আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৮:৩১

মাবিয়ারা এভাবেই ফিরে আসুক বিশ্ব মঞ্চে বার বার

বিডিটাইমস ডেস্ক
মাবিয়ারা এভাবেই ফিরে আসুক বিশ্ব মঞ্চে বার বার

নিজের শ্রেষ্ঠত্বটা যখন দেশের প্রথম স্বর্ণজয় হয়, তখন কী হয়? আবেগের কাছে উড়ে যায় পেশাদারিত্ব। আর যখন দেখা যায় নিজের দেশের পতাকাটাই উড়ছে সবার ওপরে। চোখের পানি আটকে রাখা যায় না। পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে হাপুস নয়নে কাঁদছিল মেয়েটি।

স্বর্ণপদক গ্রহণের পরই ঘটল ঘটনাটা। একদিকে মাবিয়া দাঁড়িয়ে আছেন সবার ওপরে। তিনটি পতাকার মধ্যে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাও উড়ছে সবার ওপরে। একই সঙ্গে বাজছে ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’র সুর। আর মাবিয়া, বাংলাদেশের পতাকা আর জাতীয় সংগীতকে সম্মান জানাতে দাঁড়িয়ে আছে গ্যালারির প্রতিটি দর্শক। এতদিন তো তাঁর নাম তেমনভাবে কেউ শোনেইনি। কে এই মেয়ে?  তাঁর চোখের জলের সঙ্গে ততক্ষণে মিশে গিয়েছে পুরো গ্যালারির আবেগ।

পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকার দিকে তাকিয়ে স্যালুট করছিলেন মাবিয়া। চোখে অঝোর ধারা। গলায় সোনার মেডেল চকচক করছে। সাউথ-এশিয়ান গেমসের মঞ্চে বাজিমাত করে আসলেন মাবিয়া আক্তার। সাউথ-এশিয়ান গেমসে দেশকে ভারোত্তলনে এনে দিয়েছেন প্রথম সোনা। একজন মেয়ে তাও আবার ভারোত্তলনের মতো খেলায়।

আবেগটা সেই সোনার মেয়ের দেশকে সোনা এনে দেওয়ার। তাঁর কান্না বলে দিল কতটা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে থেকে এই সব খেলায় মেয়েদে উঠে আসতে হয়। যেখান থেকে উঠে এসেছে এই সাফল্য বাংলাদেশের ক্রীড়ায় পরিবর্তন আনতে পারে। অন্যান্য খেলায় এখন মাবিয়াই সেরা বিজ্ঞাপন। দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে এই দৃশ্য বহুদিন মনে রাখবে মানুষ। হয়তো আরও মানুষ এগিয়ে আসবে অন্য খেলায় মাবিয়ার পথ অনুসরণ করে।

মাবিয়ার এই স্বর্ণ-সাফল্যে হয়তো মিছিল হয়নি দেশজুড়ে। কিন্তু দক্ষিণ এশীয় গেমসে সোনা জিতে তিনি লাল-সবুজের এই দেশকে যেভাবে সম্মানিত করলেন, যেভাবে আবেগাপ্লুত করলেন সকলকে, তা সহজে ভুলে যাওয়ার নয়। দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে গুয়াহাটির এই দৃশ্য অম্লান থাকবে অনেক দিন, অনেক বছর। মাবিয়ারা এভাবেই ফিরে আসুক বিশ্ব মঞ্চে বার বার।

 

উপরে