আপডেট : ১৪ আগস্ট, ২০১৮ ১৫:১০

কেমন চলছে কলকাতার ‘সিনেমা হল’?

অনলাইন ডেস্ক
কেমন চলছে কলকাতার ‘সিনেমা হল’?

কলকাতার মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির রয়েছে মেলবন্ধন। সেখানকার সিনেমার খোঁজখবর আমরা নিয়মিত রাখি। কলকাতার সিনেমার সঙ্গে আমাদের দেশের সিনেমার নিয়মিত তুলনা চলে। নানা সময়ে বাংলাদেশের অসংখ্য দর্শক কলকাতায় সিনেমা দেখতেও যায়। বিশেষ করে, আলোচিত কোন সিনেমা হলে তো কথাই নেই। সিনেমা দেখে আবার ফিরে আসেন। এ ঘটনা এখন নিয়মিত। শুধু ভালো সিনেমা নয়, ভালো সিনেমা হলও দরকার। সেক্ষেত্রে কলকাতার তুলনায় আমাদের অবস্থান কী?

যারা কলকাতার সিনেমা হলে ছবি দেখেছেন। এমন কিছু দর্শকের সঙ্গে আলাপ করা হলো। কেমন অভিজ্ঞতা ছিল? অভিনেতা আফজাল হোসেন বলেন, ‘সেখানকার ছবি দেখার পরিবেশ সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। এখন বড় বড় শপিং কমপ্লেক্সে রয়েছে সিনেপ্লেক্স। যেখানে একই সঙ্গে রয়েছে একাধিক সিনেপ্লেক্স। আর এর পাশেই রয়েছে বাহারি ফুড সেন্টার। আপনি চাইলেই আপনার খাবার চলে আসবে সিটেই। আর ছবি দেখার জন্য দর্শকদের সুবিধার্থে করা হয়েছে নানান ডিজিটাল পদ্ধতি।’

প্রতিটি সিনেপ্লেক্সেগুলোর জন্য রয়েছে পৃথক অ্যাপস। অ্যপস ডাউনলোড দিলেই মুহূর্তের আপডেট জানতে পারবেন। কোন সময় কোন ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। সামনে কী আসছে। ছবি দেখার আনন্দকে বাড়িয়ে দেয়ার জন্য আছে নানা কৌশলও। যেমন নতুন ছবি এলেই নায়ক-নায়িকারা দর্শকদের অবাক করে হলে প্রবেশ করেন। নুসরাত ফারিয়া কলকাতায় গেলেই সিনেমা দেখেন। তিনি বলেন,‘কখনও একই ছবি পরপর প্রদর্শিত হয় না। আপনি সকালে যে শো দেখবেন সে শোয়ের পরে নতুন ছবি আসবে। একই ছাদের নিচে একাধিক সিনেপ্লেক্স থাকলে একেক ধরনের ছবি প্রদর্শিত হয়। এতে দর্শক তার পছন্দ মতো ছবি দেখতে পাবে। কোনো রকম বিরক্তির উদ্রেক হবে না।’

ফারিয়া আরও বলেন, ‘যখন আমাদের এখানে বিতর্ক চলছে যৌথ সিনেমা নিয়ে, তখন কলকাতায় আমাদের ছবি দেদারসে চলছে। রাস্তায় নামলে তো এখন জিৎ-দেবের চেয়েও শাকিব খানের বড় পোস্টার দেখতে পাবেন। সেখানকার হলগুলোতে সর্বভারতের চার পাঁচটি ভাষার সঙ্গে হলিউড ছবিও মুক্তি পায়।’

বিদ্যা সিনহা সাহা মিম বলেন, ‘নিরাপত্তা নিয়ে নেই কোনো ভাবনা। আমাদের এখানে হাতেগোনা কয়েকটি সিনেপ্লেক্স। বেশিরভাগই পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখা সম্ভব হয় না। প্রবেশ আর বাহির লেখা পথে যে ধরনের ধাক্কাধাক্কি হয় আমাদের এখানে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের হল বিমুখ করে। কলকাতার সিনেপ্লেক্সগুলোতে এর জন্য আইনী ব্যবস্থা থাকে।’ 

যদিও সিনেমা হল বন্ধের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই কলকাতাও। ঢাকার চেয়ে পিছিয়ে নেই তারাও। লাইটহাউসে এখন বিশাল কাপড়ের দোকান। এক সময়ের ধর্মতলার মেট্রো, সোসাইটি, চ্যাপলিন হারিয়ে গিয়েছে। নিউ মার্কেট এলাকায় কোনো রকমে গ্লোব টিকে রয়েছে। কলকাতা শহরের সিনেমাহলগুলোর জায়গা নিয়ে নিচ্ছে মার্কেটের মাল্টিপ্লেক্সগুলো। চড়া দামেও মাল্টিপ্লেক্সে ভীড় করছেন। সকালের প্রথম শো থেকে অনেকে যেমন কাজে যেতে পারছেন। তেমনি অফিস শেষে কিংবা আর একটু রাত করেও আছে শো।

তবে কলকাতার সিনেমাহলগুলো ঘিরে রয়েছে কিছু অভিযোগও। দর্শকদের হলমুখি করতে তাদের নেয়া বেশকিছু ব্যবস্থা নিয়ে এরমধ্যেই বিতর্ক চলছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘নিভৃত বক্স’ ব্যবস্থা। যুবক-যুবতীদের হলে টানতে একধরণের কাঠের দেয়াল করে বক্স পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে হল কতৃপক্ষ। এত করে যুবক-যুবতীরা হারিয়ে যেতে পারেন সেখানে। কিন্তু এ ব্যবস্থায় ঘটেছে বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা। তবে এমন ঘটনা ও ব্যবস্থা শহরের বাইরের হলগুলোতেই রয়েছে বলে জানা যায়।

কলকাতার জনপ্রিয় কয়েকটি মাল্টিপ্লেক্স: কলকাতায় এখন সিনেমা নির্মাণই হচ্ছে মাল্টিপ্লেক্সকে টার্গেট করে। একটা সময়ে সেখানেও ছিল দুর্গন্ধ, সিটে ছারপোকার কামড়। আর এখন এয়ারকন্ডিশনিং তো আছেই, সঙ্গে আছে এয়ারফ্রেশনার। নেই ছারপোকার অত্যাচার। ছবি মুক্তি পাচ্ছে একসঙ্গে প্রায় আড়াইশ হলে (মাল্টিপ্লেক্সসহ)।

প্যারাডাইস: ধর্মতলার মোড় থেকে অল্প দূরে। কলকাতা বলতে অনেকেই বড়বাজার বা ধর্মতলাকে বেছে নেয়। তার একটা বড় কারণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। সেই দিক থেকে দর্শক এই চত্বরে তাঁদের পছন্দ সিনেমা দেখে বাড়িও ফিরতে পারবে স্বচ্ছন্দে।

মেনকা: অনেকদিনের পুরনো হল। নতুন করে সাজানো হয়েছে। বড় বাজেটের সিনেমা এ হলে মুক্তি পাবেই। তাই ভীড় থাকে।

মেট্রো: ধর্মতলার মোড়ে। সে সুবাধে যোগাযোগ ব্যবস্থাও বেশ ভালো। দর্শক এখান থেকে সহজেই সিনেমা দেখে বাড়ি ফিরতে পারবেন।

প্রিয়া: বেশিরভাগ সিনেমার প্রিমিয়ার হয় এই হলে। রাসবিহারী মোড় আর গড়িয়া হাটের মাঝ বরাবর এই সিনেমা হল। সেই দিক থেকে যাতায়াতে অনেক সুবিধা। হলটাও বেশ ভালো। প্রায় সব ক্যাটাগরির সিনেমাই এখানে চলে।

নন্দন: কলকাতার একটি সিনেমার নাম শুনলেও এই সিনেমাহলের নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই। যোগাযোগ ব্যবস্থার সবচেয়ে ভালো উদাহরণ। তাছাড়া এত সুন্দর হল, সেই সঙ্গে অসাধারণ পরিবেশ। সব দিক থেকেই এগিয়ে থাকে নন্দন। আশেপাশেই রয়েছে বিভিন্ন রকমের রেস্টুরেন্ট, বসে আড্ডা দেওয়ার জায়গা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে