আপডেট : ১৫ মার্চ, ২০১৬ ১৭:৩৭

ফেইসবুকে প্রতিদিন ১০ লাখ অভিযোগ

প্রযুক্তি ডেস্ক
ফেইসবুকে প্রতিদিন ১০ লাখ অভিযোগ

ফেইসবুক প্রতিদিন ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে দশ লাখেরও বেশি নিয়ম লঙ্ঘনের রিপোর্ট পায়, এমনটাই জানিয়েছেন ফেইসবুকের নীতি ব্যবস্থাপনা প্রধান মনিকা বিকার্ট।শনিবার এসএক্সএসডাব্লিউ এর প্রথম অনলাইন হ্যারাসমেন্ট সামিটে তিনি এ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জানতেন না কতো মানুষ এ ব্যাপারটাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং সাইটটি ত্যাগ করে।

প্রযুক্তি-প্রতিষ্ঠনগুলো তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে সম্ভাব্য ক্ষতিকারক বিষয়গুলো অপসারণ করতে কতোদূর যেতে পারে এবং যাওয়া উচিৎ, অনুষ্ঠানে তার ওপরই আলোচনা করা হয়।

“আপনি চাইলে প্রতিষ্ঠান বা ধর্মের সমালোচনা করতে পারেন, চাইলে বলিষ্ঠ রাজনৈতিক কথোপকথনেও যুক্ত হতে পারেন।” —বলেন বিকার্ট। কিন্তু ফেইসবুক এখানেই সীমানা টেনে দেয়। বিকার্ট আরো বলেন, “কিন্তু আপনি কোনো নির্দিষ্ট আদর্শ বা বৈশিষ্ট্যভিত্তিক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ করতে পারেন না।”

বিকার্ট আরো জানান, এই নীতি নির্ধারণ পদ্ধতিটি বেশ “কৌশলপূর্ণ”, বিশেষত, যখন আপনি জানেন যে, ফেইসবুকের ১৬০ কোটি ব্যবহারকারীর ৮০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের এবং আপত্তিকর ও ভীতিকর বিষয় সম্পর্কে তাদের ধারণা ভিন্ন ভিন্ন। তবে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ব্যাপারটি হচ্ছে নিয়মের প্রয়োগ।

ফেইসবুক শারীরিক ক্ষতি সম্পর্কিত রিপোর্টগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেয়, যদিও সবধরনের রিপোর্টই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মচারীদের দ্বারা পরীক্ষা করা হয়।

বিকার্ট আরো বলেন, তাকে প্রায়ই এ ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় যে, ফেইসবুক কেন তাদের “বিশ্বমানের প্রকৌশলীদের” দ্বারা ঘৃণামূলক বক্তব্যগুলো “সক্রিয় ও পুরোপুরিভাবে” নিয়ন্ত্রণ করে না। এর প্রেক্ষিতে তিনি ব্যবহারকারীদেরই এ  ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মতামত দেন। তিনি আরো যোগ করেন, ফেইসবুক সবধরনের ডিভাইস থেকেই রিপোর্ট করার সুবিধাটি চালু করার পর থেকে রিপোর্টের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

আলোচক হিসেবে আরও ছিলেন গুগল এর জুনিপার ডাউন্স, এসিএলইউ এর লি রোল্যান্ড, এন্টি-ডিফেইমেশন লিগ এর ডেবোরা ল’টার এবং ন্যাশনাল কন্সটিটিউশন সেন্টার এর জেফরি রোজেন।

“ব্যাপারটা বেশ ঝামেলাপূর্ণ। সমাজ হিসাবে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আমরা কাকে বেশি মূল্য দেবো- গোপনীয়তা এবং মর্যাদা নাকি মত প্রকাশের স্বাধীনতা?”, রোজেন প্রশ্ন তোলেন। বক্তিমর্যাদার হানি যদি কোনো বিষয়ের অপসারণের জন্য যথেষ্ঠ হতে পারে, তাহলে শুধু ব্যক্তি নয় বরং সরকারের কাছ থেকেও এ ধরনের বিষয় অপসারণের অনুরোধ আসার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

রোল্যান্ড আরো বলেন, “মানুষ পরিষ্কারভাবে জানেনা কেন তাদের বক্তব্যগুলো অপসারণ করা হচ্ছে। মানুষকে যদি মুক্তচিন্তা চর্চার শেষ সীমার ব্যাপারে না জানানো হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত এটা ব্যবসা পরিকল্পনার জন্যই খারাপ হবে।”

উপরে