আপডেট : ২৭ এপ্রিল, ২০১৬ ১৮:২৫

‘লিডার’ নেই আজ ১১ বছর

আহমেদ নূর
‘লিডার’ নেই আজ ১১ বছর

আধুনিক বিশ্বে এরিস্টটলকে বলা হয় রাষ্ট্র বিজ্ঞানের জনক। রাজনীতির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘উৎকৃষ্ট জীবন লাভের জন্য কোনো সমাজের সংগ্রামের নামই রাজনীতি।’ স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে- তাহলে নেতা কে? রাজনীতি করলেই কী নেতা হওয়া যায়?

রাজনীতি করলেই সবাই নেতা হয়ে যান না। নেতা হতে হলে প্রয়োজন বিশেষ যোগ্যতার। থাকতে হয় নেতৃত্ব দেওয়ার আদর্শ গুণাবলি। জনগণের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, আবেগী বুদ্ধিমত্তা সর্বোপরি মানুষকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করতে পারার সক্ষমতা থাকতে হয় একজন নেতার। যিনি সার্থকভাবে এসব করতে পারেন, যে রাজনীতিক মাটি ও মানুষের কাছাকাছি গিয়ে কান পেতে তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনতে পারেন, প্রয়োজনে বুকে টেনে নিতে পারেন তিনিই তো নেতা।

এমনই একজন জননেতা মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যিনি ব্যক্তি রাজনীতিক থেকে পরিণত হয়েছিলেন এক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে। সমুদ্রের মতো বিশাল তাঁর কর্মপরিধি। আব্দুস সামাদ আজাদ একটি নাম, একটি ইতিহাস। মানুষের কাছে আপন আলোয় উদ্ভাসিত এক ত্রিকালদর্শী রাজনীতিবিদ। আজ তাঁর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল ৮৩ বছর বয়সে তিনি মারা যান।

আব্দুস সামাদ আজাদ আমাকে এমনভাবে মুগ্ধ করেছিলেন যে, তাঁর দলের রাজনীতি না করলেও আমি তাঁকে ‘লিডার’ বলে সম্বোধন করতাম। তিনিও আমাকে কখনও ‘আপনি’ কখনও ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করতেন। আব্দুস সামাদ আজাদের সাথে ঘনিষ্ঠতার দিনগুলো আমার জীবনের এক বড়ো সঞ্চয়। তাঁর মতো নেতার সান্নিধ্য পাওয়া সৌভাগ্যের বলেও মনে করি। তিনি ছিলেন একজন আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ। তাই তাঁকে ‘লিডার’ বলে সম্বোধন করতে কখনও কুণ্ঠাবোধ করিনি। যদিও জীবনে আর কাউকে লিডার ডাকতে পারিনি কিংবা ডাকার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। ভবিষ্যতে আর কবে তাঁর মতো নেতা এ দেশ কিংবা সিলেটবাসী পাবে আমি জানি না। জীবনে আর কাউকে লিডার ডাকার সুযোগ পাবো এমনটিও মনে হয় না।

শুধু আমার কথাই বলি কেন? যারা এখন রাজনীতির মাঠে টগবগে যুবক তারা কী লিডার ডাকার মতো কাউকে খুঁজে পাবে? মনে হয় না। চোখ বন্ধ করে অন্তর্দৃষ্টি যতদূর নিয়ে যাওয়া যায় তাতে এমন কারও অবয়ব দেখতে পাই না। সময়ের ব্যবধানে হয়ত অনেক পদবীধারী নেতা পাওয়া যাবে কিন্তু সত্যিকারের ‘লিডার’ পাওয়া যাবে কি? সেই রকম নেতার পায়ের আওয়াজ কই? কোথায় সেই মাটি ও মানুষের রাজনীতিক? আব্দুস সামাদ আজাদের মতো- রাজনীতিকে নিয়ে ‘রাজনীতি-রাজনীতি’ খেলা খেলতে পারেন এমন নেতা চোখে পড়ে কি?

অন্তত আমার চোখে পড়ে না। কারণ আমি বিশ্বাস করি তাঁর জন্মই হয়েছিল রাজনীতির জন্য। আর তিনি শুধু রাজনীতিক ছিলেন না- তিনি ছিলেন এক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। তাই আজকে যারা রাজনীতি করছেন কিংবা আগামী দিনে যারা রাজনীতি করবেন তাদের জন্য আব্দুস সামাদ আজাদ অবশ্যই পাঠ্য বলে মনে করি। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ঐকতান’ কবিতায় বলেছিলেন, ‘কৃষাণের জীবনের শরীক যে জন,/ কর্মে ও কথায় সত্য আত্মীয়তা করেছে অর্জন,/ যে আছে মাটির কাছাকাছি,/ সে কবির বাণী লাগি কান পেতে আছি।’ আব্দুস সামাদ আজাদের মতো আরেকজন নেতা পাওয়ার জন্য সিলেটবাসী কিংবা দেশের মানুষকে কতকাল কান পেতে থাকতে হবে কে জানে।

লেখক: সাংবাদিক

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে