আপডেট : ২৬ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৯:২১

যাওয়ার আগে জেনে নিন নিঝুম দ্বীপ সম্পর্কে

বিডিটাইমস ডেস্ক
যাওয়ার আগে জেনে নিন নিঝুম দ্বীপ সম্পর্কে

চারদিকে সবুজ গাছাগাছালি আর প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন এক নিমিষেই। যেতে পারেন প্রকৃতির অভয়ারণ্য নিঝুম দ্বীপে। এ দ্বীপের চারদিক ঘিরে রয়েছে কেওড়া ও গেওয়া বন।

এছাড়াও রয়েছে মনোরম প্রকৃতি, বিচিত্র পাখির কুহুতান আর চপল সোনালী হরিণের দল। দিন শেষে সন্ধ্যা এলেই এসব হরিণের শুরু হয় হাঁটাচলা। রাতের নির্জনতায় উপভোগ করতে পারেন শিয়ালের হুক্কা-হুয়া ডাক। এসবই একান্তে উপভোগের একমাত্র উৎস নিঝুম দ্বীপ। শীতকালে অতিথি পাখির কলতানে মুখর এ অঞ্চল ঘুরে আসতে পারেন।

নিঝুম দ্বীপ বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় অবস্থিত। আয়তনে প্রায় ১৪,০০ একর। ১৯৯৬ সালের হিসেব অনুযায়ী দ্বীপটি বিস্তৃত ৩৬৯৭০.৪৫৪ হেক্টর এলাকা জুড়ে। বাংলাদেশে বন বিভাগ ৭০ দশকে বন বিভাগের কার্যক্রম শুরু করে পরীক্ষামূলকভাবে চারজোড়া হরিণ ছাড়ে। ১৯৯৬ সালে হরিণের সংখ্যা দাড়ায় ২২,০০০ হাজার। এছাড়াও এ দ্বীপ বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে পরিচিত।

এ দ্বীপের নামকরণে রয়েছে একটি ইতিহাস। ১৯৫০ সালে এ দ্বীপে কোনো জনবসতি ছিল না। তাই নিঝুম দ্বীপ বলেই পরিচিতি ছিল। পরবর্তিতে মহিষের বাথান নিয়ে প্রথম বসতি স্থাপন করেন ওসমান নামক এক ব্যক্তি। ১৯৭৪ সালে হাতিয়ার তৎকালিন সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম কালাম মূলত বল্লারচর, চর ওসমান, কামলার চর এবং চরমুরি এ চারটি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত এ দ্বীপের নামকরণ করেন নিঝুম দ্বীপ।

নিঝুম দ্বীপে কোনো হিংস্র প্রাণী নেই। বনের মাঝে চোখে পড়বে হরিণ কিংবা মহিষের বসবাস। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ৩৫ হাজার পাখি। শীত মৌসুমে ভীড় করে নানান প্রজাতীর পরিযায়ী পাখি। দ্বীপের বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে পলিমাটির চর। যা জোয়ারে তলিয়ে যায় এবং ভাটায় জেগে ওঠে। পলিমাটির নরম কাদায় চোখে পড়বে শুভ্র শরৎ বকের দল। আর এসব পাখিদের একমাত্র খাদ্য খালের বুকে ছুটে চলা মাছ। মারসৃপারি নামে একধরণের উভচর প্রাণী হিসেবে পরিচিত এক ধরণের মাছ। পাঁচবছর পর্যন্ত এ মাছ বেঁচে থেকে ৬-৯ইঞ্চি লম্বা হয়।

বর্ষা মৌসুমে ইলিশের জন্য বিখ্যাত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মাছ ব্যবসায়ীরা এ দ্বীপে মাছ কিনতে আসে। শীত পরবর্তী মৌসুমে চেঁউয়া মাছের জন্য বিখ্যাত এ দ্বীপ। জেলেরা এসব মাছ শুটকি তৈরি করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাজারজাত করে। এ শুটকি ঢাকা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৩০-৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হয় এবং হাঁস মুরগির খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার হয় এ সব সুটকি। উদ্ভিদপ্রণালী হিসেবে রয়েছে কেওড়া ও গেওয়া গাছ। এছাড়াও রয়েছে ৪৩ প্রজাতির লতাশুল্ম এবং বিভিন্ন প্রজতির বৃক্ষরাজি।

যেভাবে যাবেন

ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চযোগে হাতিয়া তমরুদ্দি অথবা নলচিরা লঞ্চঘাট। তারপর নৌকাযোগে হাতিয়া হয়ে সড়কপথে নিঝুম দ্বীপ। এছাড়াও রয়েছে ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী উপকুল এক্সপ্রেস। কমলাপুর থেকে ছাড়ে পৌনে তিনটায়।

কোথায় থাকবেন

পর্যটকদের সুবিধার্তে নিঝুম দ্বীপে রয়েছে রিসোর্টের ব্যবস্থা। আবাসিক সুবিধাসহ রয়েছে হোটেল। তবে স্থাণীয়ভাবে উৎপাদিত চাল, মাছ, মুরগী, ডিম ইত্যাদি খাবারের একমাত্র ভরসা। তবে বর্ষা মৌসুমে ইলিশের জয়জয়কার পরে যায়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে