আপডেট : ১৬ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৮:০৬

কাঞ্চনজংঘাকে দেখতে বেছে নিন পূর্নিমা

বিডিটাইমস ডেস্ক
কাঞ্চনজংঘাকে দেখতে বেছে নিন পূর্নিমা

দেশের মধ্যে থাকা অনেক কিছুই দেখে ফেলেছেন হয়ত আপনি। ভ্রমণ নেশায় এবার পেরোতে চান কাঁটাতারের বেড়া? যদি তাই হয়, তবে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কাঞ্চনজংঘা কেন নয়? নামটি শুনেই যাদের সেখানে যেতে মন চাইছে, তারা বেছে নিন একটি পূর্নিমাকে। কারণ পূর্নিমাতেই কাঞ্চনজংঘার অনন্য রূপ!

তার আগে ঐন্দ্রিলার লেখা থেকে জেনে নিন কাঞ্চনজংঘা দেখে তার অনুভূতির কথা। ভ্রমণ নিশ্চিন্ত করতে এ লেখা থেকেই সংগ্রহ করুন আপনার প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য।

খোলাচোখে বাঁদিক থেকে ডানদিক ঘাড় ঘোরালে যতটা দেখা যায়, ততটা জুড়েই দৃশ্যমান একের পর এক তুষারধবল শৃঙ্গ। মাউণ্ট খর্গ, কোকথাং, রাথুং, কাবরু, টালু, পান্ডিম, শিমভো, নারসিং, সিনিয়ালচু, খাংচংগায়ো, পানহুন্ড্রি। আর তার মাঝেই রাজার মতো বিরাজমান কাঞ্চনজংঘা।

উত্তরবঙ্গের ছোট্ট গ্রাম রিশপ। হিমালয়ের পায়ের কাছে যে অসংখ্য ছোট-বড় সবুজ পাহাড় ঢেউয়ের মতো ভিড় করে রয়েছে তাদেরই একটির চূড়ায় গড়ে উঠেছে এই জনপদ। আগেই বলে রাখা দরকার, রিশপ থেকে সাইট সিইং দেখার জায়গা বিশেষ নেই। ছোট্ট নির্জন এই গ্রামটিতে আসতে হবে প্রকৃতিকে ভালবেসে। 

আকর্ষণ

পায়ে চলা আাঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তায় এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াতে ভাল লাগবে। চড়াই উতরাইয়ের বাঁকে উঁকি দেবে রংবেরঙের ফার্ন। একটু কষ্ট করে দু'কিলোমিটার ট্রেকিং রুটে টিফিনদাঁড়ায় পৌঁছলে দেখা যাবে দার্জিলিং পাহাড় আর সিকিমের ‘বার্ডস আই ভিউ’। সান্দাকফুরের পরে পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় উচ্চতম ভিউ পয়েণ্ট এই টিফিনদাঁড়া। চড়াই একটু বেশি। কিন্তু, কষ্ট করলে কেষ্ট মিলবে। টিফিনদাঁড়া থেকে কাঞ্চনজংঘা আরও সুন্দর। মনে হবে হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায়। তাই রিশপে গেলে এই জায়গাটি মিস করলে চলবে না।

নেওড়াভ্যালির বাফার এরিয়ায় রিশপের অবস্থান। তাই প্রচুর প্রজাপতি অর্কিডের দেখা মেলে। বিশেষ করে মার্চ-এপ্রিল এবং আগস্ট থেকে অক্টোবর–এই দুই সময়ে ফুলের সাজে সেজে ওঠে পাহাড়ি গ্রাম রিশপ। দেখা মেলে অজস্র নাম-না-জানা পাখির। তবে রিশপকে মোহময়ীরূপে দেখতে হলে আসতে হবে পাঁজি দেখে। পূর্ণিমা তিথিতে। ভরসন্ধ্যায় ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে পাহাড়ের পেছন থেকে চাঁদের উঁকি মারার দৃশ্য একবার দেখলে আপনি ভুলবেননা কোনদিন। ভাগ্য সদয় হলে চাঁদের আলোয় দেখা যাবে কাঞ্চনজংঘাকেও।

রাস্তাঘাট

‘রি’ শব্দটির অর্থ পাহাড়ের চূড়া। আর শপ কথাটি তিব্বতিরা ব্যবহার করে প্রাচীন গাছকে বোঝাতে। রিশপে ঢুকতে গেলেও চোখে পড়বে এমন অনেক পুরনো গাছ। বিশাল বড় বড় পাইন, ফার আর বার্চ গাছের জঙ্গলের মধ্য দিয়ে পাথুরে রাস্তা ধরেই পৌঁছতে হবে রিশপে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে রিশপের উচ্চতা ৮৫০০ ফুট। সব থেকে কাছের শহর লাভা। ১২ কিলোমিটার দূরের ওই শহরে যেতে সময় লাগে ৪৫মিনিট। সেখান থেকে কাছের রেলস্টেশন ৫২ কিলোমিটার দূরে মালবাজার। মালবাজার থেকে লাভা যেতে সময় লাগবে ঘণ্টা দু'য়েক।

বিশ্রাম

হোটেল রয়েছে হাতে গোনা। হোম স্টে’র সংখ্যাই বেশি। সব ক্ষেত্রেই খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করে হোটেল বা হোম স্টে। তবে যেহেতু শহর থেকে দূরে, তাই খাওয়া দাওয়ার খরচ একটু বেশি। বেড়ানোর সিজনে কলকাতা থেকে বুকিং করে যাওয়াই ভাল।

খরচাপাতি

দিন দু'য়েকের জন্য রিশপে থাকতে দু'জনের খরচ পরবে ৪০০০-৪৫০০ টাকা। ডাবল সিটের হোটেল ভাড়া কমপক্ষে ১২০০ টাকা। দৈনিক খাওয়া দাওয়ার খরচ পড়বে জনপ্রতি অন্তত তিন’শো টাকা করে।

এবার তবে ট্যুরিস্ট ভিসা প্রসেসিং সম্পন্ন করে আপনার বাংলাদেশ থেকে কলকাতা যাওয়ার পালা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে