আপডেট : ১৫ মার্চ, ২০১৬ ১২:৫৫

বিক্রি কমেছে ফোনের, ধুঁকছে মাইক্রোম্যাক্স

অনলাইন ডেস্ক
বিক্রি কমেছে ফোনের, ধুঁকছে মাইক্রোম্যাক্স

বেশ দিন আগের কথা নয়। মাত্র এক বছর আগেই সব থেকে জনপ্রিয় এবং বেশি বিক্রিত স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হিসেবে স্যামসাংকেও পিছনে ফেলে দিয়েছিল মাইক্রোম্যাক্স। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই পাল্টে গিয়েছে সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট। গত বছরের তুলনায় মাইক্রোম্যাক্সের শেয়ারের দাম এসে দাঁড়িয়েছে অর্ধেকে, উচ্চপদস্থ বহু আধিকারিক ইস্তফা দিয়েছেন।
২০০০ সালে ৪ জন মিলে তৈরি করেন মাইক্রোম্যাক্স। তবে ২০০৮ সাল থেকে প্রথম ফোন বিক্রি শুরু করে এই সংস্থা। সেই সময়ে চিনের বেশ কিছু মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারক সংস্থা যেমন কুলপ্যাড, জিওনি এবং ওপ্পো-র সঙ্গে রফায় এসেছিল মাইক্রোম্যাক্স যাতে কম সময়ে সস্তা ফোন পাওয়া যায়। ২০১৫ সালে ৪০টি নতুন মডেল বাজারে নিয়ে আসে মাইক্রোম্যাক্স।
২০১৪ সালে স্মার্টফোনের বিক্রির দিক থেকে যখন স্যামাংকে টক্কর দেওয়ার জায়গায় পৌঁছায় মাইক্রোম্যাক্স, তখন বাইরে থেকে ম্যানেজার নিয়োগ করা হয় সংস্থায়। সেই থেকেই শুরু হয় সমস্যার সূত্রপাত। নতুন নিয়োগ হওয়া ম্যানেজারদের সঙ্গে মতোবিরোধ হতে শুরু করে প্রতিষ্ঠাতাদের। এই বিবাদের প্রভাব গিয়ে পড়ে ব্যবসায়। আটকে যায় সংস্থার প্রসারের জন্যে টাকা যোগাড়ের কাজ।

২০১৫ সালের মে মাসে আলিবাবার সঙ্গে একটি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল মাইক্রোম্যাক্সের। মাইক্রোম্যাক্সের ২০ শতাংশ শেয়ার কেনার জন্যে ১২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার কথা ছিল আলিবাবার। কিন্তু মাইক্রোম্যাক্সের তরফে নির্দিষ্ট গ্রোথ প্ল্যান না দেখাতে পারায় এই চুক্তি থেকে সরে যায় আলিবাবা। রয়টার্সকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মাইক্রোম্যাক্সের সহ প্রতিষ্ঠাতা বিকাশ জৈন এই কথা জানান। তবে আলিবাবার তরফ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই সংস্থার এক প্রাক্তন আধিকারিক জানিয়েছেন নতুন সফটওয়্যার ও ডিজাইন তৈরি করার জন্যে বেঙ্গালুরুতে ৮০-৯০ জন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল, কিন্তু টাকার অভাবে সেই কাজ এগোয়নি। আংশিক বন্ধ করে দিতে হয়েছে বেঙ্গালুরুর সেই অফিস।
নভেম্বর মাস থেকে এই চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত যে পাঁচ জন উচ্চপদস্থ আধিকারিক ইস্তফা দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সংস্থার চিফ এগজিকিউটিভ বিনীত তানেজা।
বিকাশ জৈন জানিয়েছেন, ভারতের স্মার্টফোন প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তার কারণ চিনের তৈরি স্মার্টফোনগুলি দ্রুত ছেয়ে যাচ্ছে ভারতের বাজারে।

উপরে