আপডেট : ২৬ এপ্রিল, ২০১৬ ১২:৩৮

ভুল বুদ্ধিজীবীতার খপ্পরে

সালাহ উদ্দিন শুভ্র
ভুল বুদ্ধিজীবীতার খপ্পরে

খুন-খারাপির পর অ্যাক্টিভিস্টদের মতামতে কিছু পজিটিভ চেঞ্জ আসছে খেয়াল করলাম। এখন কিলার আর ভিক্টিমের আদর্শ খোঁজার চাইতে খুনের বিচারে সরকাররে দায়িত্বশীল কইরা তোলার টেন্ডেন্সি বাড়ছে। দো ইট কসটস সাম লাইফ। তারপরো পলিটিক্যাল, লোকাল, ইসলামিস্ট লাইফগুলার ক্ষেত্রে এই বিচার বলবৎ থাকবে কিনা নট শিওর। ইউপি নির্বাচনে প্রায় ৪৫ জন মানুষ মরার ঘটনা নিয়া সমাজের তেমন হেলদোল নাই দেখে বললাম আরকি। তাছাড়া এই মেথডে এখনো অনেকে একমত হন নাই। তারপরও একটা চোখে পড়ার মতো চেঞ্জ তো ঘটছেই। তবে এর একটা ঘোরতর সমস্যাও আছে।

আমি মনে করি না সব খুনের দায় সবাইরে নিতে হবে। মানুষের একটা কমিউনিটি ফিলিং থাকে। নিজের জাতের মরনে তার অধিক ব্যাথা জাগে। অন্য গোষ্ঠীর মরনে সে সতর্ক বা সহানুভূতিশীল হয়। দ্যাটস বেটার। বাট অপর গোষ্ঠীর প্রতি তার বিদ্বেষ, ঘৃণা, দমনেচ্ছা তার স্বধীনতা বহির্ভূত কাজ। নিজের গোষ্ঠীর কারুর খুনের বিচার চাইতে সে সোশ্যালি বাধ্য থাকে। কিন্তু অন্য গ্রুপের কেউ খুন হইলে সেই বিচার চাওয়া বা বাস্তবায়নের বিষয়ে সে স্বাধীন। তবে অন্য গ্রুপের অনিষ্ট সাধন তার সীমা লঙ্ঘন। সীমা লঙ্ঘনকারীকে আল্লাহ পছন্দ করেন না।

ইহকালে খুনের বিচার করবে সরকার- এই কমন ল-তে আশা মানে সব গোষ্ঠি, মত বা আদর্শের এক লগে মিল্লাঝিল্লা থাকার সু-বন্দোবস্ত করা। সব মরন সবার বলার মধ্য দিয়া পলিটিক্যাল গিমিক থাকতে পারে। অথবা যিনি বলেন তিনি বুদ্ধিজীবীতা ফলান। কিন্তু সমাজের উপরে এই নৈতিক চাপ তৈরির ফলাফল নেগেটিভ। এতে কে যথেষ্ট নৈতিক না তার একটা মানসিক বিচার শুরু হয়ে যায়। অন্তত ঐ বুদ্ধিজীবী যে সমাজে তার বুঝ দিয়া না-মানাদের চাইতে আগায়া আছেন সেটা তিনি পরিষ্কার কইরা রাখতে চান। নইলে তিনি বুদ্ধিজীবী হইবেন কি করিয়া।

নিরপেক্ষতা একটা ভান মাত্র। এটা কোনো সমাধান না। এটা মানুষের শুভ ইচ্ছা (অবশ্যই কলোনিয়াল, ভিক্টোরিয়ান) নিয়া বাণিজ্য করা। বুদ্ধিজীবীতার এই খপ্পরে আমাদের পড়তে যাইতে হইতেছে। যে যার দল অথবা স্বার্থ আড়াল কইরা নিরপেক্ষতার পোশাক পড়বে কিছুদিন। সময়ে সময়ে উর্দির নিচ থিকা অস্ত্রটা বাইর করে ঘাই দিবে ঠিক ঠিক প্রতিপক্ষরে। কিন্তু সমাজে যেহেতু তিনি নিরপেক্ষ ফলে তার দোষ ধরা পড়বে না সহজে।

এখন সমাজ যাদের বুদ্ধিজীবী মাইনা চলে তারাও একসময় এসব স্ট্যান্টবাজি করে গেছে। তাদের প্রতিভা যথেষ্ট না থাকা সত্ত্বেও মানুষের ভালো কিছুর ইচ্ছার ব্যাপারী হয়ে তারা ভালো কামাই করছেন। কিন্তু সমাজের অবস্থা এখন খারাপ। ফলে পুরাতন বুদ্ধিজীবীদের দিয়া আর চলতেছে না। নতুন বুদ্ধিজীবীর দরকার হয়ে পড়ছে। নতুনরাও দেখি সেই নৈতিকতা, প্রতিমপনা, আমরা সবাই একই মায়ের সন্তান তত্ত্ব নিয়া আগাইতেছেন। এটাও ভুল পথ।

অন্যা যেকোনো মায়ের সন্তানেরে অ্যাসথেটিক্যালি, ফিলসফিক্যালি, ইডিওলজিক্যালি মাইনা নেওয়ার সম্ভাবনা ফলে কম এই সমাজে। একই মায়েরে মা না ডাকলে তার অস্তিত্বই নাই প্রায়।

এই ভুল বুদ্ধিজীবীতার খপ্পরে যেন সব সমাজ না পড়ে। এই কামনায় রাইত দেড়টার স্ট্যাটাস..

লেখক: সাংবাদিক, দার্শনিক, সমালোচক, সমসাময়িক লেখক (লেখাটি লেখকের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া)

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে