আপডেট : ১০ জানুয়ারী, ২০১৯ ১৪:১৯

মাস্টারপ্লানে বদলে যাচ্ছে ‘সাগরকন্যা’ কুয়াকাটা

অনলাইন ডেস্ক
মাস্টারপ্লানে বদলে যাচ্ছে ‘সাগরকন্যা’ কুয়াকাটা

অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কুয়াকাটাকে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করতে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে কুয়াকাটার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সেতুসহ মহাসড়ক নির্মিত হয়েছে। চূড়ান্ত হয়েছে কুয়াকাটার মাস্টার প্লান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কুয়াকাটার উন্নয়নে এরই মধ্যে লতাচাপলী মৌজার ১০ হাজার ২৭৯ একর জমি সংরক্ষিত জোনের আওতায় নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের খাস জমির দখলদার উচ্ছেদ করার। এসব জমিতে নির্মিত হবে উন্নয়ন কর্মকান্ডের স্থাপনা। মাস্টারপ্লান অনুযায়ী কুয়াকাটায় থাকবে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম, একটি বিশ্ববিদ্যালয়, প্লে-গ্রাউন্ড, কনভেনশন সেন্টার, বিমানবন্দর, ওয়াচ টাওয়ার, আধুনিক হাসপাতাল, সুপার মার্কেট, সরকারি-আধাসরকারি সব অফিস, মিউজিয়াম, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, দর্শনীয় শহীদ মিনার, হেলি-প্যাড, হিস্টরিক সাইট, বাস-টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, বিশেষ মার্কেট, ইকোপার্ক, মৎস্য মার্কেট, মেরিন পার্ক, মেরিন ড্রাইভ, টেনিস পার্ক এবং সাব-জেল। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, কুয়াকাটায় উন্নয়নের মহাযজ্ঞ শুরু হবে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে। পর্যটন এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই মাস্টারপ্লান বাস্তবায়নের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।

মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে আলীপুর মৎস্য বন্দর থেকে কুয়াকাটাগামী মহাসড়কের তুলাতলী থেকে পর্যটন পল্লী গঙ্গামতি পর্যন্ত দুই লেনের উন্নত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে সরকার।

কলাপাড়া থেকে কুয়াকাটা মহাসড়কের ২২ কিলোমিটার অংশে তিন নদীতে তিনটি আধুনিক সেতু নির্মিত হয়েছে। এই ৩টি সেতু ছাড়াও কলাপাড়া উপজেলা সদর থেকে বিকল্প পথে কুয়াকাটায় যেতে এরই মধ্যে বালিয়াতলী পয়েন্টে আন্ধারমানিক নদীর উপর ৮৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৭৭ মিটার দীর্ঘ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর নির্মাণ কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে।

সূত্র জানায়, পরিকল্পিত নগরায়নের জন্য এরই মধ্যে কুয়াকাটা পৌরসভা এলাকায় যেকোনো ধরনের ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত নক্সা-ডিজাইন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এসব ডিজাইন নক্সা অনুমোদন করলেই ভবন নির্মাণের অনুমতি পাবেন উদ্যোক্তারা।

কুয়াকাটা পৌরসভা এলাকার খালসহ খাস জমির অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। খাল দখল করে নির্মাণ করা ৫টি স্থাপনা চিহ্নিত করে অপসারণের পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

প্রসঙ্গত, একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের বিরল প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকনের সুযোগ রয়েছে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায়। প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতের কিনার ঘেঁষা রয়েছে সবুজের আচ্ছাদন। নারিকেল বাগান, ঝাউবিথী ছাড়াও পশ্চিম ও পূর্বদিকে রয়েছে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আরেক সৌন্দর্যময় স্থান। সূত্র আরও জানায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে কুয়াকাটায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সম্পদ ও জীবন রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে কলাপাড়া সাগর ঘেঁষা লতাচাপলী ও ধুলাসার দুই ইউনিয়নসহ কুয়াকাটা পৌর এলাকায় ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। বাঁধটির আধুনিকায়নের মধ্যে উপরিভাগে পর্যটকের ভ্রমণের জন্য ওয়ার্কিং জোন এবং পাশে নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকছে বড় ধরনের বেঞ্চ টাইপের সিসি ব্লক। যেখানে বসে আগতরা আড্ডার পাশাপাশি স্বল্পকালীন বিশ্রামও নিতে পারবেন।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, মাস্টারপ্লান বাস্তবায়ন হলে কুয়াকাটা হবে দেশের দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র। এতে এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকের আনাগোনা বহুগুণ বাড়বে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে