আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৬:১৯

এখনো চালুর অনুমতি পায়নি ডট বাংলা ডোমেইন!

বিডিটাইমস ডেস্ক
এখনো চালুর অনুমতি পায়নি ডট বাংলা ডোমেইন!

কারিগরি সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও আজ একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষাশহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাংলা ভাষার ডট বাংলা (.বাংলা) ডোমেইন চালুর অনুমতি পেল না বাংলাদেশ। কবে নাগাদ অনুমতি মিলবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা দিতে পারছে না ডোমেইনটি পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বিটিসিএল।

ডোমেইনটি চালু হলে এটি হবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বাংলা ডোমেইন। ডট বিডি নামে আরেকটি ডোমেইন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে এ ডোমেইনটি ইংরেজিতে লেখা। কিন্তু ডট বাংলা লেখা থাকবে বাংলাতেই।

এ বিষয়ে বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম ফখরুদ্দীন আহমেদ চৌধুরী গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ডট বাংলা ডোমেইনটি চালুর বিষয়ে এখনো ইন্টারনেট করপোরেশন অব অ্যাসাইনড নেমস অ্যান্ড নাম্বারসের (আইসিএএনএন) অনুমতি পাইনি। ফলে কারিগরি সব ধরনের প্রস্তুতি থাকার পরও ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে একুশে ফেব্রুয়ারি এটি উদ্বোধন করতে পারছি না।’

দেশে ইন্টারনেট জগতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডোমেইন (আইডিএন) ডট বাংলা চালুর বিষয়টি প্রায় পাঁচ বছর ঝুলে রয়েছে। গত ১৭ নভেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছিলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে এটি চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও আমরা চাচ্ছি একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষাশহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এর যাত্রা শুরু হোক।’

তারানা হালিম ওই দিন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কার্যালয় পরিদর্শনে এসে ডট বাংলা ডোমেইন চালুর বিষয়ে তার এ ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ‘ডট বাংলা ডোমেইনটি চালু হলে তা একই সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের এবং বাংলা ভাষার স্বীকৃতি হিসেবে কাজ করবে। ইন্টারনেট অ্যাসাইনড নাম্বারস অথরিটির (আইএএনএ) তালিকায় বাংলা ভাষায় লেখা ডোমেইন হিসেবে ডট বাংলা হচ্ছে দ্বিতীয়। ডট ‘ভারত’ নামে আরেকটি বাংলায় লেখা ডোমেইন ওই তালিকায় আগেই স্থান পেয়েছে। গতকাল আইএএনএর রুট জোন ডেটাবেইসের তথ্যে কান্ট্রি কোড বিডি অর্থাৎ বাংলাদেশ লেখা দেখা গেলেও তাতে এর স্পন্সর অরগানাইজেশন, অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ কন্ট্রাক্ট সম্পর্কে তথ্য নেই। এর নিবন্ধনের তারিখ ২০১১ সালের ৩০ মার্চ। আর সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছে গত ১৮ নভেম্বর। তালিকায় ডট বাংলা সম্পর্কে বলা হয়েছে ‘নট অ্যাসাইনড’। অন্যদিকে ডট ভারত ডোমেইন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। এ ডোমেইনটির স্পন্সরিং অরগানাইজেশন হচ্ছে দিল্লির ন্যাশনাল ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ অব ইন্ডিয়া। ভারতে হিন্দি, উর্দু, তেলেগু, গুজরাটি, পাঞ্জাবি ও তামিল ভাষায়ও ডোমেইন রয়েছে। ডট ভারত ডোমেইনটি নিবন্ধন করা হয় ২০১১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশ ২০১০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আইসিএএনএনের কাছে আবেদনের পর ২০১১ সালে ডট বাংলা ডোমেইনটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এবং পরের বছর আইএএনএর অনুমোদন পায়। ভারতও ২০১০ সালে বাংলাদেশের পাশাপাশি এ ডোমেইনটির অধিকার পেতে আবেদন করে। সব দিক বিবেচনা করে আইসিএএনএন তখন ডোমেইনটি বাংলাদেশকেই বরাদ্দ দেয়।

বাংলাদেশের ডট বাংলা ডোমেইন সম্পর্কে উইকিপিডিয়ায় বলা হয়েছে, ডট বাংলা হচ্ছে বাংলাদেশের জন্য একটি দ্বিতীয় ইন্টারনেট কান্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন (সিসিটিএলডি)। এই ডোমেইন বাংলা ভাষায় ওয়েব ঠিকানার জন্য বোঝানো হয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় দুটি ডোমেইনের মালিক। মন্ত্রণালয়ের পক্ষে বিটিসিএলের নিয়ন্ত্রণে ডট বিডি ডোমেইনটি ব্যবহার হয়ে আসছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরো জানান, পাঁচ বছর আগে ডট বাংলা ডোমেইনটি নিবন্ধন পেলেও এটি চালু করার ক্ষেত্রে দেরি হওয়াতে এর অধিকার হারাতে বসেছিল বাংলাদেশ। এ ডোমেইনটি কে নিয়ন্ত্রণ করবে বিটিসিএল না বিটিআরসি, এ প্রশ্নেই কেটে যায় দীর্ঘদিন। ডোমেইনটি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠার পর গত জুন মাসের দিকে আবারও এর অধিকার বহাল রাখতে তত্পর হয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। এর আগে গত ১৯ মে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে দেখা করে ডট বাংলার গুরুত্ব, অনলাইনে বাংলার অবস্থান, বাণিজ্যিক বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছিলেন আইকানের পরিচালক (সিকিউরিটি ও সার্ভেইলেন্স) জন এল ক্রেইন ও এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনের পার্টনার এনগেজমেন্ট ম্যানেজার চম্পিকা বিজয়েতুঙ্গা। বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক অপারেটরস গ্রুপের (বিডিনগ) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সুমন আহমেদ সাবির ওই প্রতিনিধিদলে ছিলেন।

মূলত ওই বৈঠকের পরই ডট বাংলা বাস্তবায়নের গতি পায়। মন্ত্রণালয়, বিটিসিএল ও বিটিআরিসির প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, বিটিসিএলই এটি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ডমেস্টিক নেটওয়ার্কিং কো-অর্ডিনেশন কমিটির (ডিএনসিসি) সভায় বিটিসিএলকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর বিটিসিএল ডট বাংলার জন্য একটি ডিএনএস সার্ভার স্থাপনের কাজ শুরু করে।

এ বিষয়ে বিটিসিএলের মেম্বার (এম অ্যান্ড ও) এ এ এম মোয়াশির বলেন, ‘ডট বাংলার জন্য একটি ডিএনএস সার্ভার স্থাপনে কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও আমাদের সহায়তা করেছে। আমরা একুশে ফেব্রুয়ারি এটি পুরোপুরি চালুর লক্ষ্যে এর পরীক্ষামূলক কাজগুলোও সম্পন্ন করেছি। কিন্তু আইসিএনএন এর অনুমতি না পাওয়াতে এটা চালু করা যাচ্ছে না।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসপি

উপরে