আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৪:৫৯

ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের দ্বারপ্রান্তে আমাদের দেশ!

বিডিটাইমস ডেস্ক
ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের দ্বারপ্রান্তে আমাদের দেশ!

২০০৮ সাল থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার নানান উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার মাঝে অনেকাংশই বাস্তবায়ন হয়েছে। পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করে নিত্যনতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় দুটির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘ভিশন ২০২১ এর আগেই দেশ পুরোপুরি তথ্য প্রযুক্তির আওতায় চলে আসবে। টেলিযোগাযোগ সেক্টরকে জনগণের হাতের নাগালে পৌঁছে দেয়া হবে। তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ জন্য নানা ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

২০১৭-১৮ সালের মধ্যে দেশ তথ্য প্রযুক্তিতে অনেক দূর এগিয়ে যাবে আর ২০২১ সালের মধ্যে দেশ পুরোপুরি তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক হবে। এ জন্য এই সেক্টরে শৃঙ্খলা আনা খুব বেশি প্রয়োজন। শৃঙ্খলার জন্য বেশ কয়েকটি বিষয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রথম দফায় মোবাইল সিম রেজিস্ট্রেশনের কাজ শুরু করা হয়েছে। এরপর মোবাইল সেটের আইএমইআই নম্বর ডাটা এন্ট্রিতে আনা হবে। সবার কাছে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়ার জন্য টাওয়ার শেয়ারিং করার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন আছে। সম্প্রতি গ্রামের মানুষের হাতে মাসিক ২৫ থেকে ৩০ টাকা কিস্তিতে স্মার্টফোন তুলে দেয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। 

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ‘সবার কাছে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে সব বিমানবন্দরে ওয়াইফাই সংযোগ ও প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আইটি ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করার অনুরোধ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিসিএসআইআর-এর ডাটাবেজ প্রস্তুত এবং তথ্য প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়করণ শীর্ষক কর্মসসূচীর আওতায় বৈজ্ঞানিক ডাটাবেজ, মানবসম্পদ ডাটাবেজ, ফিনান্সিয়াল ডাটাবেজ, লাইব্রেরি ডাটাবেজ ও মেডিক্যাল ডাটাবেজের জন্য সফটওয়্যার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।’ 

সারা দেশে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই সেবাগুলো মানুষের হাতে পৌঁছে দেয়া হবে। তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার জন্য গাজীপুরে হাইটেক পার্ক শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাইটেক পার্ক স্থাপন, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার জন্য সময়পযোগী কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় ১৬২ দশমিক ৮৩ একর জমির ওপর ইলেকট্রনিক সিটি স্থাপন করা হবে।

ঢাকার মহাখালীতে ৪৭ একর জমির ওপর প্রস্তাবিত আইটি ভিলেজ নির্মাণের জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে অচিরেই। রাজশাহীতে ৩৪ দশমিক ৫৬৩১ একর জমিতে আইটি ভিলেজ স্থাপনের জন্য সমীক্ষা কাজ শুরু হয়েছে। রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকায় জনতা টাওয়ার, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে রূপান্তরের ঘোষণা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। যশোরে সফটওয়ার পার্কের ডরমেটরি বিল্ডিং ও এমটিবি ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। নাটোরে ফ্রিল্যান্সার ইনস্টিটিউট স্থাপনের জন্য এক দশমিক ২৩৯৩ একর জমি এবং নাটোর আইটি ভিলেজ স্থাপনের কাজ প্রস্তাবাধীন রয়েছে। 

এছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ে আইটি ভিলেজ স্থাপনের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই করে এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি বিভাগীয় পর্যায়ে একটি টেকনোলজি পার্ক বা আইটি ভিলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা গত এক বছরে প্রায় ৯০ লাখ বেড়েছে। মোবাইল ফোন বেড়েছে প্রায় এক কোটি। তবে মোবাইল ইন্টারনেটের তুলনায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহক তেমন বাড়েনি। 

মোবাইল আপারেটররা মনে করছেন, মোবাইল ফোন ও মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক বৃদ্ধির বিষয়টি ইতিবাচক। অন্যদিকে, ইন্টারনেটের ব্যবহার শহর কেন্দ্রিক হওয়ার কারণে সরকার দেশের ৬৪ জেলায় টাওয়ার শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে থ্রিজি কভারজ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য ডিসিদের নির্দেশ দিয়েছে। যাতে করে গ্রামের মানুষও সহজে ইন্টারনেট সুবিধা পেতে পারেন। 

একই সঙ্গে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা দিতে উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বিটিসিএলকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গ্রাম ও শহরের বৈষম্যকে দূর করতেই এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এদিকে, গত এক বছরে দেশে মোবাইল ফোনের গ্রাহক বেড়েছে প্রায় এক কোটি। ওই সময়ের মধ্যে ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়েছে ৯০ লাখের বেশি। 

বিটিআরসির সর্বশেষ হিসেবে বলা হয়েছে, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট গ্রাহক বাড়ার বিষয়টিকে মোবাইল অপারেটররা ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন। এই হারে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে দেশ তথ্যপ্রযুক্তিতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে উন্নত দেশগুলোর কাছাকাছি চলে যাবে। সামগ্রিক পর্যবেক্ষণে শীঘ্রই ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসপি

উপরে