আপডেট : ১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ১৬:২৬

চট্রগ্রামের অজানা সমুদ্র সৈকত ‘পারকীর চর’

অনলাইন ডেস্ক
চট্রগ্রামের অজানা সমুদ্র সৈকত ‘পারকীর চর’

গোধূলি লগ্নে উত্তাল সাগরের বুকে স্বর্ণের আভা ছড়ানো সূর্যের উদয়-অস্ত শিহরিত করে না এমন মানুষ খুজে পাওয়া মুশকিল। যান্ত্রিক জীবনে মানুষ তাই একটু অবসর পেলেই ছোয়া পেতে চায় সমুদ্রের নোনা পানির। একটা সময় সমুদ্র সৈকত বলতে শুধু কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত বোঝানো হলেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে চট্রগ্রামের পারকী সমুদ্র সৈকত নামের আরও একটি সৈকত।   

স্থানীয় ভাষায় এই সৈকতকে বলা হয় ‘পারকীর চর’ আর পর্যটণের ভাষায় ‘পারকী বিচ’ বা সৈকত। দক্ষিন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার মধ্যস্থলে বঙ্গোপসাগরের উপকূল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে পারকীর চর নামে খ্যাত দৃষ্টি নন্দন পার্কি সমুদ্র সৈকত। অর্থাৎ কর্ণফুলী নদীর মোহনার পশ্চিম তীরে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈতক এবং পূর্বদক্ষিণ তীরে পারকী সমুদ্র সৈকত। এটি চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ার থানার অর্ন্তগত একটি উপকূলীয় সমুদ্র সৈকত।  

পারকী সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র এক থেকে দেড় ঘন্টার দূরত্বে অবস্থিত। একদিকে ঝাউবনের সবুজের সমারোহ, আরেকদিকে নীলাভ সমুদ্রের বিস্তৃত জলরাশি দেখে যে কোনও মানুষের মন ভালো হতে বাধ্য। এ কারণেই দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই সৈকত।  

সৈকতে প্রবেশ মুখেই সরু রাস্তার দুপাশে সারি সারি গাছ, সবুজ প্রান্তর আর মাছের ঘের দেখতে পাবেন। সৈকতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মতো অসংখ্য ঝাউ গাছ আর ঝাউবন দেখতে পাবেন। ঝাউবনের ফাঁকে ফাঁকে অসংখ্য খাবার দোকান রয়েছে। এই দোকানগুলোতে ফুসকা, চটপটি, দুপুরের খাবারও পাওয়া যায়।  

সৈকতে আপনি ঘোড়া, রাইডিং বোট, আরাম করে বসার জন্য বড় বড় ছাতাসহ হেলানো চেয়ারের ব্যবস্থা আছে। এখানে বিভিন্ন ধরনের জুস পাওয়া যায়। বিয়ার ও হার্ড ড্রিংকস চোরাই পথে এখানে বেচাকেনা হয়, তবে এগুলো কেনা এবং খাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো, নাহলে অযথাই নানা হয়রানির কবলে পরতে পারেন। এছাড়া মজার একটি খেলা ‘রিংথ্রো’ খেলতে পারবেন এই সৈকতে। ইচ্ছে করলে হাতের নিশানা প্র্যাক্টিস করতে পারেন।

সুতরাং আপনি যদি নতুন সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যেতে চান, তাহলে আপনার জন্য নতুন এই সৈকত ‘পারকী বিচ’ হতে পারে আদর্শ স্থান। চট্টগ্রাম সার কারখানা ও কাফকো যাওয়ার পথ ধরে এই সৈকতে যেতে হয়। পারকী বিচে যাওয়ার পথে আপনি কর্ণফুলী নদীর উপর নির্মিত প্রমোদতরীর আদলে নতুন ঝুলন্ত ব্রিজ দেখতে পারবেন। পথে চট্টগ্রাম সার কারখানা ও কাফকো দেখতে পাবেন।   

চট্টগ্রাম শহর থেকে ‘পারকী বীচের’ যেতে সময় লাগবে ১ ঘণ্টা থেকে দেড় ঘন্টা। পারকী সৈকতে যাওয়ার জন্য সরাসরি কোনো বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা নেই। চট্টগ্রাম শহর থেকে রেন্টে-কার, ক্যাব, মাইক্রো বা সি.এন.জি বেবিট্যাক্সি ইত্যাদি রিজার্ভ করে যেতে হবে। রেন্টে-কার, ক্যাব, মাইক্রো আসা যাওয়ার ভাড়া নূন্যতম ১৫০০ টাকা থেকে শুরু। সি.এন.জি স্কুটার বা বেবিতে আসা যাওয়ার জন্য নিবে ৬০০ টাকা। শুধু যাওয়া বা আসা এক পথ ৩০০ টাকা। সৈকত থেকে ফেরার সময় ঠিক মতো গাড়ি পাওয়া যায় না। তাই যাওয়া এবং আসার জন্যে গাড়ী রিজার্ভ করে নিয়ে যাওয়াই ভালো।

উপরে