আপডেট : ১৩ এপ্রিল, ২০১৮ ১০:১০

হাঁপিয়ে ওঠা জীবনে একটু স্বস্তির অবসর, 'ভিন্নজগত'

অনলাইন ডেস্ক
হাঁপিয়ে ওঠা জীবনে একটু স্বস্তির অবসর, 'ভিন্নজগত'

প্রতিদিনের কর্ম ব্যস্ততার কারণে হাঁপিয়ে উঠেছেন? পরিবার-পরিজন নিয়ে দূরে কোথায় হারিয়ে যেতে ইচ্চা করছে? কোথায় যাবেন ভেবে ঠিক করতে পারছেন না? সকল ব্যাস্ততা ভুলে শান্ত নিরিবিলি পরিবেশে, নিজের মত করে কিছুটা সময় যারা কাটাতে চান তাঁদের জন্য উৎকৃষ্ট একটি স্থান রংপুরের ‘ভিন্নজগত’।

রংপুর শহরের কোলাহল থেকে সামান্য দূরে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার খলেয়া গুঞ্জিপুর এলাকায় ২০০১ সালে বেসরকারিভাবে প্রায় একশত একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘ভিন্নজগত’ নামের এই বিনোদন কেন্দ্রটি।  

ভিন্নজগতে চারিদিকে সাজানো-গোছানো দেশি-বিদেশি হাজার হাজার গাছ-গাছালির মাঝে সারাক্ষণ নানা প্রজাতির পাখির কোলাহলে মুখরিত থাকে। সবুজ প্রকৃতির ছায়া ঘেরা পরিবেশে সারা দিন হেসে খেলে আপনি কাটিয়ে দিতে পারবেন অনায়াসেই। ছোট-বড়, তরুণ-তরুণী থেকে সব বয়সের মানুষের উপস্থিতে সবসময়ই জমজমাট থাকে ভিন্নজগত।

ভিন্নজগতেই বাংলাদেশের প্রথম প্লানেটোরিয়ামটি স্থাপন করা হয়েছিল এবং সেটা এখনও চালু রয়েছে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় নির্মিত দোকানপাট, তিনশ আসনবিশিষ্ট আধুনিক কনফারেন্স কেন্দ্র, সুইমিংপুল, কমিউনিটি সেন্টার এবং নামাজ পড়ার জন্য মসজিদও আছে এখানে।

বাচ্চাদের জন্য এখানে রয়েছে রোবট স্ক্রিল জোন, স্পেস জার্নি, জল তরঙ্গ, সী-প্যারাডাইস, মানুষ মাথার খুলির আজব গুহা, ওয়াক ওয়ে, থ্রিডি মুভি, মেরি গো রাউন্ড, নৌকা ভ্রমণ, শাপলা চত্বর, তাজমহল ও আইফেল টাওয়ারের রেপ্লিকা, ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ভাস্কর্য,  ফ্লাই হেলিকপ্টার, লেক ড্রাইভ ও বিভিন্ন ধরনের মজার মজার রাইড।

বাচ্চাদের জন্যে ক্যাঙ্গারু, হাতি, ঘোড়া, ডায়নোসার সহ নানা ধরনের জীবজন্তুও আছে এখানে। এগুলো দূর থেকে দেখে জীবন্ত মনে হলেও বাস্তবে এই জীবজন্তুগুলো ইট, পাথর ও লোহা দিয়ে তৈরি।

যারা সখের মাছ শিকারি ভিন্নজগতে তাঁদের জন্যেও রয়েছে ব্যবস্থা। শখের মাছ শিকারিরা নির্দিষ্ট ফি দিয়ে মাছ ধরতে পারবেন ভিন্নজগতে।

বিশাল আয়তনের এই ভিন্নজগতে একই সঙ্গে অন্তত ৫শ’ পৃথক দলের পিকনিক করার ব্যবস্থা আছে এখানে। অন্তত এক হাজার গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আছে ভিন্নজগতের ভিতরে।

ভিন্নজগতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অনেক ভাল। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বেশকিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা পর্যবেক্ষন করা হয়।

দর্শনার্থীরা চাইলে রাতেও থাকতে পারবেন এখানে। অনেক দূরের দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এখানে রাত্রি যাপন করার জন্যে ৭টি কটেজ রয়েছে । থ্রি-স্টার মডেলের ড্রিম প্যালেস আছে এখানে।

দেশের নানান প্রান্ত থেকে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ বেড়াতে আসেন এই ভিন্নগগতে। ঈদ-পুজা, সরকারি ছুটির দিনসহ বিভিন্ন উৎসবে মানুষের ঢল নামে ভিন্নজগতে।

রংপুর ভিন্নজগতে যাবার জন্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক ভালো। রংপুরের পাগলা পীরে নেমে রিক্সা, ভ্যান বা অটোরিকসায় করে, ২০ টাকা ভাড়া দিয়ে ভিন্নজগতে যেতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২৫ মিনিট।

বিডিটাইমস৩৬৫/জামি

উপরে