আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০১:৩৬

ডিজিটাল বাংলালিংক হবে তবে চাকুরি যাবে অনেকের

বিডিটাইমস ডেস্ক
ডিজিটাল বাংলালিংক হবে তবে চাকুরি যাবে অনেকের

ডিজিটাল বাংলালিংক রূপান্তরের নতুন যাত্রার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে বাংলালিংকে যারা ডিজিটাল বাংলালিংকে পরিণত করবে সেই কর্মীদের জন্য রয়েছে ঢের ‘দু:সংবাদ’। কারণ অপারেটরটির ‘ডিজিটাল বাংলালিংক’ হয়ে ওঠার পথে চাকরি হারাবেন অনেক কর্মীই।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানির ভবিষ্যত ব্যবসার ধরন এবং পরিকল্পনা তুলে ধরে অপারেটরটির এই ডিজিটাল রূপান্তরের ঘোষণা দেন বাংলালিংক সিইও এরিক আস।

যে ঘোষণায় তিনি জানান,‘কোম্পানির নতুন যাত্রায় অনেক কর্মীই খাপ খাওয়াতে পারবেন না। এ কারনেই স্বেচ্ছা অবসর অফার দেয়া হয়েছে। যারা নতুন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে পারবেন না, তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে চলে যাবেন।’

ইতোমধ্যে এই ‘ভলেন্টারি সেপারেশন স্কিম’ (ভিএসএস) এ স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার জন্য সোমবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে অপারেটরটি।

এরিক জানান, ‘ঘোষিত সময়ের মধ্যেই কর্মীদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এর সময় আর বাড়ছে না।’

কর্মীদের এই চাকরি ছাড়ার বিষয়ে হতাশারও কিছু দেখছেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো সমস্যা দেখছি না। কোম্পানি ডিজিটাল হতে যাচ্ছে। পুরানো মোবাইল কোম্পানির ধারণা আর নেই। এখন পরিবর্তনের সময়। গ্রাহক সেবার জন্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। যারা কোম্পানির নতুন পথ চলায় অবদান রাখতে পারবে তাদের জন্য সুযোগ তো থাকছেই।’

কতসংখ্যক কর্মী চাকরি হারাবেন সেই বিষয়ে জানতে চাইলে অপারেটরটির চিফ কর্মাশিয়াল অফিসার (সিসিও) শিহাব আহমাদ জানান, সংখ্যা এখনই ঠিক করা হয়নি। ডিজিটাল রূপান্তরের পরিকল্পনায় কোম্পানির প্রয়োজনই এই সংখ্যা চূড়ান্ত করে দেবে।

আর ‘ভলেন্টারি সেপারেশন স্কিম’ নামে কর্মীদের এই স্বেচ্ছা অবসরের অফার  যদি নির্ধারিত সময়ে কেউ না নেয়, সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে চাকরি হারালে এই স্কিমের সুবিধা আর মিলবে না বলেও জানান শিহাব।

অপারেটরটির নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এরিক আস বলেন, ‘শুধু মোবাইল অপারেটর হিসেবে টিকে থাকার দিন ফুরিয়েছে। বিশ্ব ও আমাদের গ্রাহকরা ডিজিটাল হচ্ছে। গ্রাহকরা স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। গ্রাহকদের দৈনন্দিন কার্যক্রমের বড় অংশ এখন হচ্ছে অনলাইনে। আর এসব ডিজিটাল সেবা দিতেই কোম্পানিটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে।’

এরিক বলেন, ‘ই-কমার্স থেকে বিনোদন, অর্থনৈতিক সেবা থেকে সেলফ-সার্ভিসসহ বিভিন্ন সেবা গ্রাহকদের জন্য বাস্তব করতে বাংলালিংক থ্রিজিতে বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ করেছে। একইসাথে পণ্য এবং সেবাতেও বিনিয়োগ অব্যাহত আছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে বাংলালিংক সিইও বলেন, ‘সকলের মত প্রকাশের সুযোগ থাকা উচিত। বাংলাদেশের শ্রম আইন মেনে কোনো কর্মী যদি ট্রেড ইউনিয়ন করতে চান, আর শ্রম মন্ত্রণালয় যদি সেটা অনুমোদন করে, সেখানে আপত্তির কিছু নেই’

রবি-এয়ারটেল একীভূতিকরণে স্পেকট্রাম ব্যবস্থপনায় বৈষম্য হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গ্রামীণফোনে ৩২ আর বাংলালিংকের ২০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম রয়েছে। এখন রবি-এয়ারটেল একীভূতিকরণ হলে রবির হবে প্রায় ৪০ মেগাহার্টজ। এটা লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড না।’

এরিক জানান, ‘এখন বাংলালিংকের মার্কেট শেয়ার ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ। গ্রাহক প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ । থ্রিজি সেবা বাড়াতে আসছে রমজান মাসের মধ্যে বাংলালিংকের থ্রিজি বেইস স্টেশনের সংখ্যা ৫ হাজার ৭০০ করা হবে।’

কোম্পানিতে  দূর্ণীতিতে জিরো টলারেন্সের কথা জানিয়ে সিইও বলেন, ‘অতীতে অনিয়ম এবং শর্ত ভঙ্গের ঘটনা ঘটেছে। অনেক ভেন্ডর অনিয়ম করেছে যার সাথে কোম্পানিরও কারও কারও সম্পৃক্ততা ছিল। এসবের অনেক ক্ষেত্রে আমরা আইনগত ব্যবস্থাও নিতে পারি।’

উল্লেখ্য, বাংলালিংকের সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এই প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমের সামনে আসলেন এরিক আস। যখন চাকরিচ্যুতি, জিজ্ঞাসাবাদ, স্বেচ্ছা অবসর অফারসহ বিভিন্ন ঘটনায় অস্থিতিশীল সময় পার করছে অপারেটরটি।

এর মধ্যে কর্মীদের অবস্থান কর্মসূচিতে অবরুদ্ধও থাকেন চিফ টেকনিক্যাল অফিসার (সিটিও) পেরিহান এলহামি। অবস্থা এমন হয়েছে যে কর্মী অসন্তোষের মুখে বাংলালিংকের প্রধান ও আঞ্চলিক কার্যালয়সহ সব কার্যালয় একদিনের জন্য বন্ধও ঘোষণা করা হয়।

উদ্ভুত পরিস্থিতে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করে বাংলালিংক কর্মীরা। ওই সংবাদ সম্মেলনে নয় দফা দাবি রাখে বাংলালিংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন(প্রস্তাবিত)।

উপরে