আপডেট : ১৮ মার্চ, ২০১৬ ১৭:২৪

কৈশোরেই কোটিপতি ডিজিটাল বালক!

প্রযুক্তি ডেস্ক
কৈশোরেই কোটিপতি ডিজিটাল বালক!

নানা বয়সী ছেলে-মেয়েরা যখন ঘন্টার পর ঘন্টা সময় ব্যয় করে অনলাইনে গেম খেলে ১৫ বছরের মোহাম্মদ আলী সেই সময় গেম তৈরিতে ব্যস্ত। ১২ বছর বয়স থেকেই ইউটিউবে টিউটিরিয়াল দেখে এবং জাভা প্রোগ্রামিং শিখে প্রজেক্ট-২০০৬ নামে একটি গেম তৈরি করেছেন তিনি।

প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আলী ইতিমধ্যে গেম তৈরি করে যথেষ্ট টাকা উপার্জন করেছে যা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালযয়ের খরচ চালাতে পারছেন। এছাড়াও ইতিমধ্যে GCSEs নামক একটি প্রযুক্তি সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন তিনি। ২০১২ তে তার তৈরি গেম রিলিজের কিছুদিনের মধ্যে ৩০০০ মানুষ রেজিষ্ট্রেশন করেছেন।

মুহাম্মদ আলি জানান, ‘সবসময়ই আমার কম্পিউটারের প্রতি অনেক আগ্রহ ছিল। আমার খেলার মত কোন গেম না পেয়ে একদিন আমি অনেক বিরক্ত হলাম। তারপর নতুন একটি গেম তৈরির চিন্তা আমার মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগলো। কিভাবে তৈরি করা যায় চিন্তা করতে করতে একদিন আমি সফল হলাম। তৈরি করলাম প্রজেক্ট-২০০৬। গেমটি খুব তাড়াতাড়িই অনেক সাফল্য পেল। গেমটি পরিচালনার জন্য নেদারল্যান্ডের একজন লোক ঠিক করলাম ।আমার কম্পিউটারের দক্ষতা দিয়ে আমি টাকা উপার্জন করতে পারি এই বিশ্বাস নিয়ে আমি ওয়েবসাইট তৈরির একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুরু করলাম।’

এখানেই মুহাম্মদের গল্প শেষ নয়। ১৫ বছরের এই বিস্ময় বালক মুদ্রা ও শেয়ার ব্যবসায়ীদের জন্য একটি অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছেন।

মুহাম্মদ আলির টেক্সিচালক বাবা ও গৃহিনী মা প্রায়ই ছেলের ব্যবসায়ীক ক্লায়েন্টদের সঙ্গে দেখা করার জন্য লন্ডনে ক্যানারি ওয়ার্ফ ভ্রমণ করেন।

মুহাম্মদ আলি আরো জানান ‘সাধারনত আমার ক্লায়েন্টদেরকে বলি না আমি মাত্র ১৫ বছরের বালক, কিন্তু আমার সাথে দেখা করে তারা খুবই আশ্চর্য হন। আমার পেশাদারী আচরণে তারা ধরে নেয় আমি বয়স্ক কোন ব্যাক্তি।’

শুরুর কথা বলতে গিয়ে মুহাম্মদ জানায়, প্রথমে আমি ইউটিউব এবং কিছু বই থেকে ওয়েবসাইট তৈরি করা শিখেছি কিন্তু এখন আমি নিজেই অনেক দক্ষ। একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে আমি ৬০০ ডলার নেই এবং এক সপ্তাহের মধ্যে সেটি তৈরি করে দেই। এভাবে আমি এখন যথেষ্ট টাকা জমিয়েছি যা আমার দৈনন্দিন ব্যায় মিটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্যও জমাতে পারি। এখন অনেকেই আমাকে দেখে ইর্ষা করে, তারা বলে আমি নাকি প্রযুক্তি আসক্ত, টাকা অর্জনের জন্য নিজেকে শেষ করছি। ১৩ বছর বয়স থেকেই আমার টাকা অর্জন করা শুরু। টাকার সঙ্গে সঙ্গে আমি অনেক নিন্দাও কুড়িয়েছি। অনেক মানুষই আমাকে ঘৃনা করে। মানুষের এমন আচরণ আমাকে খুব কষ্ট দেয়, আমি আমার প্রকৃত বন্ধুদের কখনোই হারাতে চাইনা।

উচ্চশিক্ষার জন্য মুহাম্মদ আলি ৩০,০০০ ডলার জমা করে রেখেছেন এবং তার খুব ইচ্ছা ভবিষ্যতে সে কম্পিউটার সাইন্স এ ম্যানচেস্টার অথবা লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে।

উপরে