আপডেট : ২৪ মে, ২০১৬ ০৮:০৬

রোজার আগেই জমে উঠছে ফলের বাজার

বিডিটাইমস ডেস্ক
রোজার আগেই জমে উঠছে ফলের বাজার

কয়েক দিন পরেই পবিত্র মাহে রমজান। এই মাসে রোজাদাররা ইফতারে দেশি রসালো ফলে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। এবার রোজা ও মধুমাস একই সময়ে হওয়ায় পর্যাপ্ত ফলের সরবরাহ থাকবে বাজারে। এ কারণে দামও থাকবে সবার নাগালের মধ্যে। ব্যবসায়ীদের আশা, আসন্ন রোজায় স্বস্তিতেই রসালো দেশি ফল দিয়ে ইফতারি সারবে রোজদাররা। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ফল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

রাজধানীর ফলের আড়ত এবং বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মৌসুমি ফলে ভরপুর হয়ে উঠেছে বাজারগুলো। ফুটপাথ থেকে শুরু করে বড় বড় সুপারস্টোরগুলো এখন বৈচিত্র্যময় ফলে সাজানো। বাজারগুলো আম, কাঁঠাল, জাম, লিচু, তরমুজ, আনারসসহ নানা জাতের মৌসুমি ফলে ভরপুর। ইতিমধ্যে বাজারে চলে এসেছে ক্ষণিকের অতিথি লিচু, জামরুল, ডালিম, লটকন, খেজুর, অরবরইসহ নানা জাতের ফল। পাকা তাল না পাওয়া গেলেও বাজার এখন ভরে গেছে কাঁচা তালে। অনেকেরই প্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে কাঁচা তালের শাঁস।

রাজধানীর ফলের আড়ত বাদামতলী ও ওয়াইজঘাটে বিভিন্ন আকারের তরমুজ প্রতি ১০০টি আকার ভেদে  বিক্রি করা হচ্ছে পাঁচ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকায়। মেসার্স ওয়াইজঘাট ফার্মের স্বত্বাধিকারী মো. খোকন মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁদের আড়তে ছোট থেকে বড় চার ধরনের তরমুজ বিক্রি হয়। এসব বিক্রি হচ্ছে ২২ হাজার, ১২ হাজার, আট হাজার এবং পাঁচ হাজার টাকা ১০০টি হিসাবে। এসব তরমুজের বড় অংশ আসে দেশের ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ এবং ভোলা ও পটুয়াখালীর গলাচিপা অঞ্চল থেকে। 

আসন্ন রমজানে দেশি ফল ভোক্তাদের ক্রয়সীমার মধ্যে থাকবে বলে জানালেন খোকন মিয়া। এ আড়তদার বলেন, সামনের রোজা ও মৌসুমি ফলের মৌসুম একই সময়ে হওয়ায় বাজারে দেশি ফলের কোনো অভাব হবে না। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকবে বলে ভোক্তারাও ফল খাবে ন্যায্য দামেই।

আমের বাজারের খোঁজ নিতে রাজধানীর বাদামতলীর আড়তে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি আম বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৫০ টাকায়, হিমসাগর ৫০-৫৫ টাকায়, লেংড়া আম ৫০-৫৫ টাকায়, গোপালভোগ ৪০-৪৫ টাকায় ও গুটি আম ২৫-৩০ টাকায়। তবে একই আম রাজধানীর বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা যায় ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজাধানীর শান্তিনগরের আম ব্যবসায়ী মো. মিজান মুফতি কালের বলেন, তাঁরা গোপালভোগ আম বিক্রি করছেন ১০০ টাকা, হিমসাগর ১২০ টাকা, লেংড়া ১০০-১১০ টাকা ও আম্রপালি ১২০ টাকায়।

দেশি ফলের সঙ্গে বিদেশি ফলেরও আধিক্য রয়েছে বাজারে। দেশি মৌসুমি ফল আসার আগেই বাজারে এসেছে ভারতীয় হলুদ রঙের পাকা আম গোলাপখাস, খিরসা, লালমণি প্রভৃতি। মিষ্টি স্বাদের এই আম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। এ ছাড়া থাইল্যান্ডের লম্বা পাকা আম পাওয়া যাচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়।

আনারসের বাজারেও সরবরাহের অভাব নেই। বাদামতলীর আড়তে গিয়ে দেখা যায়, রাঙামাটির আনারসে ভরপুর। আড়তদাররা এসব আনারস বিক্রি করছে আকার ভেদে ছয় থেকে ২৫ টাকায়।

আড়তদার মোশারফ মিয়া জানান, তাঁর আড়তে তিন আকারের আনারস আছে। এগুলোর প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা, ১০-১৫ টাকা ও ছয়-আট টাকায়। তবে রাজধানীর বাজারগুলোতে এসব আনারস বিক্রি হয় ২০-৫০ টাকায়। আড়তে লিচু ২৫০-২৭০ টাকায় বিক্রি হলেও রাজধানীর খুচরা বাজারে মৌসুমি এ ফলটি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪০০ টাকায় শ হিসাবে। তবে দিনাজপুরের বেদানা লিচু বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকা শ হিসাবে। রসে ভরা জামও এবার বাজারে এসেছে খুব কম সময়ের মধ্যে। ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে জাম। জাতীয় ফল পুষ্টিসমৃদ্ধ কাঁঠাল পাওয়া যাচ্ছে আকার ভেদে ২৫০-৪০০ টাকায়। 

ইফতারের অন্যতম প্রধান পণ্য খেজুর। দেশে একসময় শুধু রোজা উপলক্ষে খেজুর আমদানি করা হলেও বর্তমানে বাজারে চাহিদা থাকায় সারা বছরই খেজুর আমদানি করা হয়। ফলে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে বাজারে। সব শ্রেণির মানুষের জন্য প্রকার ও মান ভেদে রয়েছে নানা ধরনের খেজুর। বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৬০ থেকে এক হাজার টাকায়। এর মধ্যে রয়েছে মরিয়ম খেজুর ৮০০-১০০০ টাকা, তিউনিসিয়ার খেজুর ৪০০-৫০০ টাকা, মদিনা খেজুর ২০০-২৫০, ইরানি খেজুর ১০০-১২০ টাকা এবং বস্তা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। 

রমজানে ইফতারিতে দেশি নানা জাতের কলারও বেশ চাহিদা থাকে। গত রবিবার রাজধানীর ওয়াইজঘাটের কলা আড়তদার আবদুস সাত্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, সব ধরনের কলারই এখন রাজধানীতে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। রমজানে কলার চাহিদা দ্বিগুণ হলেও সরবরাহে কোনো ঘাটতি থাকবে না। এ ছাড়া দামও থাকবে নাগালের মধ্যে। তিনি বলেন, ‘আড়তে আমরা প্রকার ভেদে এক পোন (৮০টি) কলা বিক্রি করছি ২০০-৮০০ টাকা। প্রতিটি কলা তিন থেকে ছয় টাকা পড়বে। বিভিন্ন ধরনের কলার মধ্যে রয়েছে সাগর কলা, শবরী কলা, বাংলা কলা, চম্পা কলা, নেপালি কলা ইত্যাদি। তবে আবহাওয়া খারাপের কারণে ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। কলা পচনশীল পণ্য বলে এক দিন আড়তে থেকে গেলেই দাম কমে যায়, আবার ক্রেতারা নিতে চায় না।’

সূত্র-কালের কণ্ঠ

জেডএম

উপরে