আপডেট : ২৫ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৭:৩৬

‘বাইক্কা বিল’-এ পাখির মেলায় ডানা মেলুন আপনিও

বিডিটাইমস ডেস্ক
‘বাইক্কা বিল’-এ পাখির মেলায় ডানা মেলুন আপনিও

শহরের কোলাহল ছেড়ে ঘুরে আসুন ‘বাইক্কা বিলে’। যেখানে শীত এলেই হাজারও পাখি ভিড় করে। প্রতিদিন রঙ বেরঙের পাখিরা ডাকে চেনা-অচেনা সুরে। তাই আর দেরি কেনো?

শীতের পরিযায়ি পাখিদের এসব আনাগোনা দেখতে যেতে পারেন মৌলভিবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাইক্কা বিলে। ছুটির অবসরে ঘুরে আসতে পারেন এ বিলে। কারণ পাখিরা মূলত শীতকালেই হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে এদেশে উড়ে আসে।

নানান প্রজাতির পাখি আর মাছের অভয়ারণ্য প্রায় একশ হেক্টর আয়তনের জলাভূমিই বাইক্কা বিল। বাইক্কা বিলে রয়েছে প্রায় ৯৮ প্রজাতির মাছ ও ১৬০ প্রজাতির পাখি। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় এই বিলকে মাছের অভয়াশ্রম হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। আইড়, মেনি, কই, ফলি, পাবদা, বোয়াল, রুই, গজারসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আছে এখানে। শুধু মাছই নয়, নানান রকম দেশি আর পরিযায়ী পাখিরও অভয়াশ্রম এই বিল।

বাইক্কা বিলে সবচেয়ে মন জোড়ানো আকর্ষণ হলো পরিযায়ী আর স্থানীয় পাখি। বিলের শুরুতেই দেখা মিলবে দলে দলে পার্পল সোয়াম্প হেন বা কালেম। পাশেই হয়তো দেখবেন গ্রেট কর্মোরান্ট বা ছোট পানকৌড়ি, লিটল কর্মোরান্ট বা বড় পানকৌড়ির দল।

গলাটা সাপের মতোই লম্বা বলে আরেকটি পাখির নাম সাপ পাখি, ইংরেজিতে বলা হয় ওরিয়েন্টাল ডার্টার। দেখতে অনেকটা পানকৌড়ির মতো এরা।

দৃষ্টিটা একটু বাড়িয়ে কচুরিপনার ভেতরে দিলে হয়তো চোখে পড়বে ডাহুক, জল মোরগ, দল পিপি কিংবা নেউ পিপি। খুব কাছে থেকেই দেখা যাবে গ্রেট এগ্রেট বা বড় বকের মাছ শিকার। একটু দূরে নজর দিলে হয়ত দেখা যেতে পারে গ্রে হেরন বা ধুসর বক কিংবা পার্পল হেরন বা বেগুনি বকও।

এ বিলে দেখা যায় পৃথিবীর বিপন্ন প্রজাতির পাখি ব্ল্যাক হেডেড আইবিস বা কালোমাথা কাস্তেচরা। দেখতে অনেকটা বড় বকের মতোই, শুধু মনে হবে কেউ যেন গলাটা ধরে আলকাতরায় ডুবিয়ে দিয়েছে। অপেক্ষাকৃত কম পানির জায়গায় এরা কাদা ঘেঁটে খাবারের সন্ধানে ব্যস্ত থাকে।

বিলের দাপুটে পাখিরা হল শঙ্খচিল, ভুবন চিল, পালাসী কুড়া ঈগল, গুটি ঈগল ইত্যাদি। এ সময়ে আরও দেখা মিলবে বিলের অতিথি পাখি সরালি, মরচেরং ভুঁতি হাঁস, গিরিয়া হাঁস আর ল্যাঞ্জা হাঁসের ভেসে চলা। বিলের মধ্যে অপেক্ষাকৃত দূরত্বে দেখা মিলবে মেটেমাথা টিটি, কালাপাখা ঠেঙ্গী গেওয়ালা বাটান ইত্যাদি।

বাইক্কা বিলের পাখি বৈচিত্র্যের সামান্য কিছুই লিখে প্রকাশ করা যায়। বাকিটা চোখে দেখতে হলে সময় ঠিকঠাক করে চটজলদি বেড়িয়ে পড়তে হবে।

শীত চলে গেলে পাখিরাও কমে যায় বিল থেকে। বিলের পাখি উপভোগের জন্য দুটি পর্যবেক্ষণ বুরুজ আছে। নৌকায় ঘুরে বিল দেখা সাময়িক বন্ধ রেখেছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন।

যেভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সড়ক পথে যেতে পারেন। সড়কপথে যেতে হলে আপনাকে যেতে হবে ফকিরাপুল অথবা সায়দাবাদ। সেখানে থেকে প্রতিদিন শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায় ‘হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, এনা পরিবহন, সিলেট এক্সপ্রেস ইত্যাদি পরিবহন। ভাড়া সাড়ে ৩শ থেকে সাড়ে ৪শ টাকা।

রেলপথে যেতে হলে আপনাকে যেতে ঢাকার কমলাপুরে। মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৬.৪০ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্তঃনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস, দুপুর ২.০০ মিনিটে প্রতিদিন ছাড়ে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এবং বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ১০.০০ মিনিটে ছাড়ে উপবন এক্সপ্রেস। ভাড়া ১১৫-৭৬৫ টাকা।

বাসে অথবা রেলে করে আপনাকে নামতে হবে শ্রীমঙ্গল। যাতায়াতে সরাসরি কোনো পরিবহন নেই। তাই এখান থেকে সারাদিনের জন্য আপনাকে ভাড়া করতে হবে সিএনজিচালিত বেবি টেক্সি, জিপ অথবা মাইক্রোবাস। সিএনজি চালিত বেবি টেক্সি ভাড়া পড়বে ১ হাজার ২শ’ থেকে দেড় হাজার টাকা। আর জিপ কিংবা মাইক্রোবাসের ভাড়া পড়বে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা।

থাকার জায়গা

রাতে থাকার জন্য শ্রীমঙ্গল শহরে বেশ কিছু হোটেল মোটেল রয়েছে। পছন্দের হোটেলে রুম বুকিং দিতে চাইলে নেটে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন যাবতীয় তথ্য। শহর থেকে অভয়াশ্রমটির দূরত্ব প্রায় বিশ কিলোমিটার। দু-চোখ আর মন ভরে পাখি দেখতে চাইলে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরো একটা দিন বাইক্কা বিলে কাটিয়ে দিন।

খাবার

সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার ও পানি রাখুন, চাইলে পার্শ্ববর্তী বাজার থেকে টাটকা শাক-সবজি-মাছ-মুরগি কিনে রেঁধেও খেতে পারেন।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে