আপডেট : ২১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১২:০০

আশেপাশে যেখানে কাটাবেন ছুটির দিন

অনলাইন ডেস্ক
আশেপাশে যেখানে কাটাবেন ছুটির দিন

মোটামুটি ভালো শীত পড়ে গেছে প্রকৃতিতে। এই সময়টাই যেন ঘোরাঘুরির জন্য আদর্শ সময়। এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ, পড়াশুনার চাপ কম। অফিসেও কাজের চাপ কম থাকায় চাইলেই হয়তো একটু ছুটি ম্যানেজ করে নেওয়া যায়। হয়েই গেলো সোনায় সোহাগা। কিন্তু দূরে যেতে গেলে তো সময় লাগবে অনেকটা। হাতে লম্বা সময় নেই, দূরে কোথাও যাওয়া সম্ভব নয়। আপনি রাজধানীর আশেপাশেই ঘুরে চলে আসুন। সময় আর খরচও অনেক কম হবে। এমনই কিছু স্থান সম্পর্কে আজ জানাবো আপনাদের-

নুহাশ পল্লী, গাজীপুর

হুমায়ুন আহমেদের ভক্ত নন, এমন মানুষ কমই আছে। আপনি এই শীত আর ছুটির সময়ে এই গল্পের জাদুকরের নুহাশ পল্লী থেকে ঘুরে আসতে পারেন। সেখানে প্রাণের লেখকের কল্পনার সবকিছুই পাবেন। বৃষ্টি বিলাস, ভুত বিলাস, ট্রি হাউজ, বিভিন্ন ভাস্কর্য, বিভিন্ন গাছের বাগান আর তাঁর সমাধি দেখতে হলে চলে যান গাজীপুর জেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরত্বে পিরুজালী গ্রামে।

ঢাকা থেকে বাসে করে গাজীপুরের হোতাপাড়া বাস স্ট্যান্ডে নেমে যান। ভাড়া পড়বে ৬০ টাকার মতো। সেখান থেকে টেম্পো, রিকশা অথবা সিএনজিতে করে ৩৫-৪০ টাকা ভাড়া দিয়ে নুহাশ পল্লী চলে যেতে পারেন।

সাদুল্লাহপুর গোলাপ বাগান, ঢাকা

গোলাপের রাজ্যে ঘুরে আসতে চাইলে চলে যান সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাদুল্লাহপুর গ্রামে। পুরো বছরেই গোলাপের গন্ধে ভরা থাকে। গোলাপের বাগান ছাড়াও এখানে বিভিন্ন প্রজাতির মনকাড়া ফুলবাগান রয়েছে। রাজধানীর বেশিরভাগ গোলাপের চাহিদা এখান থেকেই মেটে। একদিনের মধ্যেই ঘুরে আসতে পারেন এই রাজ্য থেকে।

এখান থেকে ঘুরে আসতে উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকা থেকে নর্থ টাওয়ারের কাছ থেকে লেগুনায় করে দিয়াবাড়ি চলে যান। সেখান থেকে বিরুলিয়া ব্রিজ পর্যন্ত গিয়ে অটো দিয়েই চলে যেতে পারেন সাদুল্লাহপুর গোলাপ গ্রামে।

আবার বাসে করে মিরপুর বেড়িবাঁধে উঠে বটতলা ট্রলারঘাটে নামতে হবে। মিরপুর এক নম্বর গোল চত্বর বা গাবতলী থেকে রিকশাতে দিয়াবাড়ি বটতলা ঘাট যেতে পারেন। ঘাট থেকে ৩০ মিনিট পরপর ট্রলার ছাড়বে। জনপ্রতি ২০-২৫ টাকা লাগবে। আর হেঁটে বা রিকশায় পুরো গ্রাম দেখতে পারেন। তবে সন্ধ্যা ৬টার পর এখানে আর কোনো ট্রলার পাবেন না। তবে এখান থেকে সরাসরি স্পিডবোট, শ্যালো নৌকা বা কোষা নৌকাতে করেও যেতে পারেন। ভাড়া পড়বে যথাক্রমে ৫০০, ২৫০ এবং ৩০০ টাকা। 

পানাম নগর, নারায়ণগঞ্জ

ঐতিহ্যের বেশ কাছাকাছি যেতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন আমাদের ‘হারানো নগরী’ থেকে। বলছিলাম নারায়ণগঞ্জের পানাম নগর বা পানাম সিটির কথা। সেই বার ভূঁইয়া প্রধান ঈসা খাঁ এর হাতে নির্মিত এই পানাম নগরীতে মন খুলে হাঁটলে মনে হবে বুঝি সেই ১৫ শতকে ফিরে গেছেন। মূল রাস্তার দুইপাশে প্রাচীন নগরীর চিত্র দেখলে চোখে জুড়িয়ে যাবে। যাওয়াও বেশ সহজ।

এই নগরীতে প্রবেশ করতে ২০টাকার টিকিট কেটে নিন। আর জাদুঘরে গেলে লাগবে ৩০টাকার টিকিট।

ঢাকার গুলিস্তান থেকে বাসে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা নামতে হবে। বাসভাড়া পড়বে ৪০-৫০ টাকা। সেখান থেকে ব্যাটারিচালিত অটোতে বা রিকশায় ২০-৩০ টাকায় চলে যান সেই পানাম নগরীতে।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, গাজীপুর

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নে বিশাল এলাকা জুড়ে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। এখানে না গেলে বোঝা যাবে না যে কী নেই এখানে। বিশাল পাখিশালা, প্রজাপতি সাফারি, জিরাফ ফিডিং স্পট, অর্কিড হাউজ, শকুন ও পেঁচা কর্নার, এগ ওয়ার্ল্ড, বোটিং, লেইক জোন, আইল্যান্ড, প্রকৃতিবীক্ষণ কেন্দ্র, ফ্যান্সি কার্প গার্ডেন। আরও রয়েছে অনেক বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী।

এই পার্কে প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা। ১৮ বছরের নিচের বয়সীরা ২০ টাকায় প্রবেশ করতে পারবে। শিক্ষাসফরে আসা শিক্ষার্থীদের গুণতে হবে মাত্র ১০টাকা করে। এখানের সবগুলো স্পট ঘুরে দেখতে মোটামুটি ২০০-৩০০ টাকা লাগবে। কিছু প্যাকেজও পাওয়া যাবে।

মহাখালী থেকে শ্রীপুর, ভালুকা বা ময়মনসিংহের বাসে গাজীপুরের চৌরাস্তা পার হয়েই বাঘের বাজার। এ পর্যন্ত বাসভাড়া পড়বে ৩০-৪০ টাকা। সেখান থেকে আবার ২০-৪০ টাকা অটোভাড়া দিয়ে সোজা সাফারি পার্ক।

ড্রিম হলিডে পার্ক, নরসিংদী

নরসিংদীতে বেড়াতে গেলে ড্রিম হলিডে পার্কে যান না, সেটা খুব কমই হয়। এই পার্কে বিভিন্ন আকর্ষণীয় রাইড ছাড়াও মায়াবি স্পট, কৃত্রিম অভয়ারণ্য, ডুপ্লেক্স কটেজ এবং কৃত্রিম পর্বত রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ওয়াটার পুল। সেখানে কান পাতলে মনে হবে সমুদ্রের গর্জন শোনা যাচ্ছে।

ঢাকা সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পার্কটিতে আসতে চাইলে কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বা সিলেটের যেকোনো বাসে চলে যেতে পারেন।
 

মৈনট ঘাট, ঢাকা

হাতে অল্প সময় থাকলে সহজেই ঘুরে আসতে পারেন মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনট ঘাট থেকে। দোহার উপজেলায় অবস্থিত এই ঘাটের বিশাল চর এলাকা দেখলে সাগরের বেলাভূমির কথা মনে পড়তেই পারে। এখানকার সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্যও মন ভুলিয়ে দেবে।

এই ঘাটে যেতে হলে গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজারের সামনে থেকে বাসে করে দোহারের মৈনট ঘাট চলে যান। ঘণ্টা দুয়েক লাগবে। বাসভাড়া পড়বে ৯০-১০০ টাকা। এছাড়া বসিলা থেকে সিএনজিতে করেও যেতে পারেন ভাড়া পড়বে ১৫০ টাকার মতো। কাটিয়ে আসুন সুন্দর একটি দিন।

মহেরা জমিদার বাড়ি, টাঙ্গাইল

মহেরা জমিদার বাড়ি দেখতে আপনাকে যেতে হবে টাঙ্গাইল থেকে ১৮ কিলোমিটার আগে অবস্থিত নটিয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে। মহেরা জমিদার বাড়ির বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার পাশাপাশি পার্ক, চিড়িয়াখানা, পিকনিক স্পটগুলো ঘোরাঘুরিতে আলাদা মাত্রা যোগ করবে। জমিদার বাড়ির মনোরম স্থাপনাগুলো দেখে আপনি নতুন সব ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন।

এখানে টিকিটের মূল্য পড়বে ৫০ টাকা। ঢাকা থেকে নটিয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডে যেতে ২ ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে। বাসভাড়া লাগবে ১২০-১৬০ টাকা। বাস থেকে নেমে রিকশা বা সিএনজিতে আরও ৩০টাকার মতো খরচ হবে।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি, মানিকগঞ্জ

মোট সাতটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার দৃষ্টিনন্দন বালিয়াটি জমিদার বাড়ি দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জ থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে। এই জমিদার বাড়ির বিভিন্ন ভবন বিভিন্ন উত্তরাধিকারীদের আভিজাত্যের নিদর্শন। এই জমিদার বাড়ির একটি ভবনের মধ্যে একটি মনোরম জাদুঘরও রয়েছে।

এখানকার প্রবেশমূল্য মাত্র ২০টাকা।

প্রথমে আপনাকে ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে আরিচা বা মানিকগঞ্জগামী বাসে করে সাটুরিয়া বাস স্টপে নামতে হবে। ভাড়া পড়বে ৬০-৮০ টাকার মতো। সেখান থেকে এরপর সিএনজি বা রিকশায় করে ২০-৩০ টাকা ভাড়ায় জমিদার বাড়ি চলে যাবেন।

জিন্দা পার্ক

জিন্দা পার্কে যেতে হলে আপনাকে চলে যেতে হবে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে। মোটামুটি বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা এই পার্কে প্রায় ২৫০ ধরনের ১০ হাজারেরও বেশি গাছ-গাছালি রয়েছে। এই সুন্দর সমারোহ পরিবেশকে শান্তিময় সবুজ করে তুলবে, সঙ্গে পাখির কিচিরমিচির মুগ্ধতাকে আরও বাড়িয়ে দেবে। বিশাল জলাধার দেখতে পাবেন, কাঠের ব্রিজ পার হয়ে দিঘির মাঝামাঝি বাঁশের টি রুমে এক কাপ চা হাতে বসবেন।

এই পার্কে যেতে হলে সহজ পথ হলো ৩০০ ফিট রাস্তা দিয়ে কাঞ্চন ব্রিজ চলে যাওয়া। বাসে ভাড়া জনপ্রতি ২৫ টাকা। কাঞ্চন ব্রিজ থেকে অটোরিকশাতে ১৫-২০ টাকা ভাড়া দিয়ে যেতে পারবেন পার্কে।

বিডিটাইমস৩৬৫/জামি

উপরে