আপডেট : ২ মার্চ, ২০১৬ ১৮:৪২

চা-বৃষ্টির দেশে

বিডিটাইমস ডেস্ক
চা-বৃষ্টির দেশে

নমঃ নমঃ নমঃ বাংলাদেশ মম

চির-মনোরম চির-মধুর।

বুকে নিরবধী বহে শত নদী

চরনে জলধীর বাজে নূপুর

নমঃ নমঃ নমঃ বাংলাদেশ মম . . . . . . . . . .

বাংলার এই সবুজ শ্যামল রূপ আর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিস্তর জলরাশি দেখে আমাদের প্রাণের কবি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই ভাবেই তার কবিতায় নিজের অনুভুতি ব্যাক্ত করেন। বিশ্ব বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতাও মুগ্ধ হয়েছিলেন বাংলার রূপে।

তাইতো রূপবতি বাংলার রূপ দেখতে আরিফ, তাফহীম, সাইফ, সুমন্ত, বুলেট ও আনিস বের হলাম ভ্রমনে দেশের সর্ববৃহত্ত চা বাগান ও বৃষ্টি বহুল অঞ্চল শ্রীমঙ্গলে। ঢাকা হতে রওনা দিয়ে আমরা গভীর রাতে অবর্তিন হই শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে ষ্টেশনে আর সেই স্থানে র্নিঘুম প্রহরীর ন্যায় দাড়িয়ে প্রভাতের অপেক্ষায়। এর মাঝে ঝক্ ঝক্ ঝক্ শব্দে অতীক্রম করে দুটি ট্রেন। কিছু সময় যেতে না যেতেই অনেক গুলি মসজিদ হতে ভেসে আসে আযানের মধুর ধ্বনি। বোঝা গেল সূচনা হচ্ছে একটি নতুন দিনের আমরা যার অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলাম।

মসজিদ হতে ফজরের নামায শেষ করে যখন আমরা রাস্তায় বের হলাম, তখনও দেখা মেলেনি সূর্য মামার। মেঘলা আকাশ সঙ্গে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। মেঘের সঙ্গে যতখনে যুদ্ধ করে বের হয়ে এল সূর্য ততক্ষনে আমাদের ইস্পাহানি চা বাগানের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা শেষ।

চা, রাবার, আনারস ও কাঠাল বাগানের সঙ্গে পাহাড়ের চূড়ায় মাটির তৈরি ঘর বাড়ি দেখে মুগ্ধ হলাম সকলেই। এর পর ফিরে এলাম মূল শহরে লক্ষ্য এবার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ব্যাস উঠলাম বাসে লক্ষ্য লাউয়াছড়া, চলছে বাস তার আপন গতিতে।

লাউয়াছড়া উদ্যানে ঢুকতেই চোখে পড়বে সারিবদ্ধ বিশালাকার বৃক্ষ ও রেল লাইন যা দেখে যে কোন মানুষের মন জুড়িয়ে যাবে ব্যাতিক্রম হয়নি আমাদের ক্ষেত্রেও। হাটতে হাটতে আমরা চলে এলাম গহিন অরণ্যে।

নির্ঘুম অলস দুপুরে শুধু আমরা, পাখির কিচি মিচি সাথে শেয়ালের হুক্কা হুয়া শুনতে শুনতে গহিন অরণ্যে খাসিয়া পুজ্ঞীর দিকে অগ্রসর হলাম, পাহাড়ের উচু উচু সিড়ি বেয়ে পৌছালাম খাসিয়াদের বাড়িতে অনেক সময় অবস্থান করলাম সেখানে, তাদের জীবন সম্পর্কে আমরা কিছু ধারনা নিলাম। সূর্য তখন পশ্চিম আকাশে আর বলছে তোমাদের যাওয়ার সময় হল, কিন্তু শ্রীমঙ্গলের বিখ্যাত সেই পাঁচ রং’র চা না খেয়ে গেলে ভ্রমনটাই রয়ে যাবে অপূর্ণ তা তো হতে দেয়া যায় না। মুষল ধারায় ঝরছে বৃষ্টি। বৃষ্টিতে ভিজে পৌছালাম নীলকন্ঠে পাচঁ রং চা’র স্বাদ নিতে, নেওয়া হল সেই পাঁচ রং’র চা’র স্বাদ। পাঁচ রং এরে চা থেকে পাঁচ রকম স্বাদ। বিকেল গড়িয়ে তখন গোধূলি হয়ে গেছে। অবশেষে গোধূলি লগনে কিছু স্মৃতি, কিছু আশা, কিছু ভালবাসা, কিছু অপূর্ণতা ও অপূর্ব এক প্রাকৃতিক নয়নাভিরাম দৃশ্যকে সঙ্গী করে ফিরে এলাম আবার চিরচেনা সেই ইট পাথরের ঢাকাতে।

রবিঠাকুরের ভাষায় শেষ করছি . . . . .

দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া,

ঘর হতে শুধু দু পা ফেলিয়া,

একটি ধানের শীষের উপর

একটি শিশির বিন্দু।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

 

উপরে