আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৫:৪৭

চ-চটি, ব-বউদি! গুগল বাংলা সার্চে বর্ণে বর্ণে পর্নো!

বিডিটাইমস ডেস্ক
চ-চটি, ব-বউদি! গুগল বাংলা সার্চে বর্ণে বর্ণে পর্নো!

একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী অথচ গুগলের নাম শোনেননি এমনটা ভাবাও চরম বোকামী। ইন্টারনেটে সাধারনত কোন কিছুর প্রয়োজন হলে, তা পাওয়ার জন্য সাথে সাথেই আমরা গুগলে সার্চ দিই। এরপর অনেক গুলো ফলাফল থেকে নিজের প্রয়োজনীয় ফলাফলটি বেছে নিই। কিন্তু বিপাকে পড়তে হয় যখন গুগলে গিয়ে কোনও বিষয় নিয়ে বাংলায় সার্চ করার জন্য টাইপ শুরু করলেই একগাদা ফলাফল সামনে এসে হাজির। ফলাফলগুলি ভালো কিছু না, বরং অশ্লীল কথার সম্ভার।

প্রায় প্রতিটি বাংলা বর্ণের লেজু়ড় হিসেবে থাকছে এমন কিছু শব্দ, প্রকাশ্যে যাদের আসা নিষেধ। বর্ণে বর্ণে পর্নো। পর্নোগ্রাফি বলতে পারেন। চটুল ‘সেক্স-সাহিত্য’ও বলা যায়।

কেমন সেই ভাণ্ডার? ধরা যাক, কেউ ‘ক’ টাইপ করলেন। বা ‘কা’। সঙ্গে সঙ্গে খুলে যাবে এক মাংসল দুনিয়া, যেখানে খুব মোটা দাগের শরীরী কথাবার্তার অতল আহ্বান। গুগলে গিয়ে একবার বাংলায় টাইপ করে দেখুন! দেখবেন ‘মাস’-এর মহিমা। একইভাবে ‘বউ’ টাইপ করুন।

‘সে’ লিখতেই সম্ভাব্য তালিকায় যা দেখাচ্ছে, তাতে রীতিমত আক্কেলগুড়ুম অবস্থা। তালিকার প্রথম শব্দটি ‘সেক্সি মেয়ে’। পরেরগুলো আরও অশ্লীল।
কিংবা ‘ব’ লিখতেই সম্ভাব্য তালিকায় প্রথম যে শব্দটি আসে, সেগুলো উচ্চারণ করার মতো নয়। গুগল এর এহেন শব্দ তালিকা বেশ বিব্রতকর। এই সমস্যা কোনও একজনের নয়। বহু ইন্টানেট ইউজারই এই সমস্যায় পড়েছে।

এখন প্রশ্ন হল, কেন এরকম হয়? একটি বর্ণ-সংক্রান্ত যে সব শব্দের ‘সার্চ’ বেশি হয়, গুগল সেই শব্দগুলিই প্রাথমিক ‘সাজেশন’ হিসেবে পাঠায়। অর্থাৎ, বাংলায় এই সব শব্দের খোঁজ চলেছে সবথেকে বেশি। ইহাই সারসত্য।

মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, এপার এবং ওপার বাংলায় সামাজিক পরিকাঠামো পুরোপুরি পরিবার-কেন্দ্রীক। পরিবারের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে যেখানে প্রেম করার উপায় নেই, সেখানে মামুলি চুমুও ‘বিশাল ব্যাপার’। সে কারণেই ঝোপেঝা়ড়ে যাওয়ার প্রবণতা, রুম ভা়ড়া করার হিড়িক বা সিনেমা হলের অন্ধকার কোণের টিকিটের জন্য চাহিদা।

কিন্তু সমাজের শিকলে বাঁধা আদিম রিপু কি ওইটুকুতে সন্তুষ্ট হয়? সে কারণেই কম্পিউটারের কি-বোর্ডের উপর গুটি গুটি আঙুল চলে। গভীর রাতে গোপনে রচিত হয় বাংলা বর্ণমালার নয়া ছড়া। যেখানে ‘ক’-এ আর ‘‘কাকাতুয়ার মাথায় ঝুঁটি’’ নয়। গুগ্‌ল কয় ‘‘কাকিমা...’’। ‘বউ’ আর অবগুণ্ঠিত নয়, ‘‘বউদির...’’।

গুগল বাংলায় অশ্লীল বাক্যের এই তালিকা দেখে বিব্রত এবং লজ্জিত কমবেশি সবাই। কেউ কেউ চেষ্টা করেছেন সেটা ফিল্টারিং এর মাধ্যমে বন্ধ করতে। গুগল বাংলার প্রেফারেন্সে গিয়ে সম্ভাব্য তালিকা দেওয়ার অপশনটি বন্ধ করে দিলে খানিকটা সুবিধে পাওয়া যায়। কিন্তু ব্যাপক অর্থে সেটা কতটা কাজে আসবে বলা মুশকিল। আর তাই, এগিয়ে আসা উচিত গুগল সংস্থাকেই। 

কেননা ইংরেজি সার্চের ক্ষেত্রে অনেক অশ্লীল বা দৃষ্টিকটূ শব্দ সম্ভাব্য তালিকা থেকে বাদ রাখতে প্রযুক্তি রয়েছে গুগলের। সেটা নিশ্চয়ই বাংলার ক্ষেত্রেও ব্যবহার সম্ভব।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে