আপডেট : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২১:৫২

নাসায় বাংলাদেশী রুবাব খানের সাফল্য, গর্বিত বাংলাদেশ

বিডিটাইমস ডেস্ক
নাসায় বাংলাদেশী রুবাব খানের সাফল্য, গর্বিত বাংলাদেশ

বাবার ইচ্ছে ছিল ছেলে দেশ সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুক কিন্তু ছেলের ইচ্ছে ছিল আকাশ ছোঁয়ার। আর সেই ইচ্ছে শক্তির কারণেই নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ের পাকুন্দা গ্রামের ছেলে ছুঁয়েছেন আকাশটাকে। সম্প্রতি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার গবেষণা দল খুঁজে পেয়েছেন ইটা কারিনার মতো আরাধ্য ৫ টি বিশাল নক্ষত্র যা অবস্থান করছে মিল্কিওয়ের বাইরের গ্যালাক্সিগুলোতে।আর সেই গবেষণা দলের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশের সেই পাকুন্দা গ্রামের ছেলে ড. রুবাব ইমরাজ খান সৌরভ। তাঁর এই আবিষ্কার হয়তো মহাকাশ সম্পর্কে আমাদের এত দিনের ধারণা বদলে দেবে!

আমাদের ছায়াপথ আকাশগঙ্গায় সূর্য থেকে ৫০ লাখ গুন বড় তেমনি এক নক্ষত্র ইটা কারিনা। ১৩ লাখ গ্রহকে নিয়ে সেই নক্ষত্রটির জগৎ। এমনই আরো পাঁচটি সুপারস্টার আবিষ্কার করেছেন একদল বিজ্ঞানী। আর যুগান্তকারী এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী রুবাব খান। ইনসাইড সাইন্সে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ড. রুবাব খান বলেন, ‘ইটা কারিনা একমাত্র অদ্ভুত নিদর্শন নয়। বরং এই আবিষ্কার প্রকৃতিতে ইটা কারিনার মত আরো বেশ কিছু অদ্ভুত মহা তারকার উপস্থিতি নিশ্চিত করছে। এই আবিষ্কারের মাধ্যমে মহাতারকা নিয়ে গবেষণার একটি নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।’

এ সময় পাঁচটি মহাতারকা আবিষ্কার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রথমে আশা করেছিলাম একটি নক্ষত্রের সন্ধান পাওয়া যাবে। কিন্তু পরবর্তীতে একাধিক নক্ষত্রের খোঁজ পেলাম। তবে ৫টি সুপার স্টারের সন্ধান পাওয়ার পর আমরা বিস্মিত হই।’ বক্তব্যে নতুন আবিষ্কৃত মহাতারকাগুলোকে ইটা কারিনার জমজ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। পৃথিবীর দশমিক হাজার আলোকবর্ষের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং উজ্জ্বলতম নক্ষত্রের নাম ‘এটা ক্যারিনাই’। মহাকাশে সূর্যের প্রায় দেড় শ গুণ বড় এই নক্ষত্রের সমকক্ষ কিছু আছে বা থাকতে পারে, তা এতদিন  ছিল ধারণার বাইরে। তবে বাংলাদেশী গবেষক ড. রুবার খানের আবিষ্কারের ফলে ধারণা বদলে গেছে বিশ্ববাসীর।

বিশ্ববাসীর ধারনা বদলে দেয়া এই আকাশ ছোঁয়া ৩০ বছর বয়সী বাংলাদেশী, গ্রামে জন্ম নিলেও তিনি বেড়ে উঠেছেন ঢাকা শহরে।নূরুল রহমান খান ও ফিকরিয়া বেগমের দুই ছেলমেয়ের মধ্যে বড় সন্তান তিনিই।বাবা নূরুল রহমান খান  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং মা ফিকরিয়া বেগম সেন্টার ওমেন্স ইউনিভার্সিটির দশন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক।

বিতর্ক ও কুইজ এ পারদর্শী বাংলা মাধ্যমের এই ছাত্র উদায়ন স্কুল থেকে এস এস সি ও নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।তারপর বাবার ইচ্ছে রাখতেই ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএতে। কিন্তু আকাশ ছোয়ার ইচ্ছেতেই আবেদন করতে থাকেন বিদেশী নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে। এর মধ্যে সু্যোগ আসে বৃত্তিসহ যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে জোতিপদার্থবিজ্ঞানে পড়ার।সেই সু্যোগ কাজে লাগিয়ে আকাশ ছোঁয়ার ইচেছতে সেখানে পড়ালেখা শুরু করেন।

তারপর মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায় আবেদন করেন গবেষণার সু্যোগের জন্য। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গবেষণা সংস্থা নাসাও তাকে হতাশ করেনি সু্যোগ পান তিন বছরের গবেষণার জন্য। আর সেই গবেষণায় তিনি ধারণা পাল্টে দেন বিশ্ববাসীর। আবিষ্কার করেন প্রথম বারের ইটা কারিনার মতো আরাধ্য ৫ টি বিশাল নক্ষত্র। বতমানে তিনি নাসায় পোষ্ট ডকটোরাল ফেলো হিসাবে কাজ ও গবেষণা করছেন। তাছাড়া তিনি ২০১০ সালে তাঁর স্কুল বান্ধবী ফাইজা ফারিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসপি

উপরে