আপডেট : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৩:১৪

যন্ত্রমানবী ‘নাদিন’!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যন্ত্রমানবী ‘নাদিন’!

অন্তর্ভেদী দৃষ্টি। উজ্জ্বল দুটি চোখ তাকিয়ে আছে সরাসরি আপনার দিকে। মধ্যবয়সী চেহারা, হাল্কা ভাঁজ পড়েছে গালের চামড়ায়। কাঁধ পর্যন্ত সোনালি চুল। মুখে স্মিত হাসি। হাত বাড়িয়ে দিল সে, হ্যালো…।

না ভদ্র মহিলা রক্তে মাংসে গড়া কোন মানুষ নন, ইনি যন্ত্রমানবী নাদিন! রূপে-গুণে-কাজে-কর্মে মানুষের মতোই নাদিনকে বানিয়েছে সিঙ্গাপুরের ‘ন্যানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি’র সুইডিশ-কানাডিয়ান অধ্যাপিকা নাদিয়া থ্যালমান। অনেকটা নিজের চেহারার আদলেই তৈরী করেছেন নাদিনকে।

দু’জনকে পাশাপাশি দেখলে মিল চোখে পড়বেই। নাদিয়া সেটাই চেয়েছিলেন। এমন কাউকে চেয়েছিলেন, যে অনেকটা তাঁর মতো। নাদিনকে দেখতে চেয়েছিলেন সঙ্গী হিসেবে, ঠিক যেন রোবট বন্ধু!

রক্ত-মাংসের বন্ধুত্ব ইতিমধ্যেই পা বাড়িয়েছে ভার্চুয়াল জগতে। এবার কি তবে মানুষের বদলে বন্ধু হিসেবে রোবটের চাহিদাও তৈরি হবে অদূর ভবিষ্যতে?

সত্যজিৎ রায়ের ছোট গল্প ‘অনুকূল’-এর কথা মনে পড়তে পারে। দোকান থেকে ‘রোবট-চাকর’ ভাড়া করে এনেছিলেন এক ভদ্রলোক। দেখতে-শুনতে মানুষের মতো। রান্না ছাড়া ঘর-গেরস্থালির প্রায় সব কাজই পারত। মুখের কথাটি বলতে যত না দেরি, তার আগেই হাতে হাতে সব কাজ হয়ে যেত। নাদিন যেন অনেকটা অনুকূলের মতোই।

সংবাদপাঠিকা বা রিসেপশনিস্ট, অচিরেই যে কোনও ভূমিকা পালন করতে পারবে নাদিন। বাড়িতে শিশু বা বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের দেখাশোনা করতে পারবে। ‘‘সঙ্গী হিসেবে নাদিন অসাধারণ,’’ বললেন নাদিয়া।

তাঁর কথায়, ‘‘ও একেবারে বন্ধুর মতো। এক বার যদি আলাপ হয়, ও ভুলবে না আপনার কথা। কী কী কথা হয়েছিল প্রথম সাক্ষাতে, সেটাও সে অবিকল বলে দিতে পারবে ।’’

জাপান প্রথম যন্ত্র-মানুষ বানালেও নাদিন এখানেই অন্যদের থেকে আলাদা। আরও একটা বিশেষত্ব আছে তার। মন আছে, মন খারাপ হওয়াও আছে। ভাল লাগা আছে, খারাপ লাগাও আছে!

কিন্তু কিভাবে?‘‘সবটাই প্রযুক্তির কেরামতি,’’ বললেন নাদিয়া। সফ্‌টওয়্যারে ‘অনুভূতি’ পুরে দেওয়া হয়েছে নাদিনের শরীরে। রাখা হয়েছে স্মৃতিশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, আদবকায়দা, কথা বলা, অন্য কোনও ব্যক্তির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মতো ক্ষমতাও। আপনি হেসে কথা বললে, ও হাসবে। খারাপ ব্যবহার করলে ও তা-ই করবে।

এ তো গেল গুণের কথা। আর রূপ? নাদিয়া জানালেন, মানুষের চেহারা দিতে নাদিনের যান্ত্রিক দেহে বসানো হয়েছে কৃত্রিম চামড়া। পেশীর পরিবর্তে বসানো হয়েছে ‘এয়ার মোটর’। যা বজায় রাখবে চামড়ার টানটান ভাব। মুখে ফুটিয়ে তুলবে রাগ, দুঃখ, আনন্দ, উচ্ছ্বাস।

তবে কি মানুষের সঙ্গে যন্ত্রের পার্থক্য ঘুচে গেল?

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে