আপডেট : ২৩ মার্চ, ২০১৬ ১০:০০

বেড়িয়ে আসতে পারেন মুজিবনগর থেকে

অনলাইন ডেস্ক
বেড়িয়ে আসতে পারেন মুজিবনগর থেকে

বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহণের স্থান হিসেবে মুজিবনগর ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। শপথ গ্রহণের  স্মৃতিকে অম্লান করে ধরে রাখার উদ্দেশ্যে শপথগ্রহণের স্থানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে।

অবস্থান
মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স মেহেরপুর থেকে ১৪ কিঃমিঃ দক্ষিনে অবস্থিত।

যে কারণে বিখ্যাত
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামের ঐতিহাসিক আম্রকাননে বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ ঐতিহাসিক ঘটনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে।
ঐতিহাসিক ৬ দফার রূপক হিসেবে তৈরি করা হয়েছে ৬ ধাপের গোলাপ বাগান। মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে ভাস্কর্যের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে এখানে। 

স্থানটির দর্শনীয় দিক 
মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স মুজিবনগরের প্রধান আকর্ষন। প্রতি বছরে দেশ-বিদেশের অগনিত পর্যটক এখানে আসেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস জানতে। 
কমপ্লেক্সের বাইরে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ, রাজাকার-আলবদরদের সহায়তায় মুক্তিকামী বাঙালির উপর পাকিস্তানি হানাদারদের নির্যাতন, ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া সম্মেলন, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্যসহ বিভিন্ন ঘটনা স্থাপত্যকলার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আম্রকানন, ঐতিহাসিক ছয় দফার রূপক উপস্থাপনকারী ছয় ধাপের গোলাপ বাগান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক জীবন্ত প্রদর্শন হিসাবে বিবেচিত হয়। 
মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন সেক্টরের অবস্থান বাংলাদেশের মানচিত্রে প্রদর্শন করে মানচিত্রটি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরস্থ মূল আঙ্গিনায় স্থাপন করা হয়েছে।  সুদৃশ্য এ মানচিত্রটি মুক্তযুদ্ধকালীন বিভিন্ন সেক্টরের অবস্থান ও উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী সম্পর্কিত এক প্রামাণ্যচিত্র।

যে সময় যাবেন
মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স আমাদের মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাস। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে সবাই মিলে ঘুরে আসতে পারেন এখান থেকে। এছাড়াও বছরের যে কোন সময়ে ঘুরে আসতে পারেন মুজিবনগর।

যেভাবে যাবেন
মেহেরপুর জেলা সদর থেকে সড়ক পথে আম্রকাননের দূরত্ব ১৮ কি: মি:। 
মেহেরপুর সদর হতে বাস ভাড়া আনুমানিক ২৫-৩০ টাকা।
আম্রকানন থেকে পায়ে হেঁটে, মেহেরপুর থেকে বাস অথবা অটোরিক্সাতে যাওয়া যায়। যেতে পারেন গাড়ি নিয়েও। 

রেস্টুরেন্ট ও আবাসন
মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের হোটেলে আবাসনের সুব্যবস্থা আছে। এ ছাড়া জেলা পরিষদের স্থাপিত ডাকবাংলোয় আছে আবাসন ব্যবস্থা। মেহেরপুর জেলা সদরে সার্কিট হাউজ, পৌর হল এবং ফিন টাওয়ারসহ অন্যান্য আবাসিক হোটেলে আবাসনের সুব্যবস্থা রয়েছে।
মুজিবনগরে থাকার জন্য বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মোটেল ‘মুজিবনগর´ নির্মাণ করা হলেও সেখানে পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই। মেহেরপুর জেলা সদরেও সাধারণ মানের কিছু হোটেল আছে।

উপরে