আপডেট : ২৩ আগস্ট, ২০১৬ ১২:০০

জাল টাকার ৭৬ ভাগই ১ হাজার টাকা

অনলাইন ডেস্ক
জাল টাকার ৭৬ ভাগই ১ হাজার টাকা

দেশে সবচেয়ে বেশি জাল হচ্ছে ১ হাজার টাকার নোট। জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে মোট ২০ হাজার ৭৯০টি জাল নোট ধরা পড়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে। এর মধ্যে ১ হাজার টাকার জাল নোট ছিল ১৫ হাজার ৭৮০টি। অর্থাৎ মোট ধরা পড়া জাল নোটের ৭৬ শতাংশই সবচেয়ে বড় এ নোট। বাকি ২৪ শতাংশ অন্যান্য নোট। এর মধ্যে আবার ৫০০ টাকার নোট বেশি। ১০০ টাকার নোট জাল হয় খুবই কম। বাকি নোটগুলো খুব একটা জাল হয় না। অবশ্য ৫০ টাকার নোট সীমিত আকারে জাল হতে দেখা যায়।

সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ১ হাজার টাকার নোট বেশি জাল হওয়ার খবরে তারা অত্যন্ত আতঙ্কিত। কারণ কোনোভাবে একটি জাল নোট তাদের হাতে এসে পড়লে খুব ভোগান্তিতে পড়তে হয়। হিসাব মেলানোই কষ্টকর হয়ে পড়ে মাসিক ব্যয়ের। এ সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগেন স্বল্প আয়ের লোকজন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, বেশি মূল্যমানের নোট জাল করে তা চালিয়ে দিতে পারলে দুর্বৃত্তরা বেশি লাভবান হয়। এ জন্য বড় মানের নোটগুলো জাল করার প্রবণতা বেশি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সবসময়ই জাল নোট প্রতিরোধে সক্রিয় আছে। গ্রাহকদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে জাল নোটের প্রবণতা অনেক কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৫০০ টাকার জাল নোট ধরা পড়েছে ৩ হাজার ৮৯৩টি এবং ১০০ টাকার নোট ১ হাজার ১১৮টি। ৫০ টাকার জাল নোট ধরা পড়ে ৭২টি। ওই সময়ে অন্য কোনো মূল্যমানের জাল নোট ধরা পড়েনি। এসব ঘটনায় সারাদেশে মামলা হয়েছে ১১২টি। প্রতিটি মামলাতেই ১ হাজার টাকার নোট ধরা পড়ার উল্লেখ আছে। ৫০০ টাকার নোট ধরা পড়ার উল্লেখ আছে ৬৯টি মামলায় এবং ১০০ টাকার নোটের উল্লেখ আছে দুটি মামলায়। এদিকে চলতি বছর ৫০ টাকার কমমূল্যের কোনো জাল নোট ধরা না পড়লেও ২০১৫ সালে ১১০টি ৫ টাকার জাল নোট ধরা পড়ে।

সূত্র জানায়, বাজারে বর্তমানে ১ হাজার, ৫০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০, ৫ ও ২ টাকার নোট প্রচলিত আছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যমান ১ হাজার ও ৫০০ টাকার নোট জাল হয় সবচেয়ে বেশি।

বিভিন্ন সময় অপরাধীদের ধরে তাদের কাছ থেকে জাল নোট উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ছাড়া অপরাধীদের আটকের স্থান থেকেও অনেক সময় জাল নোট উদ্ধার করা হয়। দেশি-বিদেশি জাল নোট ধরা পড়ার পর ওই নোটের ধরন, বিস্তার ও উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। জানা গেছে, জাল নোটের বিস্তার রোধে সমন্বিত টাস্কফোর্স আছে। জাল নোট সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য পরস্পরের সঙ্গে আদান-প্রদান করতে কাজ করে এ টাস্কফোর্স।

প্রতিবারই মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব দুই ঈদ, বিশেষ করে ঈদুল আজহায় জাল নোটের বিস্তার ঘটানোর চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। বিভিন্ন জালিয়াত চক্র ১ হাজার ও ৫০০ টাকার নোট জাল করে বাজারে ছাড়ে। এরই মধ্যে বিভিন্ন বাজার ও পাবলিক পরিবহনে জাল নোট ধরাও পড়েছে। এসব নোটের বেশির ভাগ ১ হাজার টাকার। এ জন্য ১ হাজার টাকার নোট নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা খুব সতর্ক এখন। এ ছাড়া বড় বড় ব্যবসায়ীও এগুলো খুব সতর্কতার সঙ্গে নিচ্ছেন। কোথাও কোথাও ৫০০ টাকার নোট নিতেও অতি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। গত বুধবার মোহাম্মদপুর-মতিঝিল রুটে চলাচলকারী সিটি বাসে একজন ভাড়া আদায়কারী জানান, দুদিন আগে ৫০০ টাকার একটি জাল নোট পেয়েছি। আমি বুঝতে পারিনি। পরে জানতে পারি এটি জাল। এখন মালিক বলে দিয়েছেন, সামান্য ভাড়ার জন্য ৫০০ টাকার নোট না নিতে।

জাল নোট প্রতিরোধের বিভিন্ন উপায় নিয়ে কার্যরত বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কারেন্সি টেকনোলজির (আইআইসিটি) মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এবিএম তায়েফুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, ঈদ বা অন্যান্য বড় উৎসবের সময় জাল নোটের কারবারিরা বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। বেশি মূল্যমানের নোট জাল করার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ১ হাজার বা ৫০০ টাকার নোট জাল করার এই প্রবণতা গ্রাহকদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/সেন

 

 

 

উপরে