আপডেট : ১১ মার্চ, ২০১৬ ০৯:০৫

ঘুরে আসুন এশিয়ার প্রাকৃতিক স্বর্গীয় দেশে

বিডিটাইমস ডেস্ক
ঘুরে আসুন এশিয়ার প্রাকৃতিক স্বর্গীয় দেশে

মিয়ানমারের প্রাচীন নাম বার্মা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রাকৃতিক স্বর্গীয় দেশ। প্রাচীন ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিতে লালিত মিয়ানমার সত্যিই অদ্ভুত। দেশটির প্রকৃতির রূপ আর অত্যাশ্চর্য সব প্যাগোডা ভিনদেশি পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। উন্নত নাগরিক সভ্যতার মাঝেও এখানে মিলবে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের এক বিরাট অনুভূতি। তাই তো কবির ভাষায় বলতে হয়— রূপ-অপরূপ, বাস্তব-পরাবাস্তবের ব্যতিক্রমী দেশ লেখ্য অপরূপ মিয়ানমার, ভিন্নতর এক ভ্রমণগাথা। জানাচ্ছেন— আবদুল কাদের

 

সীমান্ত শহর দিয়ে যতই এর গভীরে প্রবেশ করবেন ততই এর রূপ-বৈচিত্র্য ফুটে উঠবে। প্রকৃতির মতো মিয়ানমারের সমাজতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যও স্বাধীন। নারীদের স্বাধীনতা আর সর্বক্ষেত্রে পদচারণায় মুখরিত মিয়ানমারের অলিগলি। পথে-প্রান্তরে, পাহাড়ে-অরণ্যে, স্বচ্ছন্দ-সাবলীল চলাফেরায় নৈস্বর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশটি ভ্রমণ বিশ্বের কাছে বেশ পরিচিত। প্রশস্ত হ্রদ, সবুজ পার্ক, নীল পানির সাগর, শ্যামল ক্রান্তীয় বন, সুবিশাল পাহাড় আর অত্যাশ্চর্য সব প্রাচীন ঐতিহাসিক প্যাগোডা বা মন্দির ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মিয়ানমারের প্রতিটি পরতে পরতে। এখানকার শিল্পীদের ঐতিহ্যবাহী নাচ আর ‘রয়্যাল কারাউইক প্যালেসের’ রাতের খাবার বেশ উপভোগ্য।

► কখন যাবেন : মিয়ানমার বেড়ানোর সবচেয়ে ভালো ও উপযুক্ত সময় শীতকাল। অর্থাত্ অক্টোবর-জানুয়ারি দর্শনার্থীদের জন্য উপযুক্ত সময়। পর্যটকরা স্বচ্ছন্দে তাদের পছন্দের স্থানগুলোতে ঘোরাফেরা করতে পারবেন।

► কীভাবে যাবেন : মিয়ানমার ভ্রমণের সবচেয়ে সহজলভ্য উপায় হলো বিমানে ভ্রমণ। বিমানে ভ্রমণের জন্য মিয়ানমার সরকার ভ্রমণকারীদের অন-এরাইভাল ভিসা দিয়ে থাকে। এ ছাড়া বাইরোডেও মিয়ানমার ভ্রমণ করতে পারবেন। এ জন্য ঢাকা থেকে টেকনাফ বন্দরের ইমিগ্রেশন অফিস থেকে মিয়ানমার যাওয়ার এন্ট্রি পারমিট নিতে হবে। এমনকি এ ইমিগ্রেশন জেটি থেকে আপনার কাঙ্ক্ষিত মিয়ানমারে আসা-যাওয়ার বোট পাওয়া যাবে।

►ভিসা প্রসেসিং : ভ্রমণকারীদের মিয়ানমার সরকার বিভিন্ন মেয়াদের ভিসা প্রদান করে থাকে। এ ছাড়া অনলাইনেও ভিসা ফরম পূরণ করা যাবে। অনলাইনে ভিসার জন্য আবেদন করার তিন দিনের কার্যদিবসের মধ্যে ভিসা প্রসেসিং শেষ হয়ে যায়। ভিসার জন্য অনুমোদনপত্র ই-মেইলের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পাঠানো হয়। ভিসার জন্য www.myanmar-visa.org ওয়েবসাইট থেকে সব সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করতে পারেন। ভ্রমণ ভিসার জন্য খরচ করতে হবে ৫০ ডলার আর মেয়াদ হবে ২৮ দিন।

► প্রয়োজনীয় কাগজপত্র : মিয়ানমারের ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য দরকার ৬ মাসের মেয়াদসহ বৈধ পাসপোর্ট, ২ কপি ৪/৬ সে.মিটারের রঙিন ছবি, ব্যাকগ্রাউন্ডের রং নীল অথবা সাদা হতে হবে, ভ্রমণ ভিসার অনুমোদনপত্র, ভিসা স্ট্যাম্পের নগদ ডলার, বিমানের টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ের কপিসহ ছয় মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট ইত্যাদি।

► থাকা-খাওয়া : মিয়ানমার খুব বেশি দিন হয়নি পর্যটন বিশ্বের নজর কেড়েছে। কিন্তু এ স্বল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক আলোচিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশটি। বিদেশি পর্যটকদের জন্য রাজধানী ইয়াঙ্গুনসহ প্রতিটি শহরেই রয়েছে বিলাসী হোটেল-রিসোর্টের সুবিধা। রয়েছে দেশি-বিদেশি খাবারের ব্যবস্থা। এখানকার নামি হোটেলের মধ্যে ফিফটি স্ট্রিট, গ্রীন এলিফ্যান্ট, লা প্লান্তুর, রয়্যাল কারাউইক প্যালেস অন্যতম।

► দর্শনীয় স্থান : মিয়ানমার দেশটি প্রকৃতির অপরূপ এক নিদর্শন। অনেক প্রাচীন মন্দিরের রয়েছে হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ইতিহাস আর ঐতিহ্য। জেনে নিই রূপ-বৈচিত্র্যের প্রাকৃতিক স্বর্গ মিয়ানমারের পর্যটনকেন্দ্র সম্পর্কে।

০. বেগান : ঐতিহাসিক বৌদ্ধমন্দির, প্যাগোডা আর প্রাকৃতিক সবুজে ঘেরা বেগান পর্যটন বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণ। এটি মিয়ানমারের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্পট। এখানে প্রায় ১৩ হাজারের বেশি বৌদ্ধমন্দির রয়েছে। এটি ৯ম থেকে ১৩ শতাব্দীর রাজাদের সাম্রাজ্য হিসেবে পরিচিত। এটি সোনালি শহর হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

০. গোল্ডেন প্যালেস : এটি মান্দালয়ের ঐতিহাসিক বৌদ্ধবিহার। কথিত আছে, এখানে তত্কালীন মৃত রাজার আত্মা ঘুরে বেড়ায়। এটাকে রাজার ছেলে মূল রাজবাড়ী থেকে আলাদা করে। পরে এটিকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মশালায় পরিণত হয়। একসময় এটি সোনা দিয়ে ঘেরা ছিল কিন্তু বর্তমানে তা কেবল বিহারের ভিতরে সাজানো।

০. ম্রাউক উ : মিয়ানমারের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য হিসেবে এই শহরটি ব্যাপক আলোচিত। একসময় এই শহরটিকে ঘেরা দেয়ালের দুর্গ মনে করা হতো। বিশাল এ দেয়ালটি মূলত এখানকার প্রাচীন মন্দিরগুলোকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করার জন্য তৈরি করা হয়।

০. তুয়াং কালাত : এটি মিয়ানমারের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। বিহারটি আগ্নেয়গিরির ঠিক মুখে অবস্থিত। এ বিহারটির মূল আকর্ষণ ৭৭৭টি সিঁড়ি। এ পাহাড়ের চূড়া থেকে আশপাশের প্রকৃতি অতুলনীয়।

০. শ্বেদাগন প্যাগোডা : এটাকে বৃহত্তম ড্রাগন প্যাগোডাও বলা হয়। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি অত্যন্ত পবিত্র স্থান। প্রাচীন ঐতিহ্যের অনেক নিদর্শন রয়েছে এখানে। রয়েছে গৌতম বুদ্ধের চুল ও বহু অমূল্য পাণ্ডুলিপি।

০. নগেপালি : সাদা বালি আর বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশির নগেপালিকে সাজিয়েছে অপরূপ সৌন্দর্যে। অধিকাংশ পর্যটক এখানে মাছ ধরার জন্য আসেন।

এ ছাড়া পুরো মিয়ানমারেই ইরাবতির স্পর্শ। মিয়ানমারের প্রধান ১৫টি শহর অবস্থিত ইরাবতির তীরে। রাস্তার দুই পাশের গ্রামীণ প্রকৃতি আর জনগোষ্ঠীর জীবন-যাপন পর্যটকদের বাড়তি পাওয়া। পাহাড়ের চূড়ায় মন্দিরগুলোর সঙ্গে জেলেদের ধরে আনা মাছ দেখারও সুযোগ।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

উপরে