আপডেট : ৭ মার্চ, ২০১৬ ২২:০৮

স্বপ্ন নগরী ভেনিস

বিডিটাইমস ডেস্ক
স্বপ্ন নগরী ভেনিস

ভেনিস হচ্ছে ইওরোপের ৬টি বৃহত্তম নগরীর মধ্যে অন্যতম। প্রতি বছর লাখ লাখ লোক এই নগরী দর্শন করতে আসেন। দর্শনার্থীরা এর ইতিহাস, শিল্প, ফ্যাশন ও খাবার দাবার সম্পর্কে জানতে চান। মোহনীয় ও রোমান্টিক নগরী হিসেবে সকল পর্যটকের পর্যটন তালিকার শীর্ষে রয়েছে ভেনিস নগরী। রহস্যময় অলিগলি গুলো ভেনিস নগরীকে করে তুলেছে ‘সিটি অব লাভ এন্ড লাইটস’ অর্থাৎ ‘ভালোবাসা ও আলোর নগরী’। ১১৮ টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ভেনিস নগরীর দ্বীপগুলো সেতু দিয়ে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত। তাই এটাকে ভাসমান নগরীও বলা হয়।

ভেনিসের শিল্প, ইতিহাস ও সংস্কৃতির জন্য যে কেউ যেতে পারেন, এর ‘ভৌজ প্যালেস’-এ। এটা পিয়াজ্জা সান মার্কো’তে অবস্থিত। এটা নগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। এই ভবনটি গথিক স্থাপত্য রীতিতে নির্মিত, এক সময়ে এটা ছিলো ডৌজ অব ভেনিসের বাসস্থান। পরে ১৯২৩ সালে এটাকে একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়। বলা হয়, প্রজাতন্ত্রের ঐশ্বর্য প্রদর্শনের জন্য এই প্রাসাদটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এখানে শিল্পকর্ম ডৌজের স্থাপত্য প্রদর্শিত হচ্ছে। চৌদ্দ শতকের প্রথমভাগে পিয়াজ্জা সান মার্কো ছিলো ভেনিশীয় প্রজাতন্ত্রের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কেন্দ্রস্থল। এর চারপাশে রয়েছে অগণিত বুটিক রেস্তোরা, ক্যাফে ও জাদুঘর।

 সান মারকো ও সান পলো জেলা দু’টির মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত ‘গ্র্যান্ডফ্যানাল’ এর উপর রয়েছে প্রাচীনতম সেতু ‘রিয়ালটো ব্রিজ’। ব্রিজ থেকে ফ্যানাল বা খালের দৃশ্যটি অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। এই সেতুর নীচ দিয়ে গন্ডোলা বা ছোট্ট নৌকোয় চড়ে ভ্রমণ পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। উনিশ শতকের ইংরেজ কবি লর্ড বায়রনের নামে একটি সেতু রয়েছে এখানে। কিংবদন্তী প্রেমিক প্রেমিকারা যদি সূর্যাস্তের সময়, যখন ক্যাম্পানাইল গীর্জায় ঘন্টিগুলো বাজবে, তখন এই ব্রীজের নীচে দাঁড়িয়ে পরস্পরকে চুম্বন করে তবে তারা স্বর্গীয় ভালোবাসা লাভ করবে।

পিয়াজ্জা সান মারকোর পরেই রয়েছে ‘ফ্যাবরিক্স গিলিয়ানা’। এখানে পাওয়া যায় হাতে তৈরী শো পীস, বালিশ, ক্যালিগ্রাফি ও অন্যান্য উপহার সামগ্রী। সর্বোপরি ভেনিসের সকল রাস্তার পাশেই রয়েছে অগণিত ছোট বুটিক ও অন্যান্র বিপণী, যা যেকোন মানুষকে আকৃষ্ট করবে। ভেনিসের আরেকটি আকর্ষণীয় জিনিস হচ্ছে গ্লাসের জন্য বিখ্যাত দ্বীপ মুরানোর মধ্যে দিয়ে নৌকো ভ্রমণ। এই দ্বীপে ফ্যাক্টরীতে নয়, শিল্পীরা হাত দিয়ে নানা ধরনের কাঁচ সামগ্রী করে থাকেন। এগুলো যেমন শৈল্পিক তেমনি দৃষ্টিনন্দন।

ভেনিসের অন্যতম জনপ্রিয় একটি রেস্তোরাঁ হচ্ছে ‘ট্র্যাট্টোরিয়া, ডি ফর্নি’। রেস্তোরাঁটি ভেনিসের সবচেয়ে অদ্ভূত ও প্রাচীন ঐতিহ্য বহন করছে। স্বর্ণযুগে, এই রেস্তোরাঁটি ছিলো একটি বেকারী, যা রুটি ও মিষ্টি বিক্রি করতো। কিন্তু ১৯৭৩ সালে এটাকে একটি রেস্তোরাঁয় রূপান্তরিত করা হয়। এখানে প্রচলিত ভেনিশীয় খাবারসহ চমৎকার সব সামুদ্রিক খাবার পাওয়া যায়। এছাড়া ভেনিসে রয়েছে ‘বিসট্রট ডি ভেনাইজ’ নামক রেস্তোরাঁ, ‘ক্যাফে ফ্লোরেইন’ নামক দেশের প্রাচীনতম ক্যাফে। ক্যাফেটি ১৭২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। 

আউটডোরে বসে অকেস্ট্রার পাশাপাশি খাবার উপভোগের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। থাকার জন্য রয়েছে বিখ্যাত ‘হোটেল ড্যানিয়েলি’। অন্তত: ২০১০ টি সিনেমা এখানে চিত্রায়িত হয়েছে।  এখানে চিত্রায়িত হযেছে এঞ্জেলিনা  জোলি ও জনি ড্যাপ-এর বিখ্যাত ‘দ্য ট্যুরিস্ট’ মুভিটি। ড্যানিয়েলি তার চমৎকার সার্ভিসের জন্য এ বছর ‘ট্রিপ এডভাইজার’ সার্টিফিকেট লাভ করেছে। সব মিলিয়ে ভেনিস যে পর্যটনের জন্য একটি অনন্য নগরী এতে কোন সন্দেহ নেই।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে