আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২৩:৪৩

মস্তিষ্ক থেকে মুছে যাবে যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতি!

বিডিটাইমস ডেস্ক
মস্তিষ্ক থেকে মুছে যাবে যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতি!

সুখ দুঃখ নিয়েই মানুষ। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মানুষের এই সুখ দুঃখের হিসাব রাখে মস্তিষ্ক। সুখের নানা হিসাবের সাথে আপনার থাকতে পারে যন্ত্রণাদায়ক কোন স্মৃতি যা ধারণ করে আছে আপনার মস্তিষ্ক।

পুরনো কোনো স্মৃতি নিয়ে দারুণ মানসিক যন্ত্রণায় রয়েছেন। এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে নিমিষেই ওই স্মৃতিটুকু মুছে ফেললেন। এমন কি কখনো সম্ভব? কম্পিউটারের মেমোরি অনায়াসে মুছে ফেলা যায়। কিন্তু মানুষের মস্তিষ্ক থেকেও কি স্থায়ীভাবে কোনো স্মৃতি মুছে ফেলা সম্ভব? বিষয়টা সায়েন্স ফিকশন বলে মনে হয়। তবে আমেরিকার নতুন এক ডকুমেন্টরিতে বলা হয়, বিজ্ঞানীরা এ সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছেন।

বিভিন্ন পুরস্কারপ্রাপ্ত নোভার ডকুমেন্টরি সিরিজ ‘মেমোরি হ্যাকারস’-এ এ বিষয় উঠে এসেছে। সেখানে মস্তিষ্ক থেকে কোনো স্মৃতি বেমালুম মুছে ফেলার পদ্ধতি নিজে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। দেখানো হচ্ছে, মানবজাতির কল্যাণে কিভাবে এ প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো যায়।

ডকুমেন্টরি নির্মাতারা বলেন, ইতিহাস দেখিয়েছে যে স্মৃতি একটা টেপ রেকর্ডারের মতো কাজ করে যা বিভিন্ন পুরনো তথ্য ধারণ করে রাখে। তবে আধুনিক বিজ্ঞান দেখাচ্ছে, স্মৃতিকে মুছে ফেলা সম্ভব। হোক তা লিখিত বা অলিখিত। মানুষের স্মৃতি নিয়ন্ত্রণের উপায় এর মাধ্যমে বিকশিত হচ্ছে।

এ ডকুমেন্টরিতে দেখানো হয়েছে, সেন্ট লুইসের ১২ বছর বয়সী এক শিশু জেক হাসলার। ৮ বছর বয়স থেকে এখন পর্যন্ত সে তার প্রতিটা খুঁটিনাটি স্মৃতি মনে করে রাখতে পারে। এই ছেলেটি এ যাবতকালের কনিষ্ঠতম যার ওপর হাইলি সুপিরিয়র অটোবায়োগ্রাফিক্যাল মেমোরি প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে। অতীতের নগন্য এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করার মতো তার স্মৃতি মুছে ফেলা হয়েছে।

যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতি মুছে ফেলা নিয়ে কাজ করছেন খ্যাতিমার নিউরোলজিস্ট আন্দ্রে ফেনটন। তিনি বলেন, মস্তিষ্কে যে কাজগুলো করে তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ ভুলে যাওয়া। মানুষের স্মৃতি মুছে ফেলার বিষয়ে এখন যে পর্যন্ত এগোনো গেছে তা একটি বিশাল বরফখণ্ডের উপরিতল জানার মতো বিষয়। এখনো ভেতরের কিছুই দেখা হয়নি।

লন্ডন সাউথ ব্যাঙ্ক ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী জুলিয়া শ মস্তিষ্কে ভুল স্মৃতি ঢুকিয়ে দেওয়ার কাজ করছেন। এর মাধ্যমে অপরাধীদের কাছ থেকে দোষ স্বীকারের মতো সফলতা অর্জিত হয়েছে।

এ ছবির নির্মাতারা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট মেরেল কিন্ডেটের সঙ্গে কথা বলেন। তারা রোগীদের মস্তিষ্ক থেকে নেতিবাচক চিন্তা বা স্মৃতি মুছে ফেলার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ কাজ সম্ভব হয়েছে। বিজ্ঞানী তার রোগীর মগজ থেকে মাকড়সাভীতির মতো সমস্যা দূর করতে সক্ষম হয়েছেন এ প্রক্রিয়ায়।

উপরে