আপডেট : ২৮ মে, ২০১৬ ২০:২২

গ্ল্যামার জগতের আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার

ক্যারিয়ার
গ্ল্যামার জগতের আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার

ফ্যাশনের পিঠে ভর দিয়ে চলে তারুণ্য। তাছাড়া ফ্যাশন দুনিয়ার খ্যাতি, অর্থবিত্ত আর সৃজনশীলতার মূল্যায়ন দেখে অনেকেই এটিকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে চান। গ্গ্ন্যামার দুনিয়ায় রুটি-রুজি করে নিতে চাইলে হয় মডেল, নয় ডাকসাইটে ডিজাইনার হতে হবে_ এমন নয়। ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির পরিধি বিশাল। শুধু মডেল আর ডিজাইনার নয়, এখানে রয়েছে আরও অনেক পেশা। ধরা যাক আপনি সৃজনশীল, আর তুখোড় ফ্যাশন সেন্সের। ব্যস, আগ্রহ থাকলে এ ইন্ডাস্ট্রির যে কোনো একটি জায়গায় নিজের অবস্থান তৈরি করে নিতে পারবেন।

স্টেজের ওপরঃ

সুন্দর নয়, চাই ফটোজেনিক চেহারা। ছিমছাম পরিষ্কার একটা বডি শেপ না থাকলেও সমস্যা নেই, জিমের ট্রেইনার আর নিউট্রিশনিস্ট ঠিক করিয়ে দেবেন। তার পর চুল স্কিন আর পোশাক দিয়ে গ্রুমিং করতে কতক্ষণ? এরপর ইন্ডাস্ট্রিতে ঢুকবেন কী করে? প্রথমেই ভালো ফটোগ্রাফারকে দিয়ে চোখ ধাঁধানো একটা পোর্টফোলিও বানিয়ে নিতে হবে। তারপর উপায় দুটি। নিজে চেষ্টা করা কিংবা কোনো প্ল্যাটফর্মের সাহায্য নেওয়া। প্ল্যাটফর্ম বলতে বিউটি কনটেস্ট। সেখানে একবার ঢুকে কয়েকটা রাউন্ড পেরিয়ে নিলে দেখবেন, মডেল কো-অর্ডিনেটর আর স্পন্সরদের মধ্যে আপনার নাম ছড়িয়ে গেছে। কনটেস্ট জিতুন আর হারুন, মোবাইলে কিংবা ফেসবুকের ইনবক্সে অ্যাসাইনমেন্ট লাইন দিয়ে অপেক্ষা করবে! দ্বিতীয় রাস্তাটা কিন্তু নিজে করে নিতে হবে। অর্থাৎ ফ্যাশন হাউসগুলোয় ছবি পাঠাতে শুরু করুন। তবে পেশাদার মডেল হতে কিন্তু কিছু বিশেষ পোজ, র‌্যাম্পের ক্ষেত্রে ক্যাটওয়াক চাল- এসব রপ্ত করা দরকার। এ জন্য ঢাকায় অনেক ক্র্যাশ কোর্স বা মডেলিং স্কুল পাবেন।

ডিজাইনারঃ

ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের ক্ষেত্রটা খুব বড়। পোশাক ছাড়াও শো, অ্যাকসেসরিজ ডিজাইনিংয়ের ফিল্ডগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত। এ দুনিয়ায় আসতে গেলে সবার আগে প্রয়োজন টেক্সটাইল ডিজাইন, লেদার ডিজাইন, জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি ডিজাইনিং বা নিটওয়্যার ডিজাইনে একটা ব্যাচেলর ডিগ্রি। মনে রাখা দরকার, সত্যিকারের ডিজাইনার বানানো কিন্তু শিক্ষকদের কাজ নয়। তারা কেবল গাইড করতে পারেন। যিনি ডিজাইনার হওয়ার প্রতিভা রাখেন, তাদের কাজে প্রাণ আসে। তাই কেবল গ্গ্ন্যামার দুনিয়ার লোভে নয়, যদি বিষয়টির প্রতি আগ্রহ থাকে, তাহলেই তা পড়া যেতে পারে এ বিষয়ে।

কেবল অফবিট হওয়ার জন্যই নয়, যদি ডিজাইনিং পড়তে হয় তাহলে অবশ্যই ভাবনার ক্ষমতা নিয়েই আসতে হবে। তাহলেই আপনার ভবিষ্যৎ আর আটকায় কে! দেশের নামি ফ্যাশন ডিজাইনিং ইনস্টিটিউটগুলোয় ফাইনাল ইয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসিংয়ের বন্দোবস্ত থাকে। বেশিরভাগ নামি ডিজাইনার ব্র্যান্ড বা ফ্যাশন হাউসগুলোয় প্লেসমেন্ট পেয়ে যান। তবে আরও বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষাযুক্ত পড়ুয়ারা মুখিয়ে থাকেন অ্যানুয়াল ডিজাইনিং কম্পিটিশন, বিভিন্ন ফেস্ট বা প্রদর্শনীর জন্য। কারণ সেখানে খ্যাতনামা ডিজাইনার বা স্বপ্নের ব্র্যান্ডের কর্তাব্যক্তিরা সশরীরে উপস্থিত থাকেন। তখন নিজের ট্যালেন্টখানা হাতে-কলমে দেখিয়ে উঠতি বয়সেই তাদের গুডবুকে ঢুকে পড়ার সুযোগও মিলবে। মিলে যেতে পারে ড্রিম ডিজাইনারের অধীনে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ। পরে নিজস্ব ফ্যাশন বুটিক খোলার রাস্তাটা অনেকটা চওড়া হয়ে থাকবে।

স্টাইলিস্টঃ
'স্টাইলিস্ট' শব্দটা বলা যায় নতুন ঢুকেছে এ সেক্টরে। এ ফিল্ডটা ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সামান্য আলাদা। শুধু পোশাক-আশাক অর্থাৎ অ্যাকসেসরিজ নয়, গোটা লুকটা কেমন হবে, কীভাবে পোশাক পরবে, পুরোটা ছকে, জামা-কাপড় পরিয়ে, শরীরের ভাষাটা পর্যন্ত স্থির করে দেন এ স্টাইলিস্টকুল।

মেকআপ শিল্পীঃ

ফ্যাশন দুনিয়ার মেকআপ আর কেশবিন্যাস দুই-ই আলাদা, একটু নাটকীয়। যতই দাবি করুক, বিউটিশিয়ান সংস্থাগুলো কিন্তু এখনও হাতে ধরে এ বিষয়টি শিখিয়ে দিতে পারে না। তাই প্রশিক্ষণের সঙ্গেই প্রতিদিন ম্যাগাজিন ও নেট ঘেঁটে নতুন ধরনের মেলোড্রামাটিক মেকআপ বা কেশসজ্জা নিয়ে নিজেকে আপডেট করে রাখতে হবে। আর বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল বিউটি একাডেমি যেসব স্পেশালাইজড কোর্স করায়, তার কয়েকটা বায়োডাটায় জুড়ে নিলে ক্যারিয়ারের পথে অনেকটা এগিয়ে থাকবেন।

ফটোগ্রাফারঃ

ফ্যাশন ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। একটা প্রফেশনাল ডিগ্রি তো প্রাথমিক শর্ত। আলোর ব্যবহার, পোজ, সৌন্দর্যশিকারি চোখ তৈরি করতে সেরা উপায় কোনো দিকপাল ফ্যাশন ফটোগ্রাফারের সংস্পর্শে থাকা। অর্থাৎ নিজের তোলা ছবি পাঠিয়ে ইন্টার্নশিপের জন্য আবেদন করুন।

ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টঃ

ফ্যাশন দুনিয়া নিয়ে কাজ করে যে ইভেন্ট ফার্মগুলো সেখানেও কাজ করার সুযোগ প্রচুর। মডেল ও শো কো-অর্ডিনেটর, অ্যাঙ্কর, শো-ডিজাইনার [যার মাথা থেকে শোয়ের কনসেপ্ট বেরোবে], কোরিওগ্রাফার, লাইটিং অ্যান্ড সাউন্ড এক্সপার্ট, সেট আর্কিটেক্ট এসব পদে বাধা ধরা চাকরিও করতে পারেন কিংবা ফ্রিল্যান্সিংও।

দায়-দায়িত্বঃ

ফ্যাশন দেখে বোঝা যায় যুগের ভাষা ঠিক কী রকম। তাই এ যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে ফ্যাশন ডিজাইনিং ইন্ডাস্ট্রিতে দক্ষ জনশক্তির দাম। মনে রাখা দরকার, এটা তো ক্রিয়েটিভ ফিল্ড। সারাক্ষণ টি-২০ খেলতে হবে। প্রতি মুহূর্তে শরীর আর মাথা নিংড়ে সেরাটা উজাড় করে যেতে হবে। একবার ক্লান্ত বোধ করেছেন কি এক্সাইটমেন্টটি একটু হলেও নিভিয়েছেন, ব্যস ইউ আর গন ফরএভার। দারুণ আর নতুন আইডিয়ার ছয় আর চার মেরে যেতেই হবে। নইলে ড্রিমওয়ার্ল্ড থেকে আউট।

আরেকটা কথা মনে রাখা দরকার, ফ্যাশন দুনিয়ায় কাজ করলে আপনার আশপাশে থাকবেন সৃষ্টিশীল শিল্পী মানুষরা। খুঁত খুঁত করবেন, কিছুতে তৃপ্ত হবেন না, একটু ভুলচুকে আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে উঠতেও পারেন। তাদের সামলে চলা এই দুনিয়ায় সাফল্য পাওয়ার তুরুপের তাস। তাই চাই ম্যান ম্যানেজমেন্ট স্কিল। এটা এন্টারটেইনমেন্ট দুনিয়া। তাই মনের আরাম আছে কিন্তু আপনার কাজের কোনো বিরাম নেই। বেশিরভাগ শো-ই হবে সন্ধ্যায়। শুক্রবার ছুটির দিন। ১০ মিনিটের শো কিন্তু তার জন্য কয়েক মাস বিরামহীন পরিশ্রম করতে তৈরি থাকতে হবে। কাজ হয়তো সন্ধ্যা ৭টায়। কিন্তু কলটাইম থাকবে দুপুর ২টা। এটাই এ দুনিয়ার ওয়ার্ক কালচার ও টাইমিং সেন্স।

ব্যাকস্টেজে কাজ চাইলে, সারা শহরটা ঘুরতে হবে প্রতিদিন। জামা-কাপড় তুলতে-ফেরত দিতে, মডেলদের ড্রপ করতে কিংবা শোয়ের অন্য প্রয়োজনে। তারপর রাত গড়িয়ে শুরু হবে পারফরম্যান্স!

বিডিটাইমস৩৬৫/এএ

উপরে