আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২১:৫৯

পাহাড়ঘেরা বিস্তীর্ণ জলরাশির মহামায়া লেক

অনলাইন ডেস্ক
পাহাড়ঘেরা বিস্তীর্ণ জলরাশির মহামায়া লেক

লেক, পাহাড় ও ঝর্ণা যাঁরা ভালোবাসেন তাঁদের জন্য বাংলাদেশ একটি অন্যতম সুন্দর পর্যটনস্থান। শহুরে কোলাহল ছেড়ে একদিনের জন্য ঘুরে আসুন পাহাড়ের মনোরম পরিবেশে। এমনই একটি সুন্দর জায়গা মহামায়া কৃত্রিম লেক। মূলত এটি একটি সেচ প্রকল্প। রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের পরে বাংলাদেশের অন্যতম লেক এটি। ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রবেশদ্বার মিরসরাই এর ৮ নং দুর্গাপুর ইউনিয়ন ঠাকুরদীঘি বাজার থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এর অবস্থান। এই মহামায়া প্রকল্পে রয়েছে লেক, পাহাড়, ঝর্ণা ও রাবার ড্যাম। মহামায়া লেকের আয়তন হলো প্রায় ১১ বর্গ কিলোমিটার।  

পাহাড়ের কোলঘেঁষে আঁকাবাঁকা লেকটি দেখতে অপরূপ সুন্দর। ছোট বড় অসংখ্যা পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত এই মহামায়া লেক। এই লেকের অন্যতম আর্কষণ হচ্ছে পাহাড়ি ঝর্ণা এবং এর স্বচ্ছ পানি। এর জলাধারের চারপাশে দেখলে মনে হবে সবুজের চাদর বিছানো রয়েছে। আপনার মনে হবে যেন কোনো এক শিল্পীর আঁকা সুনিপুণ ছবি। মহামায়া লেকের নীল জলরাশিতে আপনি ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা বা ইঞ্জিন চালিত নৌকা দেখতে পাবেন। এই নৌকায় পরিবার পরিজন নিয়ে আপনি লেকের স্বচ্ছ পানিতে ঘুরতে পারেন এবং হারিয়ে যেতে পারেন লেকের অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝে। এই নৌকা ভ্রমণে খরচ হতে পারে ৫০০-১০০০ টাকা এবং জনপ্রতি প্রায় ৪০ টাকা।

নৌকাতে বসে মহামায়া লেকের চারপাশের পাহাড় ও বিশাল জলরাশি আপনাদের মুগ্ধ করে তুলবে। বিকেল বেলা সূর্য যখন অন্তিম নীলিমায় ডুবে যায় তখন লেকের পরিবেশটি খুবই চমৎকার লাগে। পরিবার-পরিজন বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে পিকনিকের জন্য মহামায়া লেক দারুণ একটি স্থান। আপনি চাইলে এখানে রান্নাবান্না করেও খেতে পারবেন। লেকের পাড়ের বিশাল ভূমিতে  চাইলে ছোট বড় সবাই মিলে বিভিন্ন খেলারও আয়োজন করতে পারেন।

কীভাবে যাবেন আপনি
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসার অনেক বাস আছে । এসি বা ননএসি যে কোনো বাস যেমন- ইউনিক, এস আলম, সৌদিয়া, গ্রিনলাইন, শ্যামলী, এনা, সোহাগ ইত্যাদি বাসে আপনি মিরসরাই বাজার পৌঁছাবেন। সেখান থেকে রিকশা, সিএনজি, অটোরিকশাতে আপনি মহামায়া লেকে যেতে পারবেন। তবে ভাড়ার বিষয়টি আগে কথা বলে নিলে ভালো হয়। ঢাকা থেকে যদি মহামায়া লেক দেখতে আসেন তাহলে রাতের গাড়িতে উঠলে সকালবেলায় মহামায়া দেখে বিকেলে চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে থাকতে পারবেন বা চট্টগ্রাম শহরটা ঘুরে রাতে ট্রেন বা বাসে করে চলে যেতে পারবেন। মহামায়া থেকে চট্টগ্রাম শহরে যেতে সময় লাগবে ২ ঘণ্টার মতো।

খাবার ও থাকা
মহামায়া লেকে যাওয়ার আগে সঙ্গে করে খাবার নিয়ে গেলে ভালো হবে। নতুবা  মিরসরাই বাজারে বেশ কিছু হোটেল আছে সেখান থেকে খাবার খেয়ে বা প্যাকেটে করে নিয়ে যেতে পারেন। মহামায়া লেকের আশপাশে থাকার মতো তেমন ভালো মানের কোনো হোটেল নেই। তবে মিরসরাই বারৈয়ারহাটে কিছু হোটেল আছে থাকার মতো। আপনি চাইলে চট্টগ্রাম শহরে এসে থাকতে পারবেন। শহরের জিওসি মোড়, লাভলেইন, নিউমার্কেট, স্টেশন রোডে বেশ কিছু মানসম্পন্ন হোটেল আছে। আপনি পরিবার-পরিজন নিয়ে এই হোটেলগুলোতে থাকতে পারেন। এই হোটেলগুলোর খাবারের মানও বেশ ভালো ।    

কিছু সতর্কতা-
আপনি সাঁতার না জানলে অবশ্যই লেকের পানিতে নামবেন না। নৌকায় করে লেকে ঘুরলে নৌকার ভিতর বসেই প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করবেন। লেকের পানিতে অপচনশীল বা বোতলজাত দ্রব্য ফেলবেন না। নিজের ক্যামেরাটি নিয়ে যাবেন তাহলে লেকের বেশ কিছু সুন্দর ছবি আপনি ক্যামেরাবন্দি করতে পারবেন।

পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে একটু প্রশান্তির জন্য ঘুরে আসতে পারেন মিরসরাইয়ের মহামায়া লেক  থেকে।

উপরে