আপডেট : ২৭ জুলাই, ২০১৮ ১০:১৭

পাহাড়ের কোলে সুখের শুকতারা

অনলাইন ডেস্ক
পাহাড়ের কোলে সুখের শুকতারা

‘প্রকৃতি-কন্যা’ খ্যাত সিলেট নানা সৌন্দর্যের নান্দনিক আধার। প্রকৃতি তার সিলেট নামক এই কন্যাকে রঙ-রূপ-রসে সাজিয়েছে অপরূপ করে। সিলেটের পরতে পরতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে রূপ-লাবণ্যের অপার ভাণ্ডার। সৌন্দর্যের এই ভাণ্ডার যে কাউকেই মুগ্ধ করে খুব সহজেই। তবে আজকে আমরা প্রকৃতির মাঝে মানুষের তৈরি বিস্ময়কর এক সৌন্দর্যের গল্প বলব, যার নাম শুকতারা ন্যাচারাল রিসোর্ট।

শুধু নামেই নয় প্রকৃত অর্থেই প্রকৃতির মাঝে সত্যিকার সুখের সমাহার এই শুকতারা রিসোর্ট বা শুকতারা প্রকৃতি নিবাস। শুকতারা প্রকৃতি নিবাস যেন সবুজের বুকে গড়ে ওঠা একটুকরো স্বর্গ। শুকতারা প্রকৃতি নিবাসের বৈশিষ্ট্য হলো এটি পাহাড়ের কোলে গড়ে উঠেছে। চারপাশে শুধুই সবুজ আর সবুজ। মাঝখানে কৃত্রিমভাবে গড়ে তোলা হয়েছে এই প্রকৃতি নিবাস। তবে প্রকৃতিকে ধ্বংস করে নয়, বরং প্রকৃতির সৌন্দর্যকে ব্যবহার করেই গড়ে তোলা হয়েছে এই নিবাস।

সিলেট শহর থেকে সাড়ে সাত কিলোমিটার দূরে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের পাশে, যান্ত্রিক কোলাহল মুক্ত সবুজ অরণ্যে এই শুকতারা নিবাস অবস্থিত। সিলেটের খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানের পাহাড়ের চূড়ায় নির্মাণ করা হয়েছে শুকতারা প্রকৃতি নিবাস। টিলার অরণ্যের ভাজে গড়ে তোলা হয়েছে একেকটি কটেজ।

১৪ একর বিশাল জায়গা জুড়ে এই রিসোর্টটির অবস্থান। এর নির্মাণ ও স্থাপত্যশৈলী, অভ্যন্তরীণ নকশা ও সাজ-সজ্জা যেকোনো মানুষকে আকৃষ্ট করতে বাধ্য। নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কষ্ট এই প্রকৃতি নিবাস কতটা আধুনিক ও শিল্পসম্মত।

এই রিসোর্টের সবকিছুতেই রয়েছে নান্দনিকতার ছোঁয়া। সবকিছুই এখানে তৈরি করা হয়েছে অনেক যত্ন আর মনের মাধুরী মিশিয়ে। এখানে আছে কটেজ, আলাপচারিতার ঘর, সভাকক্ষ, সুইমিং পুল, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ, সর্বক্ষণ গরম ও ঠাণ্ডা পানির ব্যবস্থা। রয়েছে ফুলের বাগান। সুইমিং পুল, বাগানের তাজা ফুলগুলো এখানকার অতিথিদের অভ্যর্থনা জানায় প্রতিনিয়ত। চারপাশ ফুলের ঘ্রাণে মত্ত থাকে সবসময়য়।

সমতল থেকে প্রায় ৫০ ফুট উঁচুতে ছোট ছোট কটেজ। এই রিসোর্টে মোট ১১টি কটেজ আছে। সবুজ প্রকৃতির সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছে ছোট্ট ছোট্ট কটেজগুলো। যেখানে মিশে আছে নিবিড় প্রকৃতির অনিন্দ্য স্বাদ। শান্ত অবারিত সুখ। এইসব কটেজের বারান্দা থেকে পাহাড়ের সৌন্দর্য যেমন উপভোগ করা যায়, তেমনি আবার রোদ ও বৃষ্টিও উপভোগ করা যায়। এছাড়াও নানা নাম না জানা পাখির কলকাকলিতে এখানে মুখরিত চারিধার। সবকিছু মিলে-মিসে এখানে যেন যেন শুধুই সুখ আর সুখ।    

উঁচু টিলার উপরে রয়েছে তিনতলা একাশিয়া রেস্টুরেন্ট। দোতালায় খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। এর পাশেই রয়েছে কনফারেন্স রুম। এখানে একত্রে ৪০ জন মিটিং করতে পারে। তিনতলায় রয়েছে সুন্দর ও আরামদায়ক বসার ও আলাপচারিতার ঘর। এর পাশেই রয়েছে মনোরম পাঠাগার। এই পাঠাগারে রয়েছে অনেক দেশি-বিদেশি বই।

এই রিসোর্টে বিয়ে, গায়ে হলুদের সুন্দর ব্যবস্থা আছে। বিয়ে ও গায়ে হলুদের ব্যবস্থা করা হয়েছে তিনতলা বিল্ডিংয়ের নিচতলায়। প্রতিটি কক্ষ বেশ প্রশস্ত, আলোবাতাস পূর্ণ, আরামদায়ক। শীতাতপ ব্যবস্থা তো আছেই।

এইখানে বেড়াতে আসলে আপনার সমস্ত সময় কাটবে প্রকৃতির নৈসর্গিক দৃশ্যের অবগাহনে। এই রিসোর্টে অনেক সুন্দর সুন্দর কিছু ভাস্কর্য, শিল্পকর্ম, আলোকচিত্র ও পেইন্টিং রয়েছে। রিসোর্টে থাকাকালীন উপভোগ করতে পারবেন বাউল সঙ্গীত অথবা মণিপুরী নৃত্য। 

শুকতারা রিসোর্টের প্রতিটি কটেজের বেশ নান্দনিক ও শ্রুতিমধুর নাম দেওয়া রয়েছে। প্রতিটি কটেজের নামই একেকটি ফুলের নামে যেমন, দোলনচাঁপা, নয়নতারা, বরুণ, শিরীষ, মাধবী লতা, জুঁই, কামিনী, হিজল, শিমুল, করবী।

এখানে থাকার জন্য কটেজগুলো অত্যন্ত সুন্দর, ঘোরার জন্য অফুরন্ত জায়গা, চা বাগান, উঁচু টিলা, পাহাড় একসাথে সব আছে এইখানে। এছাড়াও রিসোর্টের অতিথিদের জন্য গাইডের ব্যবস্থা রয়েছে। গাইডদের সঙ্গে নিয়ে পর্যটকরা যেকোনো স্থানে যেতে পারবেন।

শুকতারা প্রকৃতি নিবাসে রাত্রিযাপনের জন্য আপনাকে খরচ করতে হবে ৩,৫০০ টাকা থেকে ৬,৫০০ টাকা। এসি ও নন এসি রুম আছে এইখানে থাকার জন্য। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও উৎসবের দিন বাদে অন্যান্য সাধারণ দিনগুলোতে ১০% ছাড় দেওয়া হয়। 

ঢাকা থেকে সিলেটে আকাশপথে, রেলপথে, সড়কপথে যেতে পারবেন যার যার সুবিধা ও সাধ্যমত। সিলেটের যেকোনো প্রান্ত থেকে সিএনজি কিংবা অটোতে চড়ে যেতে পারবেন শুকতারা রিসোর্টে।  

উপরে