আপডেট : ২০ মার্চ, ২০১৬ ১৯:০১

খনার বচন

বিডিটাইমস ডেস্ক
খনার বচন

খনা ছিলেন জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী এক বাঙালী নারী। ধারণা করা হয় ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর কোন এক সময় তিনি চব্বিশ পরগণার বারাসাত মহকুমার দেউলি গ্রামে বসবাস করেছিলেন। তার রচিত ছড়াগুলোই খনার বচন নামে পরিচিত। খনার বচন মূলত কৃষিতত্ত্ব ভিত্তিক ছড়া।

অজস্র খনার বচন যুগ যুগান্তর ধরে গ্রাম বাংলার জন জীবনের সাথে মিশে আছে। আসুন আমরা জেনে নিই তার কয়েকটি বচন-

১.

ষোল চাষে মুলা, তার অর্ধেক তুলা; তার অর্ধেক ধান, বিনা চাষে পান।

(১৬দিন চাষ করার পর সেই জমিতে মূলা চাষ করলে ভাল জাতের ফলন পাওয়া যায়। তুলা লাগানোর জমিতে ৮দিন চাষ করতে হবে, ধানের জমিতে ৪দিন চাষ করে ধান লাগালে ভাল ফলন পাওয়া যায়। পানের জমিতে চাষের প্রয়োজন হয় না।

২.

কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড়, তাতেই ভাত।

(কলাগাছের ফলন শেষে গাছের গোড়া না কাটে যেন কৃষক, কেননা তাতেই সারা বছর ভাত-কাপড় জুটবে তাদের।)

৩.

যদি বর্ষে আগুনে, রাজা যায় মাগনে।

(আগুনে অর্থাৎ অগ্রাণে, আর, মাগুনে মানে ভিক্ষাবৃত্তির কথা বোঝাতে ব্যবহৃত, অর্থাৎ যদি অঘ্রাণে বৃষ্টিপাত হয়, তো, রাজারও ভিক্ষাবৃত্তির দশা, আকাল অবস্থায় পতিত হওয়াকে বোঝায়।)

৪.

যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্য রাজার পুণ্য দেশ।

(অর্থাৎ মাঘের শেষের বৃষ্টিপাতে রাজা ও দেশের কল্যাণ।)

৫.

আগে খাবে মায়ে, তবে পাবে পোয়ে।

৬.

পূর্ণিমা অমাবস্যায় যে ধরে হাল, তার দুঃখ হয় চিরকাল। তার বলদের হয় বাত, ঘরে তার থাকে না ভাত।

(পূর্ণিমা বা অমাবস্যায় হাল ধরা উচিত নয়, ধরলে চিরকাল দুঃখ পেতে হয়। বলদ বাত রোগে পঙ্গু হয়ে যায়, চাষ না করার ফলে ঘরে তার ভাত জোটে না।)

৭.

কোল পাতলা ডাগর গুছি, লক্ষ্মী বলেন ঐখানে আছি।

(ফাঁক ফাঁক করে ধান বুনলে ধানের গুছি মোটা হয় এবং অনেক বেশী ফলন হয়।)

৮.

দিনে রোদ রাতে জল দিন দিন বাড়ে ধানের বল।

(দিনের বেলা প্রখর রোদ আর রাত্রে বৃষ্টি হলে ধানের জমি উর্বর হয় ও ধানের ফলন ভাল হয়।)

৯.

শীষ দেখে বিশ দিন, কাটতে মাড়তে দশ দিন ।

(যে দিন ধানের শীষ বের হবে তার থেকে ঠিক কুডি দিন পর ধান কাটতে হবে। মাড়তে ও ঝাড়তে হবে দশ দিনের মধ্যে এবং তারপর গোলায় তুলবে।)

১০.

সরিষা বনে কলাই মুগ, বুনে বেড়াও চাপড়ে বুক।

(একই জমিতে যদি সরিষা ও মুগ বা সরিষা ও কলাই একসাথে বোনা যায় তাহলে দুটি ফসলই একসাথে পাওয়া যায়।)

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে