আপডেট : ২৪ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৮:৩৭

সাগরকন্যার বেলাভূমিতে দেখুন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত

বিডিটাইমস ডেস্ক
সাগরকন্যার বেলাভূমিতে দেখুন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত

সমুদ্রে, আপনি কি জলের নিচ থেকে জলজ্যান্ত সূর্যটাকেই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেখেছেন কখনো? কিংবা দেখেছেন কি, লালিমা ছড়িয়ে জলের নিচেই প্রিয় নক্ষত্রটাকে ডুবে যেতে!

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, জলের নিচ থেকে সূর্যের এই ওঠা-নামা এক বেলাভূমিতেই দেখা সম্ভব। তার জন্য আপনাকে ভিসা পাসপোর্ট করতে হবেনা। কেবল ব্যাগ গুছিয়ে রওনা দেন কুয়াকাটা’র উদ্দেশ্যে।

‘কুয়াকাটা’ বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্তে সাগরকন্যা খ্যাত অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি। বরিশালের পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপালী ইউনিয়নে অবস্থিত এ জায়গায় আছে বাংলাদেশের সর্বাপেক্ষা আকর্ষণীয় সমুদ্র সৈকত।

এক সৈকতেই সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখার এমন জায়গা দ্বিতীয়টি আর এদেশে নেই। অনিন্দ্য সুন্দর সমুদ্র সৈকত ছাড়াও কুয়াকাটায় আছে বেড়ানোর মতো আরও নানা আকর্ষণ।

কুয়াকাটার বেলাভূমি বেশ পরিচ্ছন্ন। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এ সৈকত থেকেই কেবল সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সৈকতের পূর্ব প্রান্তে গঙ্গামতির বাঁক থেকে সূর্যোদয় সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায়। আর সূর্যাস্ত দেখার উত্তম জায়গা হল কুয়াকাটার পশ্চিম সৈকত।

সৈকতটি প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। পুরো এলাকাতেই আছে দীর্ঘ নারিকেল গাছের সারি। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে এ বনেও। বিভিন্ন সময়ে সমুদ্রের জোয়ারের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ভাঙনের কবলে পড়েছে সুন্দর এই নারিকেল বাগান। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে সারা বছরই দেখা মিলবে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য।

পটুয়াখালী জেলা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে আরও তিনটি নদী লোহালিয়া, লাউকাঠি ও পায়রা নদী। জেলার পশ্চিমে রয়েছে পায়রা, উত্তরে লাউকাঠি ও পূর্বে লোহালিয়া নদী অবস্থিত। পটুয়াখালী লোহালিয়া নদীর তীরে অবস্থিত।

শহরের বিখ্যাত ‘পুরান বাজার’ অবস্থিত এই লোহালিয়া নদীর তীরে। এ ছাড়া লাউকাঠি নদীর তীরে গড়ে উঠেছে নতুন বাজার এলাকা। প্রতিদিন শত শত মানুষ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে তাদের পণ্য নিয়ে আসে এই বাজারগুলোতে।

পায়রার ইলিশের খ্যাতি দেশজোড়া। এছাড়া কোড়াল, পাঙ্গাশ, কাঁচকি, ভাটা, চিংড়ি ইত্যাদি মাছসহ আরো বিপুল জলজ প্রাণীর আধার এই নদীগুলো। একসময় মিঠা পানির কুমির পায়রা নদীতে দেখা গেলেও তা আজ বিলুপ্ত।

নদীর পাড়ে ঘুরতে পারেন। তবে বর্ষা কিংবা জোয়ারের সময় খেয়াল রাখবেন। সাঁতার না জানলে এ সময় নদীতে না নামাই শ্রেয়। কারণ এই সময়ে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে পায়রা।

স্বাভাবিক ছুটির দিনগুলোতে ট্রলার ভাড়া থাকে ২০০ টাকার মতো, তবে সেটা দরদাম করে ঠিক করতে হবে। আর ঈদে কমপক্ষে ৩৫০ টাকা ঘণ্টা। স্বল্প খরচে দ্রুত সময়ে ভ্রমণের জন্য দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে স্থানটি।

আকারে লোহালিয়া পায়রার থেকে ছোট, স্রোতও তুলনামূলক কম। শহরের ভেতরে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিদিন বিকেলে শত শত মানুষের বিনোদনের স্থান হয়ে উঠেছে নদীটি।

শহর রক্ষা বাঁধের ওপর দিয়ে আপনি চাইলে অনেক দূর পর্যন্ত হাঁটতে পারেন প্রিয় মানুষের সঙ্গে। শহর থেকে চাইলে শান্ত-নিবিড় গ্রামীণ পরিবেশে হারিয়ে যেতে পারেন এই বাঁধের পথটি ধরে। এর নদীবক্ষে ভ্রমণ পায়রার থেকে অনেক নিরাপদ। শেষ বিকেলের গোধূলি আলোয় অনাবিল রূপ ধারণ করে লোহালিয়া নদী।

লাউকাঠি নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ব্যবসায়ী স্থাপনা। তাই ভ্রমণের ক্ষেত্রে আপনি নৌকাকেই বেছে নিতে পারেন। ঢাকা-পটুয়াখালী রুটের লঞ্চঘাট এই নদীর তীরে অবস্থিত। ঢাকা থেকে এলে আপনাকে এখানে এসেই নামতে হবে। প্রতিদিন তিনটি বিলাসবহুল নৌযান ঢাকা থেকে আসে এই ঘাটে।

যেসব লঞ্চে যাবেন

বর্তমানে ঢাকা থেকে এমভি সুন্দরবন-৯ ও ১১, কুয়াকাটা-১, সাত্তার খান-১, জামাল-৫, কাজল-৭, সৈকত-১৪, দীপরাজ-২ নামক বিলাসবহুল লঞ্চ সার্ভিস চালু আছে। ঢাকা সদরঘাট থেকে সন্ধ্যা ৭টায় ছেড়ে যায় লঞ্চগুলো।

খরচাপাতি

লঞ্চে জনপ্রতি ভাড়া ২০০ টাকা, কেবিন সিঙ্গেল ১০০০, ডাবল ১৮০০টাকা। পরিবারের ৭-৮ জন সদস্য হলে আসতে পারেন ভিআইপি কেবিনে, ভাড়া ৩০০০-৩৫০০ টাকা। সুন্দরবন-১১ লঞ্চটিতে সোফা সার্ভিস আছে, ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৫০০ টাকা। সন্ধ্যায় লঞ্চ ছাড়লে ভোর ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে আপনি পৌঁছে যাবেন পটুয়াখালী। কেবিনে এলে আগে থেকে বুকিং দেওয়া ভালো।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

উপরে