আপডেট : ২০ এপ্রিল, ২০১৬ ১০:২৫

২৯ বিলিয়ন ডলার ছুঁই ছুঁই রিজার্ভ, হ্যাকিং এর প্রভাব পড়েনি

২৯ বিলিয়ন ডলার ছুঁই ছুঁই রিজার্ভ, হ্যাকিং এর প্রভাব পড়েনি

হ্যাকিংয়ে অর্থ খোয়া যাওয়ার ঘটনার ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে পড়েছে বাংলাদেশে ব্যাংক।এর মধ্যেই সুখবর আসল। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন ২৯ বিলিয়ন (২ হাজার ৯০০ কোটি) ডলার ছুঁই ছুঁই করছে।মঙ্গলবার দিন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৮ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।চলতি মাসের শেষের দিকে এই রিজার্ভ ২৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং আমদানিতে ধীরগতির কারণে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষক জায়েদ বখত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, “বেশ কিছুদিন ধরেই রিজার্ভ বাড়ছে। রিজার্ভ থেকে অর্থ খোয়া যাওয়ার ঘটনা এক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়েনি।”

যে অর্থ খোয়া গিয়েছিল, তা কি রিজার্ভের হিসাব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, না কি অন্তর্ভুক্ত আছে- এ প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি উত্তর এড়িয়ে শুভঙ্কর সাহা বলেন, “পৃথিবীর সব দেশই ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএফআরএস) অনুসরণ করে রিজার্ভের হিসাব করা হয়ে থাকে। আমরাও সেটাই অনুসরণ করছি।”

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক জায়েদ বলেন, “এই ঘটনায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে ঠিক। কিন্তু রিজার্ভে কোনো প্রভাব পড়েনি। আর যে টাকা চলে গেছে, তার পরিমাণও খুব বেশি নয়।

“রপ্তানি আয় বাড়ছে। রেমিটেন্স আসছে…। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল এবং খাদ্যপণ্যের দাম কমায় আমদানিতে খরচ কমছে। স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে রিজার্ভ।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ২৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়।

মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের পর তা কমে যায়। পরে তা আবার ২৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়।

মার্চ-এপ্রিল মেয়াদের আকুর বিল মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পরিশোধ করতে হবে। তার আগেই রিজার্ভ ২৯ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

আকুর সদস্যভুক্ত দেশগুলো থেকে আমদানি করা পণ্যের বিল এক সঙ্গে দুই মাস পর পরিশোধ করা হয়ে থাকে।

আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের শেষদিকে বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন এক বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। এরপর বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন রিজার্ভে ছিল ১ বিলিয়ন ডলারের সামান্য বেশি।

জেডএম

উপরে