আপডেট : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:০৪

যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন রেখা!

অনলাইন ডেস্ক
যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন রেখা!

আশির দশকের পর্দা কাঁপানো বলিউড অভিনেত্রী রেখাকে এখনো বলা হয়ে থাকে ‘বলিউডের দেবী’। কিন্তু, ক্যারিয়ারের শুরুতেই যে যৌন হয়রানির মতো ঘটনার শিকার হতে হয়েছিল এই তারকাকে- সেকথা ক’জনই বা জানেন? 

রেখার সিনেমা জীবনের মতোই তার ব্যক্তিগত জীবনকে ঘিরে রয়েছে অনেক রহস্যের জাল। এখনো সে রহস্য পুরোটা জানতে পারেননি তার ভক্তরা। সম্প্রতি ভারতীয় লেখক ইয়াসির উসমানের লেখনীতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠলো রেখার জীবনের সেই অজানা অধ্যায়। আর সেখানেই উঠে এসেছে এই ভয়ঙ্কর তথ্য।

বইটিতে বলিউডে অভিষেক থেকে শুরু করে প্রেম, বিয়ে, বিচ্ছেদ, সাবেক স্বামীর মৃত্যু ও অমিতাভের সাথে তার সম্পর্ক- ইত্যাদি নানা স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন রেখা। মুম্বাই ফিল্ম ইন্ড্রাস্টির নানা আজানা ও ভয়াবহ ঘটনাও উঠে এসেছে এ বইটিতে।

ইন্ডিয়া টুডে জানায়, মাত্র ১৫ বছর বয়সে বলিউডে পা রাখেন রেখা। প্রথম ছবি ‘আনজানা সাফার’-এর সেটে এসেই হেনস্থার মুখে পড়েন তিনি। প্রথম দৃশ্যটিই ছিল একটি চুম্বন দৃশ্য, যা অল্প বয়সী রেখার জন্য বেশ অস্বস্তিকর ছিল বৈকি।

কিন্তু সহঅভিনেতা বিশ্বজিৎ তাকে সাহায্য করার পরিবর্তে পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলেন। কোনো কথা না বলে রেখাকে হেঁচকা টানে বাহুলগ্না করে টানা পাঁচ মিনিট ধরে চুমু খেয়েছিলেন তিনি। ছবির কলাকুশরীরা সবাই চারপাশ থেকে চিৎকার করছিলো এবং চটুল মন্তব্য ছুঁড়ে দিচ্ছিলো তাদের উদ্দেশ্যে আর রেখার দু’চোখ বেয়ে ঝরে পড়ছিলো অশ্রু। এমনই এক যৌন হয়রানির মধ্য দিয়ে সিনে জগতে প্রবেশ এ তারকার।

রেখার প্রথম স্বামী ভিনোদ মেহরার সাথে প্রেম ও বিয়ের ঘটনার বর্ননাও আছে বইটিতে। বিয়ের পর শ্বশুর বাড়িতে নির্যাতনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়েছিলো রেখার জীবনে। ভালোবেসে বিয়ে করেছলেন ভিনোদ ও রেখা। কিন্তু এ বিয়ে মেনে নেয়নি ভিনোদের পরিবার।

মুম্বাইতে ভিনোদের বাড়িতে রেখাকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। তাকে সদর দরজায় দাঁড় করিয়ে রেখে অপমান করেছিলেন ভিনোদের মা। এমনকি জুতা নিয়ে রেখাকে মারতেও গিয়েছিলেন তিনি।

অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চনের জীবনে রেখাকে নিয়ে যে সংকট, সে সম্পর্কেও লেখা আছে এ বইতে।

১৯৮০ সালে নিতু সিং ও ঋষি কাপুরের বিয়ের অনুষ্ঠানে সিঁদুর ও মঙ্গলসূত্র পড়ে উপস্থিত হয়ে হৈচে বাধিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। সে সময় সদ্য বিবাহিতা অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চনের সাথে নিজ থেকে গিয়ে কথা বলতে শুরু করেন তিনি। এ সময় অমিতাভের কথিত প্রেমিকা হিসেবে জয়ার মনোকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ান রেখা। এক সময় রেখা ও অমিতাভের সামনে থেকে সরে আসেন জয়া। একটু পর মাথা নিচু করে চোখ মুছতে দেখা যায় জয়াকে।

রেখার দ্বিতীয় স্বামী মুকেশ আগারওয়াল-এর সঙ্গে তার প্রেম ও বিয়ে এবং পরবর্তীতে তাদের বিচ্ছেদ ও মুকেশের আত্মহত্যার ঘটনাও উঠে এসেছে বইটিতে।

রেখার সাথে বিচ্ছেদের শোক কাটিয়ে উঠতে না পেরেই আত্ম-হত্যা করেছিলো মুকেশ- এমনটাই সে সময় দাবি করেছিলো মুকেশের পরিবার। রেখার ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস নেওয়ার হৃদয় বিদারক ঘটনাটি মনে দাগ কেটেছিলো সবারই। এ সময় রেখার উপর ঘৃণা ও বিদ্বেষ প্রকাশ করেছিলো বলিউডের অনেকেই।

সুভাষ ঘাইয়ের মতো পরিচালক বলেছিলেন মুকেশ-এর আত্মহত্যার ঘটনাটি বলিউডকে কলঙ্কিত করেছে। এরপর বলিউড নায়িকাদেরকে কেউ আর ঘরের বউ করতে চাইবে না।

এ সময় অনেকেই মন্তব্য করেছিলেন এমন ঘটনার পর রেখাকে বলিউডের দেবী হিসেবে কেউ আর মেনে নেবে না। 

রেখার জীবনের নানা চড়াই-উৎরাই আর চমকপ্রদ সব ঘটনা নিয়ে বইটি সাজিয়েছেন লেখক ইয়াসির উসমান। বইটি প্রকাশ করেছে ভারতের ‘জাগারনাট’ প্রকাশনা সংস্থা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/সেন

 

 

উপরে