আপডেট : ২২ মার্চ, ২০১৬ ২২:১৬

ঘুরে আসতে পারেন পল্লী কবির জন্মস্থান থেকে

অনলাইন ডেস্ক
ঘুরে আসতে পারেন পল্লী কবির জন্মস্থান থেকে

“এইখানে তোর দাদির কবর, ডালিম গাছের তলে তিরিশ বছর ভিজিয়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে” পল্লী কবি জসীমউদ্দিনের চোখের জলে ভিজিয়ে রাখা সেই কবরটির পাশে আজও তাঁর নিজের কবর ভিজিয়ে রেখেছে হাজারও দর্শনার্থীর চোখের জল।

ফরিদপুরের অম্বিকাপুর। কবি জসিমউদ্দীনের বাড়ি। নিস্তব্ধ গ্রাম। স্রোতহীন কুমার নদ। খোলা বাতাস। প্রকৃতির দৃশ্য মন কেড়ে নেয়। কুমার নদের পশ্চিমেই কবির বাড়ি। প্রবেশ করতেই পল্লী গ্রামের প্রকৃতি যেন আমার অনুভূতি স্পর্শ করে স্বাগত জানাচ্ছে। চারিদিকের গাছপালা, বাগান, কবির সমাধি ক্ষেত্র, পাখির কিঁচির মিচির শব্দ। কবির বাড়ী-আঙ্গিনায় চারটি দোচালা টিনের ঘর। তাতে লেখা; কোনটি কার ঘর। দক্ষিণে কবির ঘরে প্রবেশের অনুমতি না থাকায় চার পাশটা ঘুরেই দেখতে হলো। বারান্দায় ছোট ছোট পাটের ছিকা। ভিতরে নকশা করা মাটির রঙিন কলস রাখা। অতি সাধারণ ঘরেই জন্ম নিয়েছেন এই কবি। ছোট্ট টিনের ঘরেই  জসিমউদ্দীনের জন্ম। কবির স্মৃতিঘরে বিভিন্ন মূহুর্তের ছবি তুলে চার দেয়ালে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কবির জীবনের ব্যবহারের বিভিন্ন জিনিস। তার কাঠের আলমারি, থেকে শুরু করে আছে একটা সুন্দর পালকিও।

কিন্ত স্মৃতিঘরের দুটি আলমারিতে সাজানো অসংখ্য মাটির পুতুল সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে দর্শনাথীদের। মজার ব্যাপার হলো প্রিয় কবির প্রিয় পুতুল; স্মৃতিঘরে পুতুলগুলো যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে সকলকে। স্মৃতিঘরের সামনে একটি সাইনবোর্ডে বিশ্বকবির লেখা। জসিমউদ্দীনের কবিতার ভাব ভাষা, রস ও বর্ণ নতুন মাত্রার। 
উঠানের পূর্ব দিকে এখনও ঢেকি-ঘরটি’ স্মৃতি স্বরূপ আছে। ঢেকি-ঘরের সামনে কবির লিখা কিছু কথা মনকে ছুঁয়ে গেল। “আমাদের গরীবের সংসার। ঘি-ময়দা-ছানা দিয়ে জৌলুস পিঠা তৈরীর উপকরণ মায়ের ছিলো না। চাউলের গুড়া আর গুড় এই মাত্র মায়ের সম্পদ।”
কথাগুলোর মাঝে ছিলো একরাশ মায়া, আবেগ অন্যদিকে মায়ের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতিক। কতো অল্পতেও মানুষ সুখি হতে পারে- পল্লী কবি তার ভাষায় প্রকাশ করে গেছেন।
ঢেকি-ঘরের পাশেই আরেকটি ঘর। কবির এই ঘরে অনেক ছবির মাঝে আছে কবি পত্নী‌ মমতাজের ছবি। ঘরের দেয়ালজুড়েও অনেক স্মৃতি কথা, টুকরো কাহিনী। বিভিন্ন ব্যবহার্য জিনিষগুলো এখনও কবির ইতিহাস। জীবনধারার প্রতিচ্ছবি। আছে তার ব্যবহারের কলম, বিভিন্ন বই খাতা ও অন্যান্য সামাগ্রি। সেখানেও রয়েছে অনেক মাটির ও তুলার পুতুল। ঘরের দেয়ালজুড়ে রয়েছে কবির নিজ জীবনের বিভিন্ন কথা লিখা যা ছবির মতই টানানো।
ঘরজুড়ে কবির এতো স্মৃতিচিহ্ন, কবির অস্তিত্ত্বটাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। কবির ঘরের সামনেই কবির নিজ হাতে লাগানো একটি গাছের সামনে দাড়ালোম। তাঁর হাতের ছোঁয়ায় লাগানো সেই গাছ আজও তাঁর বাড়িটিকে সাজিয়ে রেখেছে। আর তার বাড়ির পল্লী প্রকৃতিকে আরো সৌন্দর্যে ভরিয়ে তুলেছে।
কবির সাথে প্রকৃতির যে কি নিবিড় সম্পর্ক। তা তাঁর বাড়িটি দেখলেই ধারনা করা যায়। কবির লাগানো সেই গাছগুলিতে ঝুলছে বিভিন্ন মাটির কলসি। সেই গাছে নাকি পাখি বাসা করতো, তাই সে সেইসব কলসি বেঁধে রাখতো যাতে পাখির নিশ্চিন্তে তাঁর গাছে থাকতে পারে। কতটা পল্লী প্রকৃতির প্রেমিক ছিলেন পল্লী জসিমউদ্দীন। পুরো বাড়িই সেটির প্রতিচ্ছবি। কবির লাগানো গাছ আর পাখিদের জন্য এই সুব্যবস্থা দর্শনার্থীদের সাথে কবির হৃদয়ের মিলে যাওয়া জায়গাটাকে যেন আরো অনেক স্পষ্ট করে তুলে।

স্থানটির দর্শনীয় দিক
এখানে আছে কবির বাড়ি, জাদুঘর, তার আসমানী কবিতার আসমানীদের বাড়ি, কবির সমাধিস্থল এবং আরও অনেক কিছু ।

যে সময় যাবেন বা বেড়ানোর সময়কাল
বছরের যে কোনো সময়ে ঘুরে আসতে পারেন কবির বাড়ি। প্রতিবছর জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহে এখানে আয়োজন কারা হয় জসীম পল্লী মেলা। মেলায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের নানা ধরনের সামগ্রী পাওয়া যায়।

যেভাবে যাবেন
ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর রেলষ্টশনের উত্তরে কুমার নদীর দক্ষিণে গোবিন্দপুর গ্রামে পল্লী কবি জসীম উদদীনের বাড়ী। ফরিদপুর বাসষ্ট্যান্ড হতে ২ কিঃ মিঃ দূরে। রিক্সা/অটোরিক্সা/মাইক্রোবাস যোগে যাওয়া যায়।

রেস্টুরেন্ট ও আবাসিক ব্যাবস্থা
এখানে থাকার ফরিদপুর জন্য শহরে আপনি পাবেন অত্যাধুনিক মানের হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট। এছাড়াও পাবেন বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেলসমূহ।

উপরে