডিত অংশ ভোটযুদ্ধে অংশ নিবে।

বিএনপির পুরোটাও যদি ভোটে অংশগ্রহণ করে তবুও সুফল ঘরে তুলতে পারবে না। এক্ষেত্রে যে আসন তারা লাভ করবে তাতে সংসদে তৃতীয় দলের সারিতে চলে যাবে। সরকারে থাকবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, বিরোধী দলেও থাকবে স্বপক্ষের শক্তি। এই দর্শন নিয়ে বিগত ১ বছর ধরে রাজনীতির অন্দরে যারা কথা বলছিলেন, ভাবছিলেন তাদের অনেকেই এখন সফল হবার পথে। এক্ষেত্রে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে বিরোধী দলের আসনে বসাতে চান তারা। এরশাদ নামস্ববর্স দলগুলো নিয়ে একটি জোট করেছেন, যেখানে আরো কিছু ইসলামী দল যুক্ত হবে। ধর্মভিত্তিক যে ভোট বিএনপির দিকে বরাবর ঝুঁকে তাদের একাংশকে টানতেই এরশাদ এখন পথ হাঁটছেন।

এতে করে রাজনীতির অন্তরমহল থেকে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে যে ছক উঠে আসছে, তাতে বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে ও এরশাদকেই বিরোধী দলের নেতা করার ভোটের দিকে দেশের রাজনীতি অগ্রসর হচ্ছে।

পর্যবেক্ষকদের এতসব জল্পনা-কল্পনার পরও দৃষ্টি রয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ও আন্তর্জাতিক মহলের দিকে। তারা মনে করেন, আন্তর্জাতিক মহল চাইবে, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সেক্ষেত্রে চলমান ছক উল্টেও যেতে পারে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নামের দলটি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পরবর্তীতে তার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দীর্ঘ সংগ্রামের পথ হেঁটেছে।

শেখ হাসিনা পরিষ্কার বলেছেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন আর হচ্ছে না। আগামী নির্বাচন হবে সকল দলের অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ। দলের জনপ্রিয় প্রার্থীদেরকেই ব্যালট বিপ্লবে জয়ী হতে মনোনয়ন দেবার কথা বলছেন। এতে অনেকে মনে করছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ পর্যন্ত জেলে না পাঠিয়ে নির্বাচনের সুযোগ দিতেও পারেন। এমনকি, তার অধীনে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে বসতে পারেন। কারণ তার হাতেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার জন্য ব্যাপক উন্নয়নের ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির রেকর্ড গড়ার টার্মকার্ড রয়েছে।

শেষ পর্যন্ত নাটকের শেষ অংক কিভাবে টানা হয়, সেটি দেখার অনেক বাকি রয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকদের ভাষায়, এদেশের মানুষ বরাবর গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ, সুশাসন, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন দেখতে চেয়েছে। সুমহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, শোষণমুক্ত দেখা সমাজের স্বপ্ন এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই সেটি পূরণ করতে হবে।
 

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে