আপডেট : ১৮ মে, ২০১৬ ২০:০৫

জিপিএ-৫ এর নিচে চাপা পড়ছে মেধাবীদের ব্যাংকার হওয়ার স্বপ্ন

অনলাইন ডেস্ক
জিপিএ-৫ এর নিচে চাপা পড়ছে মেধাবীদের ব্যাংকার হওয়ার স্বপ্ন

বর্তমানে চাকরির বাজারে নিয়োগ প্রত্যাশীদের কাছে আকর্ষণীয় খাত-বেসরকারি ব্যাংক। কিন্তু, ইদানিং নানা বৈষম্যমূলক শর্তের বেড়াজালে সেখানে সংকুচিত হচ্ছে মেধাবীদের চাকরির সুযোগ।

সম্প্রতি কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে, আবেদনের যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে,জিপিএ-ফাইভ! কিন্তু লাখ-লাখ শিক্ষার্থী আছেন, যারা এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-ফাইভ না পেলেও, উচ্চশিক্ষায় তাদের ফলাফল খুবই ভালো, তাদের প্রশ্ন-মেধা যাচাইয়ের মানদণ্ড কি শুধুই জিপিএ-৫! এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আহ্বান জানিয়েছে শিক্ষাবিদরা।

সম্প্রতি ট্রাস্ট ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি পদে আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে এসএসসি ও এইচএসসি-তে জিপিএ-৫ চাওয়া হয়। এর কিছুদিন পর একইভাবে সর্বোচ্চ জিপিএর বাধ্যবাধকতা দেয়, এক্সিম ব্যাংক, আল আরাফাহ, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স।

অথচ সমপদে সরকারি ব্যাংকে নিয়োগের ক্ষেত্রে চাওয়া হয় জিপিএ-৩। কেননা শিক্ষামন্ত্রণালয়ের ২০১০ সালের প্রজ্ঞাপনে মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকে জিপিএ-৩কেই প্রথম বিভাগের মান দেয়া হয়।

অনেক শিক্ষার্থী আছেন যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স- মাস্টার্স করেছেন। এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ না পেলেও, অনার্সে তাদের ফলাফল বেশ ভালো। কিন্তু, ব্যাংকগুলোর জিপিএ-৫ এর নয়া বাধ্যবাধকতায় বঞ্চিত তাদের মতো অসংখ্য চাকরি প্রত্যাশী।  

মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান। ২০০১ সালে এসএসসি পাশ করেছেন, যেবার সারা দেশে জিপিএ-৫ পায় মাত্র ৭৬ জন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজীতে অনার্স-মাস্টার্স করলেও, তার সব যোগ্যতা এখন হার মানছে জিপিএ পাঁচ এর কাছে। 
গত দু তিন বছরে জিপিএ-৫ ধারী যেসব শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেন, তাদের ৭০ শতাংশই পাশ নম্বর টুকু তুলতে পারেন নি। তাই, চাকরির ক্ষেত্রে জিপিএ পাঁচকেই একমাত্র মানদণ্ড মনে করেন না এই শিক্ষাবিদ।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, 'বেসরকারি ব্যাংকগুলো নিজস্ব নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করলেও, চাকুরির নিয়ম আরো উন্মুক্ত থাকাটাই ভালো।'

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৫ সালের জরিপ বলছে, দেশে শিক্ষিত বেকার ১ কোটি ৩০ লাখ। এই বাস্তবতায় চাকরি প্রত্যাশীরা চান, বৈষম্যমূলক নিয়ম আরোপ করে সুযোগের দার যেন আরো সংকুচিত করা না হয়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে